কলম প্যাকেজিং সেন্টারে চাকরির নামে আর্থিক প্রতারণা, ভুক্তভোগী প্রান্তিক নারীরা

160
কলম প্যাকেজিং সেন্টারে চাকরির নামে আর্থিক প্রতারণা, ভুক্তভোগী প্রান্তিক নারীরা
কলম প্যাকেজিং সেন্টারে চাকরির নামে আর্থিক প্রতারণা, ভুক্তভোগী প্রান্তিক নারীরা

ভুয়া কলম প্যাকেজিং সেন্টারে চাকরির প্রলোভনে পড়ে আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন প্রান্তিক নারীরা। সম্প্রতি ফ্যাক্টওয়াচের অনুসন্ধানে পাওয়া যায়, এ ধরণের প্রলোভন দেখিয়ে ফেসবুকে আর্থিক প্রতারণা করছে এক বা একাধিক চক্র। ৩০০ থেকে এক হাজার এমন কি লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে তারা। ফেসবুক ব্যবহারকারীরা তাদের বিভিন্ন পোস্টে কলম প্যাকেজিং চাকরির আড়ালে প্রতারণার এসব অভিযোগ সামনে আনেন। 

সংবাদ প্রতিবেদন ও অভিযোগের ভিত্তিতে ফ্যাক্টওয়াচ টিম ফেসবুকে সংশ্লিষ্ট কি-ওয়ার্ড সার্চে ৭৮৫ টি পেজ খুঁজে পায় এবং এসব পেজ  পর্যবেক্ষণ করে প্রতারণা, অপতথ্য ও ভুয়া বিজ্ঞাপনের সন্ধান পাওয়া যায়। বিস্তারিত পর্যালোচনার জন্য ১০টি পেজ বেছে নিয়ে এসব পেজের ধরণ নিয়ে অনুসন্ধান করা হয়। 

পেজগুলোর মধ্যে রয়েছে কলম প্যাকেজিং জব সেন্টার, যার ফলোয়ার সংখ্যা ৫০ হাজারের  বেশি। এছাড়া  কলম প্যাকেজিং জব , কলম প্যাকেজিং জব সেন্টার 24/7 , জননী কলম প্যাকেজিং জব সেন্টারকলম প্যাকেজিং জব, কলম প্যাকেজিং জব, প্রিমিয়াম জব সেন্টার//কলম প্যাকেজিং, কলম প্যাকেজিং জব সেন্টার, কলম প্যাকেজিং জব সেন্টার.007, নারী উন্নয়ন সংস্থান কলম প্যাকেজিং জব বাংলাদেশ, নামের পেজগুলোতে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার পর্যন্ত ফলোয়ার রয়েছে। ৭৮৫ টি পেজের অধিকাংশ পেজের নাম ‘কলম প্যাকেজিং জব’। এই পেজগুলোর কনটেন্ট বিশ্লেষণে পাওয়া যায়, পেজগুলো থেকে প্রতিনিয়ত অপতথ্যমূলক ভিডিও পোস্ট করা হয়। 

১০ টি পেজকে ফেসবুক ট্রান্সপারেন্সি টুল দিয়ে পর্যবেক্ষণ করে পাওয়া যায়, ‘কলম প্যাকেজিং জব’ নাম দিয়ে নতুন পেজ তৈরি করে বা নাম পরিবর্তন করে গত ৬ মাস ধরে অনলাইনে সয়লাব হয়েছে চক্রটি। ‘স্বপ্ন সিঁড়ি যুব সংগঠন’ নামের পেজ ২০২৫ সালের ২০ জুলাইয়ে নাম পরিবর্তন করে হয়, ‘কলম প্যাকেজিং জব সেন্টার’। একই ভাবে ‘Electronics.com’ আগস্টের ১৩ তারিখে পরিবর্তিত হয়ে যায়, কলম প্যাকেজিং জব। একইভাবে ‘ঘরে বসে জব করুন’ এবং ‘নকশি কাঁথা ডিজাইন জব সেন্টার’ নাম পরিবর্তন করে যথাক্রমে সেপ্টেম্বর ও নভেম্বর মাসে। 

একই সময়কালে অধিকাংশ পেজ তৈরি হয়, যাদের নাম ‘কলম প্যাকেজিং জব’ এবং তারা বাংলাদেশ থেকে পরিচালিত হচ্ছে বলে উল্লেখ রয়েছে। মেটার অ্যাড লাইব্রেরিতে কলম প্যাকেজিংয়ের জবের বিজ্ঞাপনের জন্য প্রায় ৫০ টি বিজ্ঞাপনদাতা পেজ রয়েছে। নারী উন্নয়ন সংস্থা, online Job, এবং বিভিন্ন বলপেন কোম্পানির বিজ্ঞাপনদাতা হিসাবে তারা কাজ করছে এবং বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে প্রতারণা চক্রটিকে ফেসবুক, ইন্সটাগ্রাম ও মেসেঞ্জারে ছড়িয়ে দিচ্ছে। গত বছর শুরু থেকে চলতি জানুয়ারি মাস পর্যন্ত চারশোর অধিক সক্রিয় বিজ্ঞাপন খুঁজে পাওয়া যায় মেটার অ্যাড লাইব্রেরিতে।

পেজগুলোর পোস্ট পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায়, চাকরির বিজ্ঞাপন, বিশেষ করে কলম মোড়কে ভরার কাজে আগ্রহীদের যোগাযোগ করার আহবান করা হচ্ছে। যোগাযোগের জন্য পোস্টগুলোর সঙ্গে যুক্ত থাকে হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর। এ ধরনের ফেসবুক পোস্টগুলোতে বাসাবাড়িতে কলম প্যাকেজিংয়ের কাজ করছেন অনেক নারী – এমন ছবি ও ভিডিও পাওয়া যায়। ভিডিও বার্তা, ডেলিভারি ও টাকা পাওয়ার স্ক্রিনশট ও ছবি পাওয়া যায়। প্রতিমাসে ২০ থেকে ২২ হাজার টাকার বেতন দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। ফেসবুকে প্রচারিত ভিডিওগুলো দেখে কাজ করতে আগ্রহীরা (বিশেষ করে নারীরা) তাদের সাথে কমেন্টে এবং মেসেঞ্জারে যোগাযোগ  করেন। এ ছাড়া ক্যাপশনে বা ভিডিওতে থাকা হোয়াটসঅ্যাপ নাম্বারেও যোগাযোগ করেন কেউ কেউ। 

২০২৫ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত দৈনিক জনকণ্ঠের একটি প্রতিবেদন ‘অনলাইন প্রতারণার নতুন কৌশল—কলম প্যাকেজিং জব’ শিরোনামে বলা হয়, প্রতারণাকারীরা মেয়েদের জন্য “ইন-হোম জব” প্রতিশ্রুতি দেখিয়ে প্রথমেই অল্প টাকা তুলে নেয়। পরে ‘প্যাকেজিং সরঞ্জাম/বান্ডেল’ ও ‘প্রসেসিং ফি’ নাম করে ধীরে ধীরে আরও দাবি বাড়ে। 

পেজ ও বিজ্ঞাপনদাতা ভিন্ন হলেও ভিডিওগুলোতে রয়েছে সাদৃশ্য। ভুক্তভোগীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, কর্মসংস্থানের আশায় অনেকে যোগাযোগ করেন চক্রটির সঙ্গে। কলমের প্যাকেটের কাজ শুরু করতে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে বলে তাদের জানানো হয়। এই রেজিস্ট্রেশন ফি ৩৫০ টাকা । কলম বাসায় পৌঁছে দেওয়ার  ফি ১০০০ থেকে ১৫০০ টাকা। যারা এই রেজিস্ট্রেশন করেন, তাদের থেকে পরবর্তীতে আরও টাকা দাবি করা হয়। কেউ টাকা দিতে অস্বীকার করলে তাদেরকে কিছু সংখ্যক টাকার ‘সহায়তা’ করার মতো প্রতারণা করা হয়। ২০,০০০ টাকা দাবি করে ১০,০০০ টাকা অনেক সময় নিজ উদ্যোগে প্রতারক চক্র তাদের পাঠিয়ে দেয়। ফলে ভুক্তভোগীরা তাদের বিশ্বাস করতে শুরু করে। পরবর্তীতে এই বিশ্বাসকে ব্যবহার করে দফায় দফায় টাকা নেওয়া হয়। বিশ্বাস করাতে ভুয়া এনআইডি ও ফেক ট্রেড লাইসেন্সের ছবি দেখানো হয়। টাকা ফেরত চাইলে ব্লক করে দেওয়া হয়। সাধারণত এসব টাকা আদান-প্রদান  মোবাইল ব্যাংকিং সেবা নগদ বা বিকাশের মাধ্যমে হয়ে থাকে।

প্রাসঙ্গিক কি-ওয়ার্ড সার্চের মাধ্যমে পেজগুলোতে একই ধরনের পোস্ট, টেক্সট, ছবি ও  ভিডিও পাওয়া যায়। পেজগুলো থেকে গত ৬ মাসে শতাধিক ভিডিও প্রকাশিত হয়, যার কিছু সংখ্যক ভিডিও ১ মিলিয়ন বা তার বেশি বার দেখা হয়েছে। ফ্যাক্টওয়াচ টিমের অনুসন্ধানে এসব  ভিডিও ও ছবি ভুয়া প্রমাণিত  হয়।

নমুনা-১ঃ ভারতের অগ্নি পেন ফ্যাক্টরি 

নারীরা প্যাকেজিংয়ের কাজ করছে, এমন কিছু ভিডিও শেয়ার করে সংঘবদ্ধ প্রচারণা চালায় চক্রটি। দাবি করা হয়, ভিডিওগুলোতে তাদের মাধ্যমে কাজে নিযুক্ত নারীরা কলম প্যকেজিংয়ের কাজ করছেন। এমন কিছু ভিডিও দেখুন এখানে, এখানে, এখানে, এখানে, এবং এখানে। 

দাবিকৃত ভিডিওগুলোতে দেখা যায়, কিছু নারী একত্রে কলম প্যাকেজিংয়ের কাজ করছেন। তাদের পরনে শাড়ি, শাঁখা ও সিঁদুর দেখা যায়।  ভিডিওগুলো পর্যবেক্ষণ করে ‘AGNI Pen’ লেখা একটি লোগো দেখা যায়। এই সূত্র ধরে ইউটিউবে সার্চ করলে ‘AGNI PEN’ নামের একটি ভারতীয় ইউটিউব চ্যানেল পাওয়া যায়। চ্যানেলেও একই ধরনের ভিডিও দেখতে পাওয়া যায়। ভিডিওগুলোর সাথে দাবিকৃত ভিডিওগুলোতে থাকা নারীদের চেহারা, পোশাক, হাতের চুড়ি ও পরিবেশের সঙ্গে মিল পাওয়া যায়।

এ ছাড়া AGNI Pen-এর পক্ষ থেকে একটি ছোট ভিডিও বার্তায় এমন প্রতারণা থেকে বিরত থাকার জন্য আহ্বান জানানো হয়। সামাজিক মাধ্যমে বিজ্ঞাপন ও চাকরির জন্য টাকা প্রদান করতে নিষেধ করা হয়। বাসায় বসে এমন কাজের কোন বার্তা তারা প্রচার করেনি বলে ভিডিওতে উল্লেখ করা হয়। 

বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা করলে পাওয়া যায়, ভারতেও একই ভাবে AGNI PEN এর ভিডিও ব্যবহার করে একটি প্রতারণা চক্র কাজ করে। AGNI 4G Ballpen House, কলম প্যাকেজিং জব কলকাতা ০.২, AGNI 4G Ballpen House নামের পেজ থেকে ভারতে এই প্রতারণা ও বিজ্ঞাপন চক্র কাজ করছে। 

নমুনা-২ঃ  এআই 

অগ্নি পেন ফ্যাক্টরির ভিডিওর সাথে যুক্ত করা হয়েছে এআই দিয়ে তৈরি বিভিন্ন ভিডিও ক্লিপ। এমন কিছু ভিডিও দেখুন এখানে, এখানে, এখানে। ভিডিওগুলোতে দেখা যায়, একজন বক্তা দর্শকদেরকে কলম প্যাকেজিংয়ের কাজ সম্পর্কে জানাচ্ছেন। তাদের সহজে কাজ করে টাকা রোজগারের জন্য যোগাযোগ করতে উদ্বুদ্ধ করছেন। ভিডিওগুলোতে ব্যবহার করা হচ্ছে, অগ্নি পেন ও অন্যান্য ভুয়া দৃশ্য। 

পেজগুলোর অধিকাংশ পোস্টে ডেলিভারিকর্মী কলমের প্যাকেট ডেলিভারি করছেন-এ ধরণের কিছু ছবি দেখা যায়। এমন কিছু পোস্ট দেখুন এখানে, এখানে, এখানে। ছবিগুলোতে বেশ কিছু অসঙ্গতি পাওয়া যায়। এআই শনাক্তকারী টুল হাইভ মডারেশন দিয়ে যাচাই করে এগুলো এআইয়ের মাধ্যমে তৈরি বলে জানা যায়। “পাঠাও কুরিয়ার” সার্ভিসের ভুয়া লোগো এবং ছবিগুলোর ডানপাশে নিচের দিকে এআই জলছাপ খুঁজে পাওয়া যায়।  এআই শনাক্তকারী টুল হাইভ মডারেশন দিয়ে যাচাই করে এগুলো এআইয়ের মাধ্যমে তৈরি বলে জানা যায়। 

নমুনা- ৩ঃ   কাগজের বলপেন উদ্ভাবক নাসিমার ছবি ব্যবহার

একাধিক পোস্টে দেখা যায়, একজন কালো পোশাকের ব্যক্তি একজন কর্মরত নারীর সাথে কথা বলছেন। ভিডিওটিতে অডিও বার্তা ও ক্যাপশনে বলা হচ্ছে, কলম প্যাকেজিংয়ের ডেলিভারিম্যান গ্রাহকের কাছে কলম তুলে দিচ্ছে এবং কি করতে হবে তা বুঝিয়ে দিচ্ছে। এমন কিছু পোস্ট দেখুন এখানে, এখানে, এখানে। 

ভিডিওটি থেকে  বিভিন্ন কি-ফ্রেম নিয়ে রিভার্স ইমেজ সার্চ করে বাবু ভাই নামের একজন কন্টেন্ট ক্রিয়েটরের ভিডিও পাওয়া যায়। ২০২৪ সালে ২৫ ফেব্রুয়ারি তিনি তার পেজে “কাগজের তৈরি কলম। যশোরের সেই কাগজের তৈরি কলম এখন যাচ্ছে বিদেশে। নারী উদ্যোক্তা নাসিমা আক্তার” এই ক্যাপশনে একটি ভিডিও পোস্ট করেন। ভিডিওতে নাসিমা আক্তার পরিবেশবান্ধব কাগজের বলপেনের কথা বলেন। ভিডিওতে কাগজের কলম কিভাবে তৈরি হয় এ সম্পর্কে বিস্তারিত দেখানো হয়। 

ভিডিওটির সাথে দাবিকৃত ভিডিওর মিল খুঁজে পাওয়া যায়। মানুষের চেহারা, পোশাক ও আসবাবপত্রে মিল রয়েছে। এ ছাড়া নাসিমা আক্তারের ছবি ও তার কাগজের কলমের বিভিন্ন ছবিও ভুয়া দাবিতে প্রচার করা হয়। 

নমুনা ৪ঃ  ভুয়া ছবি ও  ভিডিও  

একাধিক ভিডিওতে দেখা যায়, একজন ব্যক্তি ভর্তি ফরম পূরণ করছেন। এমন কিছু ভিডিও দেখুন এখানে, এখানে এবং এখানে। ভিডিওতে বলা হয়, ফরম পূরণ করলে চাকরি দেওয়া হবে। নাম ও ছবি দিতে হবে বলেও উল্লেখ করা হয়। তবে ভিডিওতে থাকা ফরমটিতে  বানান ভুল ও অসঙ্গতি দেখা যায়। ‘মেটাড্রো বল পিং কোম্পানি’ নামের কোন কোম্পানি খুঁজে পাওয়া যায় না। 

বরং এটি একটি চক্রের ভুয়া চাকরির বিজ্ঞপ্তি। চক্রটি ফেসবুক, টিকটক, ও ইউটিউবে প্রচারণার মাধ্যমে প্রান্তিক নারীদের টার্গেট করে বিজ্ঞাপন প্রচার করে। এরপর ভিকটিমদের সঙ্গে হোয়াটস অ্যাপের মাধ্যমে যোগাযোগ করা হয়। আর্থিক লেনদেনের সময় বিকাশ, নগদের মতো মোবাইল ব্যাংকিং ব্যবহার করা হয়। টাকার পরিমাণ বেশি হলে মোবাইল ব্যাংকিং প্রতিনিধিদের মাধ্যমে টাকা সংগ্রহ করা হয় বলে অনুসন্ধানে উঠে আসে।

 ফেসবুক ব্যবহারকারীরা তাদের বিভিন্ন পোস্টে পেন চাকরির প্যাকেজিং আড়ালে প্রতারণার অভিযোগ করেন। এই নিয়ে ATN News-এর ইউটিউব চ্যানেলে একটি ভিডিও প্রতিবেদন পাওয়া যায়। ২০২৫ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত ”অনলাইন প্রতারণার নতুন কৌশল- ‘কলম প্যাকেজিং জব”’ শিরোনামের এই প্রতিবেদনে বলা হয়, সম্প্রতি অভিনব পদ্ধতিতে প্রতারণা করছে কলম প্যকেজিং জব নামের ফেসবুক প্রতারণা চক্র। সহজেই কাজ করার মাধ্যমে টাকা উপার্জনের লোভ দেখিয়ে মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে একটি চক্র। দারিদ্র ও প্রান্তিক নারীদের টার্গেট করে প্রতারণা চলছে বলে প্রতিবেদনটিতে উল্লেখ করা হয়। 

অভিযোগকারীরা দাবি করেন, কলম প্যাকেজিংয়ের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে পেজ গুলো ৩০০ থেকে এক হাজার এমন কি লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে প্রতারক চক্রটি। এমন কিছু অভিযোগ দেখুন এখানে, এখানে, এবং এখানে।

Bris Ty নামের এক ফেসবুক ব্যবহারকারী ১৭ জানুয়ারি শনিবার এই পোস্টের মাধ্যমে শেয়ার করে বলেন, তিনি অনলাইনে কলম প্যাকেজিং জব দেখে যোগাযোগ করেন। প্রথমে বিশ্বাস না করায় তাকে ছবি ও ডকুমেন্ট পাঠিয়ে আশ্বস্ত করে চক্রটি। এরপর রেজিস্ট্রেশনের নামে ৩৫০ টাকা নেয়। টাকা দেওয়ার পর একের পর এক অজুহাত শুরু হয়, মাল পাঠাতে হবে বলে ডেলিভারি চার্জ, বিকাশ খরচ, টাকা নাকি সার্ভারে ঢোকেনি, সার্ভার লক হয়ে গেছে, এসব বলে বারবার নতুন করে টাকা পাঠাতে বাধ্য করেন। এভাবে প্রায় ৬ হাজার টাকা নিয়ে শেষে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। 

তিনি আরও বলেন, ‘এক পর্যায়ে বুঝতে পারি, এটি পুরোপুরি প্রতারণা। তাই কেউ যেন এসব অনলাইন কলম প্যাকেজিং জবে না জড়ায় এবং সবাই সতর্ক থাকে।’

নাসরিন আক্তার নামের এক ভুক্তভোগী ফ্যাক্টওয়াচকে জানান, এ বছরের ১৪ জানুয়ারি থেকে ১৯ জানুয়ারির মধ্যে ‘কলম প্যাকেজিং জব সেন্টার’ নামের একটি প্রতারণা চক্রের পেজ থেকে ধাপে ধাপে তার কাছে থেকে এক লক্ষ ১৮ হাজার টাকা নিয়ে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। 

নারী উদ্যোক্তা নীলাঞ্জনা চম্পা ইউটিউবে একটি ভিডিও বার্তায় বলেন, চাকরির লোভ দেখিয়ে প্রতিনিয়ত নারীদের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে চক্রটি। আর্থিক ক্ষতি ও সংসারে অশান্তির ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন নারীরা।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, সংবাদ প্রতিবেদন এবং পোস্টগুলো যাচাই করে এই সিদ্ধান্তে আসা যায়, ফেসবুকে কলম প্যাকেজিং জবের আড়ালে আর্থিক প্রতারণা করছে সংঘবদ্ধ এক বা একাধিক চক্র।

প্রতিবেদনটি লিখেছেন শিবলী সাদিক সিফাত

No Factcheck schema data available.