স্ক্রিপ্টেড ভিডিও ছড়িয়ে বাংলাদেশের আদিবাসীদের নিয়ে বিদ্বেষ 

28
স্ক্রিপ্টেড ভিডিও ছড়িয়ে বাংলাদেশের আদিবাসীদের নিয়ে বিদ্বেষ 
স্ক্রিপ্টেড ভিডিও ছড়িয়ে বাংলাদেশের আদিবাসীদের নিয়ে বিদ্বেষ 

সম্প্রতি ফেসবুকে একটি সহিংসতার ভিডিও শেয়ার করে ক্যাপশনে বলা হচ্ছে, "পাহাড়ি উপজাতিরা কতটা ভয়ংকর।" পোস্টগুলোতে হ্যাশট্যাগ দিয়ে 'সেভ বাংলাদেশ আর্মি' লেখা রয়েছে। ফ্যাক্টওয়াচের অনুসন্ধানে দেখা যাচ্ছে, এটি ইন্দোনেশিয়ার একটি ক্রিপ্টেড ভিডিও।       

এ ধরনের পোস্ট দেখতে পাবেন, এখানে, এখানে

ভিডিওটি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, একটি কালভার্টের ওপর অস্ত্র ও মোটরসাইকেলসহ কয়েকজন ব্যক্তি মোটরসাইকেল ছিনতাইয়ের চেষ্টা করছেন। সাধারণত এ ধরনের ঘটনার ভিডিওর ক্ষেত্রে ফ্রেম এত স্থির ও স্পষ্ট হয় না। ফলে, পুরো ঘটনাটি সাজানো গোছানো মনে হয়।

ভিডিওটির কয়েকটি কি-ফ্রেমের সাহায্যে রিভার্স ইমেজ সার্চে ইউটিউবে একটি ভিডিও পাওয়া যায়। এই ভিডিওটির সঙ্গে আলোচ্য  ভিডিওটির মিল রয়েছে।

 ‘Bang Tampue‘ নামের এই ইউটিউব চ্যানেলে এ ধরনের আরও ভিডিও রয়েছে। কয়েকটি দেখুন, এখানে, এখানেএখানে

চ্যানেলটির ডেসক্রিপশন অংশে ইন্দোনেশীয় ভাষায় যা লেখা তার অনুবাদ করলে দাঁড়ায়- “ভিডিওতে ব্যবহৃত সরঞ্জামগুলো কোনো বিপজ্জনক বস্তু নয়, এগুলো কেবল খেলনা মাত্র। এই চ্যানেলের সব ভিডিও কেবল কনটেন্ট হিসেবে তৈরি এবং এগুলো কোনো বাস্তব ঘটনা নয়। এই ভিডিওগুলো তৈরির উদ্দেশ্য হলো সচেতনতা বৃদ্ধি ও শিক্ষা দেওয়া, যাতে আমরা যেখানেই থাকি না কেন সর্বদা সতর্ক থাকতে পারি। আইন অমান্যকারীদের প্রতি এটি একটি বার্তা—যাতে তারা তাদের অপকর্ম বন্ধ করে। কারণ তাদের শেষ পর্যন্ত পুলিশের মুখোমুখি হতে হবে এবং পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবে।” 

ডেসক্রিপশন অংশে একটি ফোন নম্বর রয়েছে, অনুসন্ধানে দেখা যায়, এটি ইন্দোনেশিয়ার নম্বর। 

ফেসবুকে অনুসন্ধান করে ‘Bang Tampue’ নামের একটি আইডি পাওয়া যায়। এই আইডিতেও এবাউট সেকশনে ইন্দোনেশিয়া থেকে চালানোর তথ্য পাওয়া যায়। 

কাজেই আলোচিত ভিডিওটি বাংলাদেশের নয়। ফলে এ ধরনের পোস্টগুলোকে মিথ্যা হিসেবে চিহ্নিত করছে ফ্যাক্টওয়াচ। 

Claim:
সম্প্রতি ফেসবুকে একটি সহিংসতার ভিডিও শেয়ার করে ক্যাপশনে বলা হচ্ছে, "পাহাড়ি উপজাতিরা কতটা ভয়ংকর।" পোস্টগুলোতে হ্যাশট্যাগ দিয়ে 'সেভ বাংলাদেশ আর্মি' লেখা রয়েছে।

Claimed By:
Facebook Users

Rating:
False

এই নিবন্ধটি ফেসবুকের ফ্যাক্ট-চেকিং প্রোগ্রামের নীতি মেনে লেখা হয়েছে। এর উপর ভিত্তি করে ফেসবুক যে ধরণের বিধিনিষেধ আরোপ করতে পারে, সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন এখানে

এছাড়া এই নিবন্ধ সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন, সম্পাদনা কিংবা আরোপিত বিধিনিষেধ তুলে নেয়ার জন্য আবেদন করতে এই লিঙ্কের সাহায্য নিন।

কোনো তথ্যের সত্যতা যাচাই করতে আমাদেরকে
ইমেইল করুনঃ contact@fact-watch.org
অথবা ফেইসবুকে মেসেজ দিনঃ facebook.com/fwatch.bangladesh