গত ২২ সেপ্টেম্বর কুষ্টিয়ার সদর উপজেলার হরিনারায়ণপুরের একটি মহাশ্মশানে গরু রান্না করে পিকনিক করার অভিযোগ ওঠে একদল যুবকের বিরুদ্ধে। পরে স্থানীয় হিন্দু নেতারা পুলিশের মধ্যস্থতায় ঐ যুবকদের অভিভাবকের সঙ্গে সালিশে বসেন। অভিযুক্ত যুবকেরা ক্ষমা চাইলে বিষয়টির মীমাংসা হয়। এর প্রায় এক সপ্তাহ পরে ফেসবুকে বেশ কিছু পোস্ট ছড়িয়ে পড়ে যেখানে বলা হয় পিকনিকে অংশ নেওয়া যুবকদের চারজন মারা গেছেন। ফ্যাক্টওয়াচের অনুসন্ধানে দেখা যায়, পিকনিকে অংশ নেওয়া যুবকদের কেউ (৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত) মারা যান নি।
ফেসবুকে ছড়ানো পোস্টগুলো পর্যালোচনা করে প্রাসঙ্গিক কি-ওয়ার্ড সার্চে ‘বাংলা অ্যাফেয়ার্স’ নামের একটি পত্রিকার প্রতিবেদন পাওয়া যায়। এই প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ‘অনিক হোসেন’ নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে শ্মশানে পিকনিকের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে কয়েকজন যুবককে শ্মশান এলাকায় বসে মাংস রান্না ও খেতে দেখা যায়। স্থানীয়দের দাবি, সেখানে গরুর মাংস রান্না করা হয়েছিল। এ ছাড়া সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবিতে কয়েকজনকে শ্মশানের চিতার ওপর এবং একটি সমাধির ওপর জুতা পায়ে দাঁড়িয়ে ছবি তুলতে দেখা গেছে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেন।
এই প্রতিবেদনের সূত্র ধরে ফেসবুকে অনিক হোসেনের আইডি পাওয়া যায়। এই আইডিতে গত ২৭ সেপ্টেম্বরের একটি পোস্টে তিনি লিখেছেন, “আমি আন্তরিকভাবে দুঃখিত ও ক্ষমাপ্রার্থী। গত ২২ সেপ্টেম্বর হরিনারায়ণপুর মহাশ্মশানে আমার/আমাদের দ্বারা যে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে, তা সম্পূর্ণ ভুল ছিল। ধর্মীয় স্থানের পবিত্রতা সম্পর্কে না বুঝে এমন কাজ করেছি। আমি মহাশ্মশান কমিটি এবং এলাকার সকলের কাছে ক্ষমা চাচ্ছি। প্রশাসনের সিদ্ধান্ত মেনে নিয়ে ভবিষ্যতে এ ধরনের কোনো কাজে জড়িত থাকবো না বলে মুচলেকা দিচ্ছি। সবাইকে শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখার অনুরোধ করছি।”
ফ্যাক্টওয়াচের পক্ষ থেকে ম্যাসেঞ্জারে অনিকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তিনি জানান, বন্ধুদের সঙ্গে তিনি ঐ পিকনিকে ছিলেন। ঐ পিকনিকের যে ভিডিও তিনি ফেসবুকে শেয়ার করেছিলেন, সেটি ডিলিট করেছেন। তিনি আরও জানান ঐ পিকনিকের খাবার খেয়ে তার বন্ধুরা কেউ মারা যাননি।
অনিক হোসেনের পোস্টে ১৯ জনকে ট্যাগ করা হয়। এই ট্যাগের সূত্র ধরে আরও একজনের সঙ্গে ফ্যাক্টওয়াচের পক্ষ থেকে ম্যাসেঞ্জারে যোগাযোগ করা হলে, তিনিও জানান ঐ পিকনিকের কারও মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি।
অনিকের আইডি থেকে একটি ভিডিও পাওয়া যায়। এই ভিডিওতে হরিনারায়ণপুর মহাশ্মশানের সভাপতি সুভাষ কর্মকারের বক্তব্য পাওয়া যায়। তিনি জানান, এই ঘটনা নিয়ে ফেসবুক পোস্টের পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে এলাকার শান্তির জন্য স্থানীয় প্রশাসনের উপস্থিতিতে বিএনপি নেতা ও হিন্দু নেতাদের সঙ্গে অভিযুক্ত যুবকদের অভিভাবকদের বৈঠক হয়। সেখানে অভিযুক্ত যুবকেরা ক্ষমা চেয়ে মুচলেকা দিলে বিষয়টির মীমাংসা হয়।
কাজেই মহাশ্মশানে পিকনিকে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের কেউ মারা যাননি। ফলে এ ধরনের ফেসবুক পোস্টগুলোকে মিথ্যা হিসেবে চিহ্নিত করছে ফ্যাক্টওয়াচ।
Claim: কুষ্টিয়ার মহাশ্মশানে পিকনিকের পর ৪ জনের মৃত্যু
Claimed By: Facebook Users
Rating: False
এই নিবন্ধটি ফেসবুকের ফ্যাক্ট-চেকিং প্রোগ্রামের
নীতি মেনে লেখা হয়েছে। এর উপর ভিত্তি করে ফেসবুক যে ধরণের বিধিনিষেধ আরোপ করতে পারে, সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন এখানে।
এছাড়া এই নিবন্ধ সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন, সম্পাদনা কিংবা আরোপিত বিধিনিষেধ তুলে নেয়ার জন্য আবেদন করতে এই লিঙ্কের সাহায্য নিন।
কোনো তথ্যের সত্যতা যাচাই করতে আমাদেরকে ইমেইল করুনঃ contact@fact-watch.org অথবা ফেইসবুকে মেসেজ দিনঃ facebook.com/fwatch.bangladesh