মিয়ানমারের বিমান হামলার দাবিতে পুরোনো বিস্ফোরণের ভিডিও প্রচার

19
মিয়ানমারের বিমান হামলার দাবিতে পুরোনো বিস্ফোরণের ভিডিও প্রচার
মিয়ানমারের বিমান হামলার দাবিতে পুরোনো বিস্ফোরণের ভিডিও প্রচার

চলতি বছরের  ১ জুলাই বাংলাদেশ সীমান্ত ঘেঁষা মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে বিমান হামলা চালিয়েছে দেশটির সেনাবাহিনী। এই আবহে সম্প্রতি ফেসবুকে একটি বিস্ফোরণের ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। ক্যাপশনে দাবি করা হচ্ছে, এটি টেকনাফ সীমান্তের ওপারে মিয়ানমারের বিমান হামলার দৃশ্য। তবে ফ্যাক্টওয়াচের অনুসন্ধানে দেখা গেছে যে, এই ভিডিওটির সাথে ১ জুলাইয়ের বিমান হামলার কোনো সম্পর্ক নেই। এটি মিয়ানমারের সাগাইং অঞ্চলের হোমালিন নদী বন্দরে তেলবাহী ট্যাংকারে ঘটা একটি অগ্নিকাণ্ড ও বিস্ফোরণের পুরোনো ভিডিও।

ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া এমন কিছু পোস্ট দেখুন এখানে, এখানে, এখানে, এখানে এবং এখানে। 

ফ্যাক্টওয়াচের অনুসন্ধানঃ 

এই ভিডিওটি সম্পর্কে জানার জন্য শুরুতেই এর বিভিন্ন কি-ফ্রেম ব্যবহার করে রিভার্স ইমেজ সার্চ করা হয়। এর ফলে WIC News নামের একটি ফেসবুক পেজে ভাইরাল ভিডিওটির একটি বর্ধিত সংস্করণ পাওয়া যায়। চলতি বছরের ২১ এপ্রিল আপলোডকৃত ভিডিওর ক্যাপশনে উল্লেখ করা হয়, ভিডিওটি মিয়ানমারের সাগাইং অঞ্চলের হোমালিন বন্দরে ১০টিরও বেশি জ্বালানি ট্যাঙ্কারে বিস্ফোরণের ফলে আগুন লেগে যাওয়ার সময়কার।

এই ঘটনা সম্পর্কে ‘The Financial Express‘-এর অফিশিয়াল ইউটিউব চ্যানেলেও একটি ভিডিও রিপোর্ট পাওয়া যায়। উক্ত ভিডিওর বিবরণী থেকে জানা যায়, মিয়ানমারের সাগাইং অঞ্চলের হোমালিন নদী বন্দরে গত ২০ এপ্রিল তেলবাহী ট্যাংকারে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটেছিল। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ‘Asia News Network‘- এর রিপোর্ট অনুযায়ী, চলতি বছরের ২০ এপ্রিল হোমালিন (Homalin) শহরের ‘মিওমা মনাস্ট্রি’ নদী বন্দরে (Myoma Monastery ) এই দুর্ঘটনা ঘটে। বন্দরে নোঙর করে রাখা তেলবাহী ট্যাংকার ও কার্গো জাহাজে আচমকা আগুন লেগে এই ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনাটি ঘটে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ‘Anadolu Agency‘ তে উল্লেখ করা প্রাথমিক অনুসন্ধান ও স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, জাহাজে জ্বালানি তেল লোড করার সময় এই আগুনের সূত্রপাত হয়। জাহাজগুলোতে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি সংরক্ষিত থাকায় তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং একের পর এক শক্তিশালী বিস্ফোরণের সৃষ্টি করে। দুর্ঘটনায় অন্তত ২০টি তেলবাহী ট্যাংকার এবং বেশ কয়েকটি পণ্যবাহী কার্গো বোট পুড়ে যায়। 

অন্যদিকে, ভৌগোলিক অবস্থান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বাংলাদেশের টেকনাফ সীমান্তের ওপারে মূলত মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য অবস্থিত। আর হোমালিন শহর মিয়ানমারের সাগাইং অঞ্চলে অবস্থিত। এই অঞ্চল থেকে সবচেয়ে কাছের সীমান্তবর্তী দেশ হচ্ছে ভারত। বাংলাদেশের টেকনাফের সাথে এর সরাসরি কোনো সীমান্ত নেই। গুগল ম্যাপের মাধ্যমে দূরত্ব পরিমাপ করে ধারণা পাওয়া যায় টেকনাফ থেকে হোমালিন শহরের দূরত্ব প্রায় ৫২৩.৫৮ কিলোমিটার  (স্ট্রেট লাইন)। সুতরাং, এত দূরের একটি অঞ্চলের দুর্ঘটনার দৃশ্য টেকনাফ সীমান্ত থেকে দেখা যাওয়া ভৌগোলিকভাবে সম্ভব নয়।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের ১ জুলাই রাত সোয়া নয়টার দিকে রাখাইন রাজ্যের মংডু শহরতলিতে আরাকান আর্মির (এএ) অবস্থান লক্ষ্য করে হঠাৎ বিমান হামলা চালায় দেশটির সেনাবাহিনী। কিন্তু ভাইরাল ভিডিওতে দেখানো বিস্ফোরণের ঘটনাটি ঘটেছিল  ২০ এপ্রিল।  

অর্থাৎ, ভিডিওতে বিস্ফোরণের ঘটনার সাথে রাখাইন রাজ্যে বিমান হামলার সম্পর্ক নেই। তাই এমন দাবিতে শেয়ার করা ভিডিওগুলোকে ফ্যাক্টওয়াচ মিথ্যা হিসেবে চিহ্নিত করছে।  

Claim:
টেকনাফ সীমান্তের ওপারে মিয়ানমারের বি'মান হা'ম'লা! চলছে উ'ত্তে'জনা

Claimed By:
Facebook Users

Rating:
False

এই নিবন্ধটি ফেসবুকের ফ্যাক্ট-চেকিং প্রোগ্রামের নীতি মেনে লেখা হয়েছে। এর উপর ভিত্তি করে ফেসবুক যে ধরণের বিধিনিষেধ আরোপ করতে পারে, সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন এখানে

এছাড়া এই নিবন্ধ সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন, সম্পাদনা কিংবা আরোপিত বিধিনিষেধ তুলে নেয়ার জন্য আবেদন করতে এই লিঙ্কের সাহায্য নিন।

কোনো তথ্যের সত্যতা যাচাই করতে আমাদেরকে
ইমেইল করুনঃ contact@fact-watch.org
অথবা ফেইসবুকে মেসেজ দিনঃ facebook.com/fwatch.bangladesh