জুতার মালা গলায় নির্যাতিত ব্যক্তি হিন্দু শিক্ষক নন 

265
জুতার মালা গলায় নির্যাতিত ব্যক্তি হিন্দু শিক্ষক নন 
জুতার মালা গলায় নির্যাতিত ব্যক্তি হিন্দু শিক্ষক নন 

ফেসবুকে শেয়ার হওয়া এ ধরণের কয়েকটি পোস্ট দেখুন, এখানে, এখানে, এখানে, এখানে

ভিডিওটি একই দাবিতে ছড়িয়েছে এক্স, ইন্সস্টাগ্রামেও। দেখুন, এখানে, এখানে, এখানে। 

ভিডিওটি ছড়িয়েছে ইউটিউবেও।  

ভিডিওটি মূলত ছড়িয়েছে ভারত থেকে। ক্যাপশনে বলা হয়েছে, “ইনি বাংলাদেশের উচ্চ বিদ্যালয়ের হিন্দু শিক্ষক। ৪০ বছর ধরে শিক্ষা দান করার পর বাংলাদেশের মুসলমানরা জুতোর মালা দিয়ে এইভাবে সম্মান জানিয়েছে।”  

ফ্যাক্টওয়াচের অনুসন্ধান 

অনুসন্ধানের শুরুতে বিভিন্ন প্রাসঙ্গিক কি-ওয়ার্ড সার্চে কিছু প্রতিবেদন পাওয়া যায়। ২০২৫ সালের ১৫ জুন প্রকাশিত কালের কণ্ঠের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দিতে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে  কটূক্তির অভিযোগে এক চিকিৎসককে গণপিটুনির পর জুতার মালা পরিয়ে বাজার প্রদক্ষিণ করিয়েছে স্থানীয়রা। গত ১৫ জুন উপজেলার নবাবপুর ইউনিয়নের বেরুলী বাজারে এ ঘটনা ঘটে। নির্যাতিত ব্যক্তির নাম আহম্মদ আলী। তিনি নবাবপুর ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।

ঢাকা টাইমসের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, নির্যাতিত ব্যক্তি অবসরপ্রাপ্ত কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার। এই প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দিতে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে কটূক্তি করায় ওই ব্যক্তিকে গণপিটুনির পর জুতার মালা পড়িয়েছে উত্তেজিত জনতা। পিটুনির শিকার ব্যক্তির নাম আহম্মদ আলী। তিনি একই উপজেলার নবাবপুর ইউনিয়নের তেকাটি গ্রামের বা‌সিন্দা। উপজেলার নবাবপুর ইউনিয়নের বেরুলী বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরবর্তীতে বালিয়াকান্দি থানা পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত ক‌রে ওই ব্যক্তিকেও উদ্ধার করে। 

দুটি প্রতিবেদনের সঙ্গেই নির্যাতিত ব্যক্তির ছবি রয়েছে। ফেসবুকে ছড়ানো ভিডিওতে জুতার মালা পরানো ব্যক্তি আর এই প্রতিবেদন দুটিতে যুক্ত স্থিরছবি একই ব্যক্তির। 

পরবর্তী অনুসন্ধানে, বিডি নিউজ ২৪ এর আরও একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। এই প্রতিবেদনে আক্রান্ত ব্যক্তিকে অবসরপ্রাপ্ত স্বাস্থ্য কর্মকর্তা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদনটিতে ওসি জামাল উদ্দিনের বরাতে বলা হয়েছে, আহম্মদ আলী সকালে বেরুলী বাজারে চায়ের দোকানে মহানবী সম্পর্কে অবমাননাকর মন্তব্য করেন বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেন। এ খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে উত্তেজিত জনতা দুপু‌রে তাকে আটক করে গণপিটুনি দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত ক‌রে। সেই সঙ্গে ওই ব্যক্তিকে উদ্ধার করে।

আহম্মদ আলীর পেশা হিসেবে চিকিৎসক এবং মেডিকেল অফিসার উল্লেখ্য করা হয়েছে। অবসরপ্রাপ্ত অথবা বর্তমানে কর্মরত এই দুই ধরণের তথ্যও প্রতিবেদনগুলোতে পাওয়া যায়। তবে তার নাম, এলাকা এবং ঘটনার বর্ণনা সব প্রতিবেদনে একই। অর্থাৎ রাজবাড়ি জেলার নবাবপুর ইউনিয়িনের টেকাতি গ্রামের আহম্মদ আলীকে, হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) কে নিয়ে কটূক্তির অভিযোগে স্থানীয়রা মারধর করে এবং জুতার মালা পরায়।       

প্রতিবেদনগুলো পর্যালোচনা করে এটি স্পষ্ট যে, ভিডিওটিতে জুতার মালা গলায় ব্যক্তির নাম আহম্মদ আলী এবং তিনি পেশায় শিক্ষক নন। ফলে সঙ্গত কারণে, নির্যাতিত ব্যক্তি একজন হিন্দু শিক্ষক, এই দাবি করা ফেসবুক পোস্টগুলোকে মিথ্যা হিসেবে সাব্যস্ত করা হলো।  

  

Claim:
সম্প্রতি ফেসবুকে একজন বয়স্ক ব্যক্তির গলায় জুতা পরানোর একটি ভিডিও শেয়ার করে বলা হচ্ছে যে, নির্যাতিত ব্যক্তি বাংলাদেশের একজন হিন্দু শিক্ষক।

Claimed By:
Facebook Users

Rating:
False