আমার দেশ পত্রিকার প্রথম পাতা-সদৃশ একটি ছবি সম্প্রতি ফেসবুকে শেয়ার করা হচ্ছে। ছবিটিতে একটি প্রতিবেদন দেখা যাচ্ছে যেটির শিরোনাম- ‘মালিকানা ছাড়া জামায়াতের দখলে ইসলামী ব্যাংক’। একই ক্যাপশন ফেসবুক পোস্টগুলোতেও ব্যবহার করা হয়েছে। ফ্যাক্টওয়াচের অনুসন্ধানে দেখা যাচ্ছে, আমার দেশ পত্রিকা এই শিরোনামে কোনো প্রতিবেদন প্রকাশ করেনি। ছবিটিতে মূল পত্রিকার প্রতিবেদনের শিরোনাম এডিট করা হয়েছে। মূল প্রতিবেদনের শিরোনাম- “ইসলামী ব্যাংক দখলে এস আলমের শোডাউন।”
আলোচিত ছবি যুক্ত ফেসবুক পোস্টগুলোর কমেন্ট সেকশন পর্যালোচনা করতে গিয়ে একটি নিউজ-সদৃশ ছবি পাওয়া যায়। পত্রিকার নাম ছাড়া এই পেপার-কাটিংয়ে একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়, যেটির শিরোনাম- ইসলামী ব্যাংক দখলে এস আলমের শোডাউন।
এই সূত্র ধরে প্রাসঙ্গিক কি-ওয়ার্ড সার্চে আমার দেশ পত্রিকার ২০ এপ্রিলের ই- সংস্করণ পাওয়া যায়। এখানে ‘ইসলামী ব্যাংক দখলে এস আলমের শোডাউন’ এই শিরোনামের প্রতিবেদনটি রয়েছে। আলোচিত ছবিটির সঙ্গে এই প্রতিবেদন মিলিয়ে দেখা যায়, ইসলামি ব্যাংক নিয়ে প্রকাশিত মূল প্রতিবেদনের শিরোনাম এবং শিরোনামের নিচের তিনটি বুলেট পয়েন্ট ছাড়া বাকি সবকিছু এক একই রয়েছে। অর্থাৎ প্রথম পাতার আলোচিত প্রতিবেদনটি ছাড়া একটি যানজটের ছবি এবং অন্য দুটি প্রতিবেদনের অংশ বিশেষ দেখা যায়, সেগুলো বদলানো হয়নি। প্রতিবেদনের ভেতরের অংশ ব্লার করা হয়েছে। তারিখের অংশটি ছবিতে নেওয়া হয়নি। এছাড়া, মূল প্রতিবেদনের ফন্টের সঙ্গে এডিটেড অংশের ফন্টের অমিল পাওয়া যায়।
পরবর্তীতে প্রাসঙ্গিক কি-ওয়ার্ড সার্চে ‘এস আলমের শোডাউন’ নিয়ে দেশের অন্যান্য সংবাদমাধ্যমে বেশ কয়েকটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। প্রতিবেদনগুলো এখানে, এখানে, এখানে।
এই প্রতিবেদনগুলো থেকে জানা যায়, গত ১৯ এপ্রিল মতিঝিলে ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে চাকরিচ্যুত কর্মকর্তাদের মানববন্ধনের পর একই স্থানে পাল্টা কর্মসূচি পালন করে ইসলামী ব্যাংক গ্রাহক সমন্বয় পরিষদ।
অন্যদিকে, ‘মালিকানা ছাড়া জামায়াতের দখলে ইসলামী ব্যাংক’ এই শিরোনামে আমার দেশ অথবা অন্য সংবাদমাধ্যমে কোনো প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়নি।
কাজেই সঙ্গত কারণে, আলোচিত ছবিটিকে বিকৃত হিসেবে চিহ্নিত করছে ফ্যাক্টওয়াচ।
Claim: আমার দেশ পত্রিকার প্রথম পাতা-সদৃশ একটি ছবি সম্প্রতি ফেসবুকে শেয়ার করা হচ্ছে। ছবিটিতে একটি প্রতিবেদন দেখা যাচ্ছে যেটির শিরোনাম- ‘মালিকানা ছাড়া জামায়াতের দখলে ইসলামী ব্যাংক’।
Claimed By: Facebook Users
Rating: False
এই নিবন্ধটি ফেসবুকের ফ্যাক্ট-চেকিং প্রোগ্রামের
নীতি মেনে লেখা হয়েছে। এর উপর ভিত্তি করে ফেসবুক যে ধরণের বিধিনিষেধ আরোপ করতে পারে, সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন এখানে।
এছাড়া এই নিবন্ধ সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন, সম্পাদনা কিংবা আরোপিত বিধিনিষেধ তুলে নেয়ার জন্য আবেদন করতে এই লিঙ্কের সাহায্য নিন।
কোনো তথ্যের সত্যতা যাচাই করতে আমাদেরকে ইমেইল করুনঃ contact@fact-watch.org অথবা ফেইসবুকে মেসেজ দিনঃ facebook.com/fwatch.bangladesh