আশেপাশে অনেক লোকজনের মধ্য দিয়ে এক ব্যক্তিকে পুলিশ ধরে নিয়ে যাচ্ছে, এ ধরণের একটি ভিডিও সম্প্রতি ফেসবুকে শেয়ার হচ্ছে। ভিডিওটির ক্যাপশনে বলা হচ্ছে, পুলিশ যাকে ধরে নিয়ে যাচ্ছে তিনি গত ১৮ ডিসেম্বর ময়মনসিংহের ভালুকায় খুন হওয়া দিপু চন্দ্র দাস। কিন্তু ফ্যাক্টওয়াচের অনুসন্ধানে দেখা যাচ্ছে, ঘটনাটি ঢাকায় ঘটেছে গত ১৮ নভেম্বর। আটক ব্যাক্তির নাম আব্দুল মমিন।
ভিডিওটির বিভিন্ন কি-ফ্রেমের সাহায্যে রিভার্স ইমেজ সার্চে একটি ভিডিও প্রতিবেদন পাওয়া যায়। এ বছরের ১৮ নভেম্বর আপলোড হওয়া এই প্রতিবেদনের শিরোনাম- “পুলিশের কাছে মার খেয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়লেন ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী।” এই ভিডিওটিতে দেখা যায়, আটক ব্যক্তি বলছেন তার নাম আব্দুল মোমিন, তিনি ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী। তার পরনের জার্সিতে ঢাকা কলেজের লোগো বসানো এবং নাম লেখা মোমিন। এই ভিডিওটির সঙ্গে আলোচিত ভিডিওটির মিল রয়েছে এবং এটি ১৮ নভেম্বর থেকে অনলাইনে আছে।
পরবর্তী অনুসন্ধানে প্রাসঙ্গিক কি-ওয়ার্ড সার্চে ভোরের কাগজের একটি ভিডিও প্রতিবেদন পাওয়া যায়। এটিও পোস্ট করা হয়েছে গত ১৮ নভেম্বর। এই ভিডিওটি স্পষ্ট এবং এখানে আটক ব্যক্তির মুখ স্পষ্ট দেখা যায়। সংবাদমাধ্যম সূত্রে নিহত দিপু চন্দ্র দাসের যে সব ছবি পাওয়া যায়, তার সঙ্গে এই ব্যক্তির চেহারার মিল নেই। ফেসবুকে ছড়ানো আলোচিত ভিডিওটি অস্পষ্ট হওয়ায় অনেকে তাকে দিপু চন্দ্র ভেবেছেন।
বামে আব্দুল মোমিন এবং ডানে নিহত দিপু চন্দ্র দাস
এই প্রতিবেদনটির শিরোনাম- “কি হয়েছিলো ঢাকা কলেজের এই শিক্ষার্থীর সাথে?” এই ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, আটক ব্যক্তি নিজেকে ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী বলছেন। এই ভিডিওটির সঙ্গে আলোচিত ভিডিওর একটি অংশের মিল রয়েছে।
১৮ নভেম্বরের মূলধারার সংবাদমাধ্যম পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ওইদিন শেখ হাসিনার রায়কে কেন্দ্র করে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে ভাঙচুর চালাতে বুলডোজার নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় বিক্ষোভকারীদের ধাওয়া দিয়ে সড়ক থেকে সরিয়ে দেয় পুলিশ ও সেনাবাহিনী। বিক্ষোভকারীরা পুলিশ ও সেনাবাহিনীকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। বিপরীতে পুলিশ লাঠিপেটা ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করতে থাকেন। আলোচিত ভিডিওটি সেই সময়ের বলে প্রতীয়মান হয়।
উল্লেখ্য, এ বছরের ১৮ ডিসেম্বর ভালুকার হবিরবাড়ী ইউনিয়নের ডুবালিয়াপাড়া এলাকায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে পাইওনিয়ার নিটওয়্যারস (বিডি) লিমিটেড কারখানার কর্মী দিপু চন্দ্র দাসকে ধরে নিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। পরে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বিভাজকের একটি গাছে বিবস্ত্র করে ঝুলিয়ে মরদেহে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।
সবদিক পর্যালোচনা করে এটিই প্রতীয়মান হয় যে, আলোচিত ভিডিওটি নিহত দিপু চন্দ্র দাসের নয়। ফলে সঙ্গত কারণে, বানোয়াট ক্যাপশনযুক্ত ফেসবুক পোস্টগুলোকে মিথ্যা সাব্যস্ত করা হলো।
Claim: আশেপাশে অনেক লোকজনের মধ্য দিয়ে এক ব্যাক্তিকে পুলিশ ধরে নিয়ে যাচ্ছে, এ ধরণের একটি ভিডিও সম্প্রতি ফেসবুকে শেয়ার হচ্ছে। ভিডিওটির ক্যাপশনে বলা হচ্ছে, পুলিশ যাকে ধরে নিয়ে যাচ্ছে তিনি গত ১৮ ডিসেম্বর ময়মনসিংহের ভালুকায় খুন হওয়া দিপু চন্দ্র দাস।
Claimed By: Facebook Users
Rating: False
এই নিবন্ধটি ফেসবুকের ফ্যাক্ট-চেকিং প্রোগ্রামের
নীতি মেনে লেখা হয়েছে। এর উপর ভিত্তি করে ফেসবুক যে ধরণের বিধিনিষেধ আরোপ করতে পারে, সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন এখানে।
এছাড়া এই নিবন্ধ সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন, সম্পাদনা কিংবা আরোপিত বিধিনিষেধ তুলে নেয়ার জন্য আবেদন করতে এই লিঙ্কের সাহায্য নিন।
কোনো তথ্যের সত্যতা যাচাই করতে আমাদেরকে ইমেইল করুনঃ contact@fact-watch.org অথবা ফেইসবুকে মেসেজ দিনঃ facebook.com/fwatch.bangladesh