সম্প্রতি ফেসবুকে বেশ কিছু মদের বোতলসহ এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের একটি ছবি ছড়িয়ে পড়ছে। ক্যাপশনে উল্লেখ করা হয়েছে, “বিদেশী মদসহ হাসনাত আব্দুল্লাহর বড় ভাইকে আটক করেছে ডিবি।” ফ্যাক্টওয়াচের অনুসন্ধানে দেখা যাচ্ছে যে, গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিটি হাসনাত আব্দুল্লাহর ভাই নয়। প্রকৃতপক্ষে আটক হওয়া ব্যক্তির নাম আব্দুল জলিল, তিনি নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার শরীফপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা। মাদক কারবারের অভিযোগে ডিবি পুলিশ তাকে আটক করেছে।
যমুনা টিভির আদলে ছড়িয়ে পড়া একটি ফটোকার্ডে আলোচিত ছবিটি দেখতে পাওয়া যায়। এই ফটোকার্ডে যমুনা টিভির ফরম্যাট এবং ডিজাইন ব্যবহার করা হয়েছে। কিন্তু যেই যেই স্থানে যমুনা টিভি লেখা আছে সেখানে ‘জানিনা টিভি’ লেখা দেখতে পাওয়া যায়। এই সূত্র ধরে জানিনা টিভি নামে যমুনা টিভির আদলে একটি স্যাটায়ার পেজ পাওয়া যায়। ‘জানিনা টিভি’ নামের পেজ যমুনা টিভির লোগো ও ডিজাইন এডিট করে এই কার্ডটি বানিয়ে ২৭ এপ্রিল পোস্ট করেছিল। সেখানে ‘যমুনা’র বদলে ‘জানিনা’ লেখা থাকলেও অনেকেই একে সত্যি খবর বলে বিশ্বাস করেছেন। এর কিছু নমুনা নিম্নরূপঃ
যদিও পেজটির বর্ণনায় উল্লেখ করা হয়েছে সেখানে প্রকাশিত খবরগুলো সম্পূর্ণ কাল্পনিক, মজাদার ও ব্যঙ্গধর্মী। কিন্তু কমেন্ট সেকশনে জানিনা টিভি এই তথ্যকে সত্য বলেই কমেন্ট করছে।
পরবর্তীতে, এই ছবিটির উৎস খুঁজে পাওয়ার জন্য রিভার্স ইমেজ সার্চ করা হয়। এর ফলে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর এর অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে চলতি বছরের ২৮ এপ্রিল আলোচিত ছবিটির অনুরূপ একটি ছবি পাওয়া যায়। সেখানে আটক ব্যক্তির নাম আব্দুল জলিল বলে উল্লেখ করা হয়েছে। নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে একটি ভবনের দারোয়ানের কক্ষ থেকে মদসহ তাকে আটক করা হয়। আব্দুল জলিলের বাবার নাম হাজী ছায়েদুল হক।
অন্যদিকে, হাসনাত আবদুল্লাহর বাবার নাম মোঃ জালাল উদ্দিন। সুতরাং এটি নিশ্চিত যে আটক হওয়া ব্যক্তি হাসনাত আবদুল্লাহর ভাই নন। মূলত ভিন্ন এক ব্যক্তির আটকের ছবি ব্যবহার করে এই মিথ্যা দাবিটি প্রচার করা হচ্ছে।
এছাড়া এই ব্যক্তির সাথে হাসনাত আবদুল্লাহর কোনো সম্পর্কের তথ্য মূলধারার গণমাধ্যমে পাওয়া যায়নি।
সঙ্গত কারণে ফ্যাক্টওয়াচ ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ছবির উপর ভিত্তি করে করা দাবিটিকে মিথ্যা হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
Claim: সম্প্রতি ফেসবুকে বেশ কিছু মদের বোতলসহ এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের একটি ছবি ছড়িয়ে পড়ছে। ক্যাপশনে উল্লেখ করা হয়েছে, “বিদেশী মদসহ হাসনাত আব্দুল্লাহর বড় ভাইকে আটক করেছে ডিবি।”
Claimed By: Facebook users
Rating: False
এই নিবন্ধটি ফেসবুকের ফ্যাক্ট-চেকিং প্রোগ্রামের
নীতি মেনে লেখা হয়েছে। এর উপর ভিত্তি করে ফেসবুক যে ধরণের বিধিনিষেধ আরোপ করতে পারে, সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন এখানে।
এছাড়া এই নিবন্ধ সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন, সম্পাদনা কিংবা আরোপিত বিধিনিষেধ তুলে নেয়ার জন্য আবেদন করতে এই লিঙ্কের সাহায্য নিন।
কোনো তথ্যের সত্যতা যাচাই করতে আমাদেরকে ইমেইল করুনঃ contact@fact-watch.org অথবা ফেইসবুকে মেসেজ দিনঃ facebook.com/fwatch.bangladesh