সম্প্রতি ফেসবুকে ভারতে হিন্দুরা পবিত্র কোরআন পুড়িয়ে দিচ্ছে দাবিতে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ছে। তবে ফ্যাক্টওয়াচের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, এই দাবিটি ভুয়া। মূলত হিমাচল প্রদেশের মাণ্ডি (Mandi) শহরে মুখ্যমন্ত্রীর কুশপুত্তুলিকা পোড়ানোর ভিডিও এটি।
ভাইরাল হওয়া ভিডিওটির প্রকৃত উৎস এবং প্রেক্ষাপট জানার জন্য এর বিভিন্ন কি-ফ্রেম ব্যবহার করে রিভার্স ইমেজ সার্চ করা হয়। এর ফলে HimBhoomi Dialogues নামের একটি ফেসবুক প্রোফাইলে ভাইরাল ভিডিওটির অনুরূপ মূল ভিডিও খুঁজে পাওয়া যায়। ওই ভিডিওর বিবরণ থেকে স্পষ্ট জানা যায় যে, হিমাচল প্রদেশের মাণ্ডিতে ভারতীয় জনতা যুব মোর্চা (BJYM) একটি বিক্ষোভ কর্মসূচি আয়োজন করে এবং সেখানকার মুখ্যমন্ত্রী সুখবিন্দর সিং সুখুর (Sukhwinder Singh Sukhu) কুশপুতুলে আগুন দেয়।
এ ব্যাপারে ভারতীয় বিভিন্ন গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, এই প্রতিবাদ কর্মসূচির মূল কারণ ছিল রাজ্যে ক্রমবর্ধমান বেকারত্ব এবং ক্ষমতাসীন কংগ্রেস সরকারের প্রতিশ্রুত ‘১ লাখ সরকারি চাকরি’ ও ‘কর্মসংস্থান গ্যারান্টি’ পূরণ না হওয়া। বিক্ষোভ চলাকালে যখন BJYM কর্মীরা মুখ্যমন্ত্রীর কুশপুতুলে আগুন ধরান, তখন উপস্থিত পুলিশ সদস্যরা তাতে পানি ঢেলে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। আন্দোলনকারীরা পুনরায় তাতে তেল ঢেলে আবার আগুন ধরিয়ে দেন। এ নিয়ে পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে বেশ উত্তপ্ত পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়।
অর্থাৎ, ভিডিওটিতে কোনো পবিত্র ধর্মগ্রন্থ অবমাননার ঘটনা ঘটেনি। ভিডিওটিকে ফেসবুকে ভিন্ন ক্যাপশনে সাম্প্রদায়িক রূপ দিয়ে প্রচার করা হয়েছে। তাই সবকিছু বিবেচনা করে ভাইরাল হওয়া ভিডিওটির সাথে সংশ্লিষ্ট দাবিকে ফ্যাক্টওয়াচ মিথ্যা হিসেবে সাব্যস্ত করেছে।
Claim: ভারতে হিন্দুরা পবিত্র কোরআন পুড়িয়ে দিচ্ছে
Claimed By: Facebook users
Rating: False
এই নিবন্ধটি ফেসবুকের ফ্যাক্ট-চেকিং প্রোগ্রামের
নীতি মেনে লেখা হয়েছে। এর উপর ভিত্তি করে ফেসবুক যে ধরণের বিধিনিষেধ আরোপ করতে পারে, সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন এখানে।
এছাড়া এই নিবন্ধ সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন, সম্পাদনা কিংবা আরোপিত বিধিনিষেধ তুলে নেয়ার জন্য আবেদন করতে এই লিঙ্কের সাহায্য নিন।
কোনো তথ্যের সত্যতা যাচাই করতে আমাদেরকে ইমেইল করুনঃ contact@fact-watch.org অথবা ফেইসবুকে মেসেজ দিনঃ facebook.com/fwatch.bangladesh