একটি শিশু নিথর ও বিবস্ত্র অবস্থায় মাটিতে পড়ে আছে, সম্প্রতি এ ধরনের একটি ভিডিও ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে। ক্যাপশনে দাবি করা হচ্ছে, ময়মনসিংহে নয় বছরের শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে। তবে ফ্যাক্টওয়াচের অনুসন্ধানে পাওয়া যায়, ভিডিওটি বাংলাদেশের নয় বরং ভারতের বিহারে গতমাসে ঘটে যাওয়া শিশু হত্যার দৃশ্য।
দাবিকৃত ভিডিওতে দেখা যায়, একটি ছোট্ট মেয়ে লাল জামা গায়ে মাটিতে নিথর অবস্থায় পড়ে আছে। তাকে ঘিরে কয়েকজন মানুষ দাঁড়িয়ে আছেন। একজন ব্যক্তি একটি সবুজ রঙের কাঠি দিয়ে মেয়েটির মুখের উপর জামা দিচ্ছেন আবার সরিয়ে নিচ্ছেন। শিশুটির কোমরের নিচের অংশ বিবস্ত্র অবস্থায় দেখা যায়।
অনুসন্ধানের শুরুতে, ভিডিওটির একটি কি-ফ্রেম এর সাহায্যে রিভার্স ইমেজ সার্চ করা হয়। সার্চে ‘Hasan Shabab’ নামের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে গত ১ মার্চ পোস্ট করা একটি ভিডিও খুঁজে পাওয়া যায়। ভিডিওটির সঙ্গে দাবিকৃত ভিডিওর মিল রয়েছে। উভয় ভিডিওতে লাল জামা পরা শিশুকে মাটিতে পড়ে থাকতে দেখা যায়। ভিডিওটির ক্যাপশনে বলা হয়, সন্দলপুর গ্রামে এক কিশোরীকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে।
পরবর্তীতে, সংশ্লিষ্ট কি-ওয়ার্ড সার্চ করে এ বছরের ২ মার্চ প্রকাশিত ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘ইন্ডিয়া টুডে’র একটি প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়। “মাদক সেবনের অভিযোগ করায় বিহারের এক কিশোর ৯ বছর বয়সী এক শিশুর গলা কেটেছে” শিরোনামের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, বিহারের কাটিহার জেলার একটি মাঠে নয় বছর বয়সী এক বালিকার মৃতদেহ পাওয়া যায়। মামলায় অভিযুক্ত ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরকে আটক করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, ঘটনাটি ভারতের বিহারে কোলাসি থানার সন্দলপুর গ্রামে ঘটেছে। পুলিশ জানান, শিশুটি একদিন আগে বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয়েছিল। পরদিন কাছের একটি ভুট্টা ক্ষেত থেকে তার গলাকাটা মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়।
অর্থাৎ, দাবিকৃত ভিডিওগুলো মূলত ভারতের বিহারের শিশু হত্যার দৃশ্য, বাংলাদেশের ময়মনসিংহের নয়।
তাই, ময়মনসিংহে ৯ বছরের শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যার দাবিতে প্রচারিত ভিডিওগুলোকে ফ্যাক্টওয়াচ “মিথ্যা” বলে চিহ্নিত করেছে।
প্রতিবেদনটি লিখেছেন, শিবলী সাদিক সিফাত।
Claim: একটি শিশু নিথর ও বিবস্ত্র অবস্থায় মাটিতে পড়ে আছে, সম্প্রতি এ ধরনের একটি ভিডিও ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে। ক্যাপশনে দাবি করা হচ্ছে, ময়মনসিংহে নয় বছরের শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে।
Claimed By: Facebook Users
Rating: False
এই নিবন্ধটি ফেসবুকের ফ্যাক্ট-চেকিং প্রোগ্রামের
নীতি মেনে লেখা হয়েছে। এর উপর ভিত্তি করে ফেসবুক যে ধরণের বিধিনিষেধ আরোপ করতে পারে, সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন এখানে।
এছাড়া এই নিবন্ধ সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন, সম্পাদনা কিংবা আরোপিত বিধিনিষেধ তুলে নেয়ার জন্য আবেদন করতে এই লিঙ্কের সাহায্য নিন।
কোনো তথ্যের সত্যতা যাচাই করতে আমাদেরকে ইমেইল করুনঃ contact@fact-watch.org অথবা ফেইসবুকে মেসেজ দিনঃ facebook.com/fwatch.bangladesh