লাল পাঞ্জাবি ও সাদা পায়জামা পরা কয়েকজন ব্যক্তিকে সেনাবাহিনীর সদস্যরা লাঠিপেটা করছেন, এ ধরণের একটি অস্পষ্ট ভিডিও সম্প্রতি ফেসবুকে শেয়ার করা হচ্ছে। ভিডিওটির ক্যাপশনে বলা হচ্ছে, গত ৩ জানুয়ারি হবিগঞ্জ থানায়, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের হবিগঞ্জের সদস্য সচিব মাহদী হাসানকে গ্রেফতারের পর তাকে ছাড়িয়ে নিতে থানার সামনে জড়ো হওয়া ব্যক্তিদের ওপর লাঠিচার্জ করেছে সেনাবাহিনী। ফ্যাক্টওয়াচের অনুসন্ধানে দেখা যাচ্ছে, ভিডিওটি গত বছরের ১২ জুন থেকে অনলাইনে রয়েছে। এছাড়া, হবিগঞ্জের ঘটনায় সেনাবাহিনীর লাঠিচার্জের কোনো তথ্য মূলধারার গণমাধ্যমে পাওয়া যায় না।
গত ১ জানুয়ারি হবিগঞ্জে ছাত্রলীগ নেতা এনামুল হাসান ওরফে নয়নকে আটকের পর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাদের চাপে পুলিশ তাকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়। এ সময়ে থানা ঘেরাও করে রাখা ছাত্রনেতাদের সঙ্গে পুলিশের বাগ্বিতণ্ডার একটি ভিডিও সামাজিকমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে বানিয়াচং থানায় আগুন দিয়ে এক পুলিশ সদস্যকে পুড়িয়ে হত্যার কথা বলতে শোনা যায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা মাহদী হাসানকে।
এই বক্তব্যের জের ধরে ৩ জানুয়ারি মাহদী হাসানকে আটক করে পুলিশ। মাহদী হাসানকে আটকের পর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শতাধিক নেতা-কর্মী হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার সামনে অবস্থান নেন। তারা রাতেই আদালত বসিয়ে মাহদী হাসানের জামিন শুনানির দাবি জানান। তবে রাতে আদালত না বসায় ৪ জানুয়ারি সকাল সাড়ে আটটায় তাকে হবিগঞ্জ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় সংগঠনটির শতাধিক নেতা-কর্মী আদালত প্রাঙ্গণে উপস্থিত হন। একই দিনে সকাল সাড়ে দশটায় তার জামিন হয়।
আলোচিত ভিডিওটি, মাহদী হাসানকে থানা থেকে ছাড়িয়ে আনার জন্য সমবেত ব্যক্তিদের সেনাবাহিনী লাঠিপেটা করেছে- এই দাবিতে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে।
প্রাসঙ্গিক কি-ওয়ার্ড সার্চে, মূলধারার সংবাদমাধ্যমে থানার সামনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা-কর্মীদের ওপর সেনাবাহিনীর লাঠিচার্জের কোনো খবর পাওয়া যায় না। এই ভিডিওগুলোতে সমবেত ব্যক্তিদের কারো পরনে লাল পাঞ্জাবি দেখা যায় না। সকলের পরনে শীতকালীন পোশাক দেখা যায়। পক্ষান্তরে, ফেসবুকে ছড়ানো ভিডিওতে লাঠিচার্জের শিকার ব্যক্তিদের পরনে শীতের কাপড় দেখা যায় না।
পরবর্তী অনুসন্ধানে আলোচিত ভিডিওটির বিভিন্ন কি-ফ্রেমের সাহায্যে রিভার্স ইমেজ সার্চে ইউটিউবে একটি ভিডিও পাওয়া যায়। ‘Mukto News’ এর এই ভিডিও পোস্ট করা হয়েছে, ২০২৫ সালের ১৯ জুন। এই ভিডিওটির ক্যাপশনে বলা হয়েছে, “গায়ে হলুদ উপলক্ষে হর্ন বাজিয়ে মোটরসাইকেল শোডাউন, সেনাবাহিনীর হাতে ধরা।” এই ভিডিওটি অনেক স্পষ্ট এবং আলোচিত অস্পষ্ট ভিডিওর সঙ্গে এটির মিল রয়েছে।
আরও অনুসন্ধানে, ঢাকা এক্সপ্রেস (Dhaka Xpress) নামের একটি ইউটিউব চ্যানেলে ভিডিওটি পাওয়া যায়। গত বছরের ১২ জুন আপলোড করা ভিডিওর সঙ্গে ক্যাপশনে বলা হয়েছে, “অতিরিক্ত শব্দের কারণে ৫০০০ টাকা জরিমানা | Bike Silencer | Penalty | Bangladesh Army Ovijan” এবং “মাঝরাতে উচ্চ সাউন্ডওয়ালা বাইকারদের বিরুদ্ধে সেনাবাহিনীর অভিযান | Bangladesh Army | Biker”- এই ভিডিওর সঙ্গে আলোচিত ভিডিওটির মিল রয়েছে।
এছাড়া ‘BNP SYLHET’ নামের একটি ফেসবুক পেজে ভিডিওটি পাওয়া যায়। এটি পোস্ট করা হয়েছে গত বছরের জুনে। এই ভিডিওটির ক্যাপশনেও বলা হয়েছে, গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানে মোটরসাইকেল নিয়ে ফগ হর্ন বাজিয়ে এলাকায় শোডাউন করার সময় এই ঘটনা ঘটে। সাধারণত গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানে একই রঙের পাঞ্জাবি পরার প্রবনতা দেখা যায়। এই ভিডিওটিও আলোচিত ভিডিওর অনুরূপ।
ফলে, সবদিক পর্যালোচনা করে এটিই প্রতীয়মান হয় যে, আলোচিত ভিডিওটি কমপক্ষে গত বছরের জুন মাসের। ভিডিওটির পেছনের কারণ স্বাধীনভাবে যাচাই করা না গেলেও এটি নিশ্চিভাবে বলা যাচ্ছে, এটি সাম্প্রতিক হবিগঞ্জের ঘটনার নয়। তাই এই দাবিতে প্রচারিত ভিডিওগুলোকে মিথ্যা হিসেবে চিহ্নিত করছে ফ্যাক্টওয়াচ।
Claim: লাল পাঞ্জাবি ও সাদা পায়জামা পরা কয়েকজন ব্যক্তিকে সেনাবাহিনীর সদস্যরা লাঠিপেটা করছেন, এ ধরণের একটি অস্পষ্ট ভিডিও সম্প্রতি ফেসবুকে শেয়ার করা হচ্ছে। ভিডিওটির ক্যাপশনে বলা হচ্ছে, গত ৩ জানুয়ারি হবিগঞ্জ থানায়, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের হবিগঞ্জের সদস্য সচিব মাহদী হাসানকে গ্রেফতারের পর তাকে ছাড়িয়ে নিতে থানার সামনে জড়ো হওয়া ব্যক্তিদের ওপর লাঠিচার্জ করেছে সেনাবাহিনী।
Claimed By: Facebook Users
Rating: False
এই নিবন্ধটি ফেসবুকের ফ্যাক্ট-চেকিং প্রোগ্রামের
নীতি মেনে লেখা হয়েছে। এর উপর ভিত্তি করে ফেসবুক যে ধরণের বিধিনিষেধ আরোপ করতে পারে, সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন এখানে।
এছাড়া এই নিবন্ধ সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন, সম্পাদনা কিংবা আরোপিত বিধিনিষেধ তুলে নেয়ার জন্য আবেদন করতে এই লিঙ্কের সাহায্য নিন।
কোনো তথ্যের সত্যতা যাচাই করতে আমাদেরকে ইমেইল করুনঃ contact@fact-watch.org অথবা ফেইসবুকে মেসেজ দিনঃ facebook.com/fwatch.bangladesh