সম্প্রতি রংপুরের পীরগাছায় আওয়ামী লীগের এক ইউপি মেম্বারের ছেলেকে বাসা থেকে ডেকে এনে পুলিশ গুলি করে হত্যা করেছে দাবিতে একটি ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। অনুসন্ধানে দেখা যায়, ভিডিওটি সাম্প্রতিক সময়ের নয়। গত বছরের ৫ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় গাজীপুরের কোনাবাড়িতে হৃদয় নামের একজন কিশোরকে পুলিশের গুলি করে মারার ভিডিও এটি।
ঘটনাটি সম্পর্কে প্রাসঙ্গিক কি- ওয়ার্ড সার্চে এ বছরের (২০২৫) ৫ জানুয়ারি দৈনিক ইত্তেফাকের একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়।
প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, গত বছরের ৫ আগস্টের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, কলেজপড়ুয়া একটি ছেলেকে ধরে আছে কয়েকজন পুলিশ সদস্য। চড়-থাপ্পড়, কিল- ঘুষি মারছে। কেউ কেউ আবার কলার ধরে লাঠি দিয়ে পেটাচ্ছে। একটু দূর থেকেই দৌড়ে এলো এক পুলিশ সদস্য। কাছে এসেই কলেজ শিক্ষার্থী হৃদয়ের পিঠে বন্দুক ঠেকিয়ে ট্রিগার টেনে দিলো। গুলির বিকট শব্দ। মাত্র ৩ সেকেন্ডেই মাটিতে লুটিয়ে পড়েন হৃদয়। ছটফট করে হাত-পা নাড়তে থাকেন। দাঁড়াতে চেষ্টা করেন। তবে পারেননি। একটু পরেই নিথর হয়ে যায় মাটিতে পড়ে থাকা হৃদয়ের দেহ। স্রোতের বেগে রক্ত বের হতে থাকে। অল্প সময়ে রাস্তা লাল হয়ে যায়। পরনের কাপড় ভিজে যায়। গুলি করেই পুলিশ সদস্যরা দৌড়ে সরে যায়। কিছুক্ষণ পর আবার তারা হৃদয়ের কাছে ফিরে আসে। এসে নিথর দেহ পা দিয়ে ঠেলে দেখতে থাকে মৃত্যু হয়েছে কি না। পরে ৪ জন পুলিশ সদস্য মিলে হৃদয়ের গুলিবিদ্ধ মরদেহ হাত-পা ধরে টেনে-হিঁচড়ে দূরে কোথায় নিয়ে যান। কোথায় নিয়ে যাওয়া হলো হৃদয়ের মৃতদেহ? কেউ জানে না এখনো।
নিহত হৃদয়ের লাশ তার স্বজনদের দেয়নি পুলিশ। লাশ কোথায় রাখা হয়েছে। দাফন করা হয়েছে নাকি ফেলে দেয়া হয়েছে, তা এখনো জানতে পারেনি হৃদয়ের পরিবার। হৃদয়ের নিহতের ঘটনার একটি ভিডিও গত ৩০ আগস্ট ভাইরাল হয়। এতে দেশজুড়ে আলোচনা-সমালোচনা হয়। গাজীপুরের কোনাবাড়িতে পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে হৃদয়কে গুলি করে হত্যা করে কনস্টেবল আকরাম।
গত ৬ সেপ্টেম্বর আকরামকে তার গ্রামের বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে এই মামলার এজহারনামীয় আসামি দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। হৃদয় টাঙ্গাইলের গোপালপুরের আলমনগর গ্রামের লাল মিয়ার ছেলে। তিনি জেলার হেমনগর ডিগ্রি কলেজে একাদশ শ্রেণিতে পড়ালেখার পাশাপাশি গাজীপুরের কোনাবাড়ী এলাকায় অটোরিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন।
যমুনা টিভি ২ সেপ্টেম্বর (২০২৪) এই ঘটনা নিয়ে একটি ভিডিও প্রতিবেদন প্রকাশ করে তাদের ইউটিউব চ্যানেলে। এই প্রতিবেদনে ভাইরাল ভিডিওটিসহ নিহত হৃদয়ের পরিবারের সদস্যদের বক্তব্য রয়েছে। ৫ মাস আগে চ্যানেল২৪ এই ঘটনার প্রতিবেদনে জানিয়েছে, গাজীপুরে হৃদয় হত্যার আসামী করা হয়েছে পাঁচ সাংবাদিককে। তাদের প্রতিবেদনেও ভাইরাল ভিডিওটি রয়েছে।
এই দুই প্রতিবেদনে যুক্ত ভিডিওর সঙ্গে রংপুরের পীরগাছায় আওয়ামী সমর্থিত ইউপি মেম্বারের ছেলেকে বাসা থেকে ঢেকে এনে গুলি করে হত্যার দাবিতে ভাইরাল ভিডিওটির মিল রয়েছে। অন্যদিকে, রংপুরের পীরগাছার কোনো আওয়ামী সমর্থিত ইউপি মেম্বরের ছেলে গুলিবদ্ধ হয়ে নিহত হয়েছেন বলে কোনো খবর মূলধারার সংবাদ মাধ্যমে খুঁজে পাওয়া যায়নি। তবে পীরগাছার আওয়ামী সমর্থিত এক ইউপি চেয়ারম্যান গ্রেফতার হয়েছেন এমন খবর পাওয়া যায়।
সব দিক বিবেচনা করে ফ্যাক্টওয়াচ গাজীপুরে হৃদয় হত্যার ভিডিওকে রংপুরের ইউপি মেম্বরের ছেলের হত্যার ভিডিও বলে প্রচার করা পোষ্টগুলোকে মিথ্যা হিসেবে চিহ্নিত করছে।
Claim: সম্প্রতি রংপুরের পীরগাছায় আওয়ামী লীগের এক ইউপি মেম্বারের ছেলেকে বাসা থেকে ডেকে এনে পুলিশ গুলি করে হত্যা করেছে দাবিতে একটি ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে।
Claimed By: Facebook Users
Rating: False
এই নিবন্ধটি ফেসবুকের ফ্যাক্ট-চেকিং প্রোগ্রামের
নীতি মেনে লেখা হয়েছে। এর উপর ভিত্তি করে ফেসবুক যে ধরণের বিধিনিষেধ আরোপ করতে পারে, সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন এখানে।
এছাড়া এই নিবন্ধ সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন, সম্পাদনা কিংবা আরোপিত বিধিনিষেধ তুলে নেয়ার জন্য আবেদন করতে এই লিঙ্কের সাহায্য নিন।
কোনো তথ্যের সত্যতা যাচাই করতে আমাদেরকে ইমেইল করুনঃ contact@fact-watch.org অথবা ফেইসবুকে মেসেজ দিনঃ facebook.com/fwatch.bangladesh