সাতক্ষীরার কলারোয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মুজিবুর রহমান মবের শিকার হয়ে বাধ্যতামূলক অবসরে গিয়েছেন দাবিতে ফেসবুকে একটি ভিডিও প্রচার করা হচ্ছে। দাবি করা হচ্ছে, তার নাম মুজিবুর রহমান, এটাই তার অপরাধ। এই সময় ভয়ে তার পাশে সহকর্মীরা না দাঁড়ালেও কান্নায় ভেঙ্গে পড়েছে শিক্ষার্থীরা। ভিডিওটিতে দেখা যাচ্ছে, মুজিবুর রহমানকে ঘিরে শিক্ষার্থীরা কান্নাকাটি করছে। এই সময় মুজিবুর রহমানকেও আবেগাপ্লুত দেখা যায়। ফ্যাক্টওয়াচের অনুসন্ধানে দেখা যায়, প্রধান শিক্ষক মুজিবুর রহমানের বাধ্যতামূলক অবসরে যাওয়ার দাবিটি সঠিক নয়। তিনি স্বাভাবিকভাবেই অবসরে যান।
ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটিতে ইংরেজিতে (ফারুক রাজ৯) লেখা একটি লোগো রয়েছে। এই লোগোর সূত্রে ফেসবুকে ফারুক রাজ নামে একটি পেইজে ভিডিওটি পাওয়া যায়। গত সোমবার (৩১ আগস্ট) দেওয়া পোস্টটির ক্যাপশনে লেখা, ‘শিক্ষার্থীদের চোখের পানিতে এভাবে প্রধান শিক্ষকের বিদায় কতটা কষ্টের হয় এটা সেই শিক্ষক জানেন । আজ চাকরি জীবনের শেষ স্বাক্ষর করেছেন কলারোয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মুজিবুর রহমান। আপনার জন্য মহান রাব্বুল আলামিনের কাছে রহমত কামনা করছি।’
এই ভিডিও দিয়ে ফেসবুকে মুজিবুর রহমান মবের শিকার হয়ে বাধ্যতামূলক অবসরে গিয়েছেন দাবি করা হলেও এটির ক্যাপশনে তেমন কোনো তথ্যের উল্লেখ নেই।
ফারুক রাজ নামের পেজটিতে প্রধান শিক্ষক মুজিবুর রহমানকে নিয়ে আরও কিছু ভিডিও পোস্ট পাওয়া যায়।
এর মধ্যে একটি ভিডিওতে দৃশ্যমান ক্রেস্টে লেখা রয়েছে, এটি মুজিবুর রহমানের অবসরজনিত বিদায়ের স্মারক। এটি মুজিবুর রহমানের হাতে তার সহকর্মীরা তুলে দিচ্ছেন। একই ভিডিওতে মুজিবুর রহমানকে শিক্ষার্থীদের সাথে স্বাভাবিক ফটোসেশনে অংশ নিতে দেখা যায়।
এতে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মুজিবুর রহমান উল্লেখ করেন, তার ইচ্ছা ছিল,কলোরায়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যোগদান করার। তার সেই ইচ্ছা পূরণ হয়েছে। ৩১ আগস্ট তার কর্মজীবনের শেষদিন। তার কর্মজীবনের শেষ স্বাক্ষরটি কলোরায়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়েই হলো।
পরবর্তীতে প্রধান শিক্ষক মুজিবুর রহমানের ফেসবুক অ্যাকাউন্টটি খুঁজে বের করে ফ্যাক্টওয়াচ। তার অ্যাকাউন্ট ঘুরেও তাকে মবের শিকার হয়ে বাধ্যতামূলক অবসরে যাওয়ার কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। বরং তার পোস্ট ও শেয়ার করা একাধিক ভিডিও থেকে বোঝা যাচ্ছে, তিনি স্বাভাবিক কর্মজীবন শেষে অবসরে গিয়েছেন। এমন কিছু ভিডিও দেখুন এখানে, এখানে।
তার আপলোড করা আরেকটি ভিডিওতে দেখা যায়, তিনি শ্রেণীকক্ষে পাঠদান করাচ্ছেন। পোস্টটির ক্যাপশন, ‘শিক্ষকতা জীবনের শেষ শ্রেণি পাঠদান!’
পরবর্তীতে আরও খুঁজে সাতক্ষীরার সকাল নামে স্থানীয় একটি নিউজ পোর্টালে মুজিবুর রহমানের অবসরে যাওয়া নিয়ে একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়।
প্রতিবেদনটিতে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মাসুদুর রহমানকে উদ্ধৃত করে বলা হয়, স্কুলের পক্ষ থেকে তাকে বিশাল আয়োজনের সংবর্ধনা দেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু প্রধান শিক্ষক মুজিবুর রহমানের প্রবল আপত্তির মুখে সেই অনুষ্ঠান করা যায়নি। তবে তাকে ফুল ও উপহার দিয়ে বিদায় জানানোর পাশাপাশি একটি ফুল দিয়ে সাজানো সাদা রঙের ট্যাক্সিতে করে তাকে স্কুল থেকে বাড়ি পৌঁছে দিয়ে সম্মান জানানো হয়।
দৈনিক নতুন সূর্য নামের একটি ফেসবুক পেজে দেখা যায়, মুজিবুর রহমান স্কুল ভবন থেকে বের হয়ে সাদা রঙের একটি কারে উঠছেন। দুই পাশে শিক্ষার্থীরা দাঁড়িয়ে আছে। তাকে বহন করে সাদা কারটি এক পর্যায়ে স্কুল থেকে বের হয়ে যায়।
এসব ভিডিও ও মুজিবুর রহমানের একাধিক পোস্ট বিশ্লেষণে তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর দাবিটির কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি। নির্ভরযোগ্য কোনো সংবাদমাধ্যম সূত্রেও এমন কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
সার্বিক বিশ্লেষণে ফ্যাক্টওয়াচ দাবিটিকে মিথ্যা হিসেবে চিহ্নিত করছে।
Claim: মবের শিকার হয়ে কলারোয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মুজিবুর রহমান বাধ্যতামূলক অবসরে। তার অপরাধ তার নাম মুজিবুর রহমান!
Claimed By: Facebook Users
Rating: False
এই নিবন্ধটি ফেসবুকের ফ্যাক্ট-চেকিং প্রোগ্রামের
নীতি মেনে লেখা হয়েছে। এর উপর ভিত্তি করে ফেসবুক যে ধরণের বিধিনিষেধ আরোপ করতে পারে, সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন এখানে।
এছাড়া এই নিবন্ধ সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন, সম্পাদনা কিংবা আরোপিত বিধিনিষেধ তুলে নেয়ার জন্য আবেদন করতে এই লিঙ্কের সাহায্য নিন।
কোনো তথ্যের সত্যতা যাচাই করতে আমাদেরকে ইমেইল করুনঃ contact@fact-watch.org অথবা ফেইসবুকে মেসেজ দিনঃ facebook.com/fwatch.bangladesh