ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর হ্যান্ডশেকের একটি ভিডিও সম্প্রতি ফেসবুকে শেয়ার করা হচ্ছে। ভিডিওটিতে দেখা যায়, নেতানিয়াহুর সঙ্গে একটি দায়সারা হ্যান্ডশেক শেষে সৌজন্যের হাসি না হেসেই হেঁটে অন্য দিকে চলে যাচ্ছেন মেলোনি। মেলোনির গলায় ফিলিস্তিনের পতাকার মত একটি স্কার্ফ ঝোলানো। এর ক্যাপশনে বলা হচ্ছে, নেতানিয়াহুকে পাত্তা দেননি ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলানি। ফ্যাক্টওয়াচের অনুসন্ধানে দেখা যাচ্ছে, এটি এআই নির্মিত ভিডিও।
ভিডিওটি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, মেলোনি ও নেতানিয়াহু চলাফেরা রোবটের মতো। তাদের দেহভঙ্গিও বেশ শক্ত ও অনমনীয় বলে মনে হয়। এছাড়া, এআই শনাক্রকারী টুল ডিপফেক ও মিটার (deepfack o mitre) ব্যবহার করে এটিকে ৯৯% এআই জেনারেটেড হওয়ার সম্ভাবনা পাওয়া যায়।
পরবর্তীতে ভিডিওটির কয়েকটি কি-ফ্রেমের সাহায্যে রিভার্স ইমেজ সার্চে ইন্ডিয়া টুডে (India Today)’য় প্রকাশিত একটি ফ্যাক্টচেক প্রতিবেদন পাওয়া যায়। এ বছরের ২৯ এপ্রিল প্রকাশিত এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এপ্রিলের শুরুতে, ইতালির প্রধানমন্ত্রী ইসরায়েলের সঙ্গে একটি প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তি স্থগিত করেন। গত ৮ এপ্রিল লেবাননে ইতালিয় শান্তিরক্ষা কনভয়ের দিকে ইসরায়েলের গুলি ছোড়ার পর ইতালি ও ইসরায়েলের মধ্যে উত্তেজনা বাড়তে থাকায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এই প্রেক্ষিতে আলোচিত ভিডিওটি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ইতালি ও ইসরায়েলের শীতল সম্পর্কের প্রতীক হিসেবে ছড়িয়ে পড়েছে।
পরবর্তী অনুসন্ধানে আরও একটি ফ্যাক্টচেক প্রতিবেদন পাওয়া যায়। ৩০ এপ্রিল প্রকাশিত এই প্রতিবদনেও এআই টুল ব্যবহার করে এটিকে এআই ভিডিও দেখানো হয়েছে। এছাড়া, এই প্রতিবেদনে মেলোনির গলার স্কার্ফের লেখা পর্যালোচনা করে দেখানো হয়েছে, পতাকার বাম পাশে থাকা লেখাটি দেখতে কোনো শব্দ বা বাক্যের মতো মনে হলেও, সেগুলো আসলে কেবল কিছু প্রতীক ও অস্পষ্ট রেখা—যা সাধারণত এআই-তৈরি কনটেন্টের বৈশিষ্ট্য।
কাজেই, সবদিক পর্যালোচনা করে ভিডিওটিকে এআই নির্মিত বলেই প্রতীয়মান হয়।
ফলে সঙ্গত কারণে, আলোচিত ভিডিওযুক্ত ফেসবুক পোস্টগুলোকে বিকৃত হিসেবে সাব্যস্ত করা হলো।
Claim: ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর হ্যান্ডশেকের একটি ভিডিও সম্প্রতি ফেসবুকে শেয়ার করা হচ্ছে। ভিডিওটিতে দেখা যায়, নেতানিয়াহুর সঙ্গে একটি দায়সারা হ্যান্ডশেক শেষে সৌজন্যের হাসি না হেসেই হেঁটে অন্য দিকে চলে যাচ্ছেন মেলোনি। এর ক্যাপশনে বলা হচ্ছে, নেতানিয়াহুকে পাত্তা দেননি ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলানি।
Claimed By: Facebook Users
Rating: False
এই নিবন্ধটি ফেসবুকের ফ্যাক্ট-চেকিং প্রোগ্রামের
নীতি মেনে লেখা হয়েছে। এর উপর ভিত্তি করে ফেসবুক যে ধরণের বিধিনিষেধ আরোপ করতে পারে, সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন এখানে।
এছাড়া এই নিবন্ধ সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন, সম্পাদনা কিংবা আরোপিত বিধিনিষেধ তুলে নেয়ার জন্য আবেদন করতে এই লিঙ্কের সাহায্য নিন।
কোনো তথ্যের সত্যতা যাচাই করতে আমাদেরকে ইমেইল করুনঃ contact@fact-watch.org অথবা ফেইসবুকে মেসেজ দিনঃ facebook.com/fwatch.bangladesh