ফেসবুকে আইনজীবীদের গণহত্যা বিরোধী মানববন্ধনের একটি ছবি প্রচার করা হচ্ছে। দাবি করা হচ্ছে, এই আইনজীবীরা দেশজুড়ে 'আওয়ামী লীগের ওপর চলমান গণহত্যার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছেন।' তবে ফ্যাক্টওয়াচের অনুসন্ধানে জানা গেছে, ছবিটি ২০২৪ সালের জুলাইয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় তোলা। ‘আইনজীবী সমাজ’-এর ব্যানারে এই মানববন্ধনটি শিক্ষার্থীদের ওপর গুলি চালানোর প্রতিবাদে আয়োজন করা হয়েছিলো।
পোস্টে সংযুক্ত ছবিটির রিভার্স ইমেজ সার্চ করলে দৈনিক ‘প্রথম আলো’ – এর ২০২৪ সালের ২৯ জুলাই প্রকাশিত প্রতিবেদনে প্রায় একই রকমের একটি ছবি পাওয়া যায়। দুটি ছবিতেই একই লেখাযুক্ত “গণহত্যার বিচার চাই, গায়েবি মামলা-গ্রেপ্তার ও নির্যাতন বন্ধ কর।” ব্যানার এবং ব্যক্তিদের দেখা যায়। এই ব্যক্তিদের মধ্যে ছিলেন, আইনজীবী জেড আই পান্না, জ্যোতির্ময় বড়ুয়া, সারা হোসেনসহ আরও অনেকে।
প্রথম আলোর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ছবিটি ওই সময় আয়োজিত একটি মানবন্ধনের। সে \সময় দেশে চলমান বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নিহত শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষদের হত্যাকে আইনজীবীরা “ফৌজদারি অপরাধ” হিসেবে অভিহিত করেন।
একই দিনে প্রকাশিত ‘দি ফিনান্সিয়াল এক্সপ্রেস’- এর একটি প্রতিবেদনে একই ছবি সংযুক্ত করে লেখা হয়, জেড আই পান্না, জ্যোতির্ময় বড়ুয়া, সারা হোসেনসহ আরও বেশ কয়েকজন আইনজীবী ওই সময় একটি মানববন্ধনের আয়োজন করে। প্রতিবেদনে বলা হয়, মানববন্ধনে আইনজীবীরা একটি জাতীয় গণতদন্ত কমিশন গঠনের দাবি জানান, যাতে আন্দোলনে সংঘটিত প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের তদন্ত করে দায়ীদের বিচারের মুখোমুখি করা হয়।
একই ছবি ‘ঢাকা পোস্ট’ – এর একটি প্রতিবেদনেও প্রকাশিত হয়। সেখানে উল্লেখ রয়েছে যে, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীরা মনে করেন – কোটা সংস্কার আন্দোলনে গুলি চালিয়ে সরকার ফৌজদারি অপরাধ করেছে এবং এর বিচার হওয়া উচিত। ২৯ জুলাই, সোমবার, সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে ‘আইনজীবী সমাজ’-এর ব্যানারে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
এ থেকে নিশিত হওয়া যায়, ছবিগুলো সাম্প্রতিক নয়; এগুলো ২০২৪ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময়কার। এই কারণে ফ্যাক্টওয়াচ পোস্টগুলোকে “মিথ্যা” হিসেবে চিহ্নিত করছে।
সিবলী সাদিক সিফাত, শিক্ষার্থী, ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশ।
Claim: ফেসবুকে আইনজীবীদের গণহত্যা বিরোধী মানববন্ধনের একটি ছবি প্রচার করা হচ্ছে। দাবি করা হচ্ছে, এই আইনজীবীরা দেশজুড়ে 'আওয়ামী লীগের ওপর চলমান গণহত্যার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছেন।'
Claimed By: Facebook users
Rating: False
এই নিবন্ধটি ফেসবুকের ফ্যাক্ট-চেকিং প্রোগ্রামের
নীতি মেনে লেখা হয়েছে। এর উপর ভিত্তি করে ফেসবুক যে ধরণের বিধিনিষেধ আরোপ করতে পারে, সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন এখানে।
এছাড়া এই নিবন্ধ সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন, সম্পাদনা কিংবা আরোপিত বিধিনিষেধ তুলে নেয়ার জন্য আবেদন করতে এই লিঙ্কের সাহায্য নিন।
কোনো তথ্যের সত্যতা যাচাই করতে আমাদেরকে ইমেইল করুনঃ contact@fact-watch.org অথবা ফেইসবুকে মেসেজ দিনঃ facebook.com/fwatch.bangladesh