সম্প্রতি ফেসবুকে একটি ফটোকার্ড ভাইরাল হয়েছে। বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোটের মহাসচিব গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিকের মন্তব্য হিসেবে পোস্টগুলো প্রচার করা হচ্ছে। দাবি করা হচ্ছে, তিনি বলেছেন, “১৯৭১ সালে জামায়াত দ্বারা নির্যাতিত হয়েছেন এমন কোনো নারীকে তিনি কখনো দেখেননি।'’ আরো দাবি করা হচ্ছে, তিনি প্রশ্ন করেছেন সেই সময় ধর্ষণের কারণে জন্মগ্রহণকারী শিশুরা কোথায়। তবে ফ্যাক্টওয়াচের অনুসন্ধানে দেখা যাচ্ছে, গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিকের বক্তব্য দাবিতে প্রচারিত ফটোকার্ডগুলো ভিত্তিহীন। নির্ভরযোগ্য কোনো সূত্র থেকে এর সত্যতা পাওয়া যায়নি।
গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিকের ছবিযুক্ত একটি ফটোকার্ডে দাবি করা হয়েছে, তিনি বলেছেন, “জামায়াত ৭১ সালে ২ লাখ মা বোনকে ধর্ষণ করছে, আচ্ছা সেই মা বোনের ছেলে-মেয়েগুলো কই? কখনো কাউকে দাবি করতে শুনলাম না কেন যে জামায়াতের অমুক নেতা আমার মা, বোন, নানিকে ধর্ষণ করছে।” দাবিকৃত ফটোকার্ডটির নিচের দিকে ‘cvnbangla24.com’ লেখা রয়েছে।
অনুসন্ধানে মূলধারার গণমাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কি-ওয়ার্ড দিয়ে সার্চ করলে দাবিকৃত বক্তব্যের সাথে মিল রয়েছে এমন কোনো তথ্য খুঁজে পাওয়া যায় না।
পরবর্তীতে, প্রচারিত ফটোকার্ডে থাকা ‘cvnbangla24.com’ নিয়ে পর্যালোচনা করা হয়। তবে সার্চে এই নামের কোনো সংবাদমাধ্যমের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়নি।
অর্থাৎ, জামায়াতে ইসলামীকে নিয়ে গোবিন্দ প্রামাণিকের নামে আলোচিত উক্তিটি ভিত্তিহীন। তাই ফ্যাক্টওয়াচ এসব পোস্টকে মিথ্যা হিসেবে চিহ্নিত করছে।
উল্লেখ্য, দি ডেইলি স্টার-এ ১৫ ডিসেম্বর ২০২২ তারিখে “A little-known initiative to help the war babies” শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশ সরকার ১৯৭২ সালে “The Bangladesh Abandoned Children (Special Provisions) Order” জারি করে। এই আইনের ভিত্তিতে ‘Missionaries of Charity’, কানাডার ‘Families for Children’ ও ‘Kuan-Yin Foundation’, যুক্তরাষ্ট্রের ‘Holt Adoption Program’-সহ একাধিক সংস্থার মাধ্যমে যুদ্ধশিশুদের কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে পাঠানো হয়।
Claim: বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোটের মহাসচিব গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিকের মন্তব্য হিসেবে পোস্টগুলো প্রচার করা হচ্ছে। দাবি করা হচ্ছে, তিনি বলেছেন, “১৯৭১ সালে জামায়াত দ্বারা নির্যাতিত হয়েছেন এমন কোনো নারীকে তিনি কখনো দেখেননি।'’ আরো দাবি করা হচ্ছে, তিনি প্রশ্ন করেছেন সেই সময় ধর্ষণের কারণে জন্মগ্রহণকারী শিশুরা কোথায়।
Claimed By: Facebook Users
Rating: False
এই নিবন্ধটি ফেসবুকের ফ্যাক্ট-চেকিং প্রোগ্রামের
নীতি মেনে লেখা হয়েছে। এর উপর ভিত্তি করে ফেসবুক যে ধরণের বিধিনিষেধ আরোপ করতে পারে, সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন এখানে।
এছাড়া এই নিবন্ধ সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন, সম্পাদনা কিংবা আরোপিত বিধিনিষেধ তুলে নেয়ার জন্য আবেদন করতে এই লিঙ্কের সাহায্য নিন।
কোনো তথ্যের সত্যতা যাচাই করতে আমাদেরকে ইমেইল করুনঃ contact@fact-watch.org অথবা ফেইসবুকে মেসেজ দিনঃ facebook.com/fwatch.bangladesh