ড. ইউনূসের গ্রামীণ ভবন জ্বালিয়ে দেওয়ার ভুয়া দাবি

146
ড. ইউনূসের গ্রামীণ ভবন জ্বালিয়ে দেওয়ার ভুয়া দাবি
ড. ইউনূসের গ্রামীণ ভবন জ্বালিয়ে দেওয়ার ভুয়া দাবি

সম্প্রতি ফেসবুকে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড.মুহাম্মদ ইউনূসের গ্রামীণ ভবনে আগুন দেওয়া হয়েছে এমন দাবিতে একটি পোস্ট ছড়িয়ে পড়েছে। ফ্যাক্টওয়াচের অনুসন্ধানে জানা যাচ্ছে, এ সংবাদটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। কিছু পোস্টের সাথে আলোকোজ্জ্বল একটি ভবনের ভিডিও যুক্ত করা হয়েছে। অনুসন্ধানে জানা যাচ্ছে, এটি ড. ইউনূসের প্রতিষ্ঠিত গ্রামীণ ভবন নয়, বরং টেলিকম কোম্পানি গ্রামীণফোনের অফিস ভবন। 

গুজবের উৎস 

৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ফেসবুকে পোস্টটি শেয়ার হতে থাকে। কিছু পোস্ট দেখুন এখানে, এখানে, এখানে, এখানে, এখানে, এখানে

ফ্যাক্টওয়াচ অনুসন্ধান 

ঢাকার মিরপুরে চিড়িয়াখানা সড়কে অবস্থিত ড. ইউনূসের প্রতিষ্ঠিত ১৪ তলাবিশিষ্ট গ্রামীণ টেলিকম ভবনে আগুন লাগানো হয়েছে বা হামলা করা হয়েছে এমন কোনো খবর গণমাধ্যম এবং অন্যান্য নির্ভরযোগ্য কোনো সূত্র থেকে পাওয়া যায় না। 

কিছু পোস্টে (,) একটি ভবনের ভিডিও যুক্ত করা হয়েছে যেখানে ভবনের প্রতিটি ফ্লোর আলোকিত হয়ে থাকতে দেখা যাচ্ছে। ভিডিওতে ভবনটির গঠন এবং সামনের রাস্তার সাথে মিলিয়ে গুগল ম্যাপ থেকে নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে এটি ঢাকার বসুন্ধরা এলাকায় অবস্থিত টেলিকম কোম্পানি গ্রামীণফোনের হেড অফিস ভবন। 

এদিকে সংবাদসংস্থা বিডিনিউজ২৪-এর ৫ ফেব্রুয়ারির প্রতিবেদন থেকে জানা যাচ্ছে, অবৈধভাবে চাকরিচ্যুত করার অভিযোগ এবং বকেয়া পরিশোধের দাবিতে মোবাইল ফোন অপারেটর গ্রামীণফোনের প্রধান কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ করেছেন কোম্পানির সাবেক একদল কর্মী। প্রতিবেদনে সংযুক্ত বিক্ষোভ পরিস্থিতির ছবির সাথে ভিডিওতে প্রদর্শিত পরিস্থিতি মিলে যাচ্ছে। এ থেকে ধারণা করা যাচ্ছে যে, গ্রামীণফোন ভবনের সামনে সাবেক কর্মীদের বিক্ষোভের ভিডিওকে গ্রামীণ ভবন জ্বালিয়ে দেওয়ার ভিডিও হিসেবে প্রচার করা হচ্ছে। তবে এটি নিশ্চিত যে, এটি ড. ইউনূসের প্রতিষ্ঠিত গ্রামীণ ভবন নয়। 

সার্বিক বিবেচনায় ফ্যাক্টওয়াচ এসব পোস্টকে “মিথ্যা” সাব্যস্ত করছে। 

Claim:
সম্প্রতি ফেসবুকে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড.মুহাম্মদ ইউনূসের গ্রামীণ ভবনে আগুন দেওয়া হয়েছে এমন দাবিতে একটি পোস্ট ছড়িয়ে পড়েছে।

Claimed By:
Facebook Users

Rating:
False

এই নিবন্ধটি ফেসবুকের ফ্যাক্ট-চেকিং প্রোগ্রামের নীতি মেনে লেখা হয়েছে। এর উপর ভিত্তি করে ফেসবুক যে ধরণের বিধিনিষেধ আরোপ করতে পারে, সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন এখানে

এছাড়া এই নিবন্ধ সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন, সম্পাদনা কিংবা আরোপিত বিধিনিষেধ তুলে নেয়ার জন্য আবেদন করতে এই লিঙ্কের সাহায্য নিন।

কোনো তথ্যের সত্যতা যাচাই করতে আমাদেরকে
ইমেইল করুনঃ contact@fact-watch.org
অথবা ফেইসবুকে মেসেজ দিনঃ facebook.com/fwatch.bangladesh