আগুন নেভানো কর্মকাণ্ডের একটি ভিডিও শেয়ার করে দাবি করা হচ্ছে, পাবনা সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজে আগুন লেগেছে। ফ্যাক্টওয়াচের অনুসন্ধানে দেখা যাচ্ছে, ভিডিওটি পাবনা টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গণে ভূমিকম্প ও অগ্নিকাণ্ড বিষয়ক মহড়ার।
ভিডিওটির বিভিন্ন কি-ফ্রেমের সাহায্যে রিভার্স ইমেজ সার্চে ‘দৈনিক পাবনার আলো’র একটি ভিডিও প্রতিবেদন পাওয়া যায়। প্রতিবেদনটি থেকে জানা যায়, আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস উপলক্ষে পাবনায় অগ্নিকাণ্ড ও ভূমিকম্প বিষয়ক মহড়া অনুষ্ঠিত হয়। মহড়াটি হয় পাবনা টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গণে। প্রতিবেদনের একটি অংশে মহড়া অনুষ্ঠানের ব্যানারে তারিখ লেখা রয়েছে, ১৩ অক্টোবর। এই প্রতিবেদনের সঙ্গে যুক্ত ভিডিওটির একটি অংশ বিভ্রান্তিকর ক্যাপশনে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ছে।
পরবর্তী অনুসন্ধানে প্রাসঙ্গিক কি-ওয়ার্ড অনুসন্ধানে ‘এনটিভি’র একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। ১৪ অক্টোবর প্রকাশিত এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘সমন্বিত উদ্যোগ, প্রতিরোধ করি দুর্যোগ’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস-২০২৫ উপলক্ষে সোমবার (১৩ অক্টোবর) পাবনা টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গণে ভূমিকম্প ও অগ্নিকাণ্ড বিষয়ক মহড়া এবং আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রতিবেদনটি থেকে আর জানা যায়, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় এই কর্মসূচি আয়োজিত হয়।
আরও অনুসন্ধানে জানা যায়, ১৩ অক্টোবর শুধু পাবনায় নয়, দেশের বিভিন্ন স্থানে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস উপলক্ষে আগুন ও ভূমিকম্প বিষয়ক মহড়া অনুষ্ঠিত হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত শনিবার (১৮ অক্টোবর) দুপুর ২টা ১৫ মিনিটের দিকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজ এলাকায় আকস্মিক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। তারপর থেকে অনলাইনে বিভিন্ন আগুন-লাগা সংক্রান্ত গুজব ছড়িয়ে পড়তে দেখা যায়। এ ধরণের দুটি ফ্যাক্টচেক প্রতিবেদন দেখুন এখানে এবং এখানে।
কাজেই, পাবনা টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজে আগুন লাগেনি, সেখানে শিক্ষার্থীদের সচেতনার জন্য মহড়া অনুষ্ঠিত হয়েছে। ফলে সঙ্গত কারণে, আগুন লাগার দাবিতে ছড়ানো ফেসবুক পোস্টগুলোকে ‘বিভ্রান্তিকর’ সাব্যস্ত করছে ফ্যাক্টওয়াচ।
Claim: আগুন নেভানো কর্মকাণ্ডের একটি ভিডিও শেয়ার করে দাবি করা হচ্ছে, পাবনা সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজে আগুন লেগেছে।
Claimed By: Facebook Users
Rating: False
এই নিবন্ধটি ফেসবুকের ফ্যাক্ট-চেকিং প্রোগ্রামের
নীতি মেনে লেখা হয়েছে। এর উপর ভিত্তি করে ফেসবুক যে ধরণের বিধিনিষেধ আরোপ করতে পারে, সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন এখানে।
এছাড়া এই নিবন্ধ সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন, সম্পাদনা কিংবা আরোপিত বিধিনিষেধ তুলে নেয়ার জন্য আবেদন করতে এই লিঙ্কের সাহায্য নিন।
কোনো তথ্যের সত্যতা যাচাই করতে আমাদেরকে ইমেইল করুনঃ contact@fact-watch.org অথবা ফেইসবুকে মেসেজ দিনঃ facebook.com/fwatch.bangladesh