নারীকে আঘাত করার এই ভিডিওটি বাংলাদেশের নয়, ভারতের

15
নারীকে আঘাত করার এই ভিডিওটি বাংলাদেশের নয়, ভারতের
নারীকে আঘাত করার এই ভিডিওটি বাংলাদেশের নয়, ভারতের

একজন নারী হেঁটে যাচ্ছিলেন, পেছন থেকে এক ব্যক্তি দৌড়ে এসে তাকে আঘাত করে দৌড়ে পালিয়ে যাচ্ছেন, এ ধরনের একটি ভিডিও সম্প্রতি ফেসবুকে শেয়ার করা হচ্ছে। ক্যাপশনে বলা করা হচ্ছে, নিরাপদ নাই আমার মা বোন, এভাবেই চলতি পথে দিনে দুপুরে হচ্ছে হত্যা খুন। ভিডিওটিতে জায়গার নাম উল্লেখ না থাকায় অনেকেই এটিকে বাংলাদেশের ঘটনা বলে বিভ্রান্ত হচ্ছেন। তবে ফ্যাক্টওয়াচের অনুসন্ধানে দেখা যাচ্ছে, এটি ভারতের ঘটনা।  

এ ধরনের কয়েকটি পোস্ট এখানে, এখানে, এখানে। 

ভিডিওটির কয়েকটি কি-ফ্রেম নিয়ে রিভার্স ইমেজ সার্চে ভারতের ‘Mumbai Now’ নামের সংবাদমাধ্যমে একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। ২০২৬ সালের ১৩ জুন প্রকাশিত এই প্রতিবেদনের শিরোনাম- “ক্যামেরায় ধরা পড়ল ভয়াবহ দৃশ্য: মহারাষ্ট্রের পালঘরে কালেক্টর অফিসের কর্মীকে কাস্তে দিয়ে কোপ, অভিযুক্ত পলাতক”। 

প্রতিবেদনটি থেকে জানা যায়, স্নেহাল সাওয়ান্ত (Snehal Sawant) নামের ওই ভুক্তভোগী তরুণী জেলা কালেক্টর অফিসের একজন কর্মী। হামলায় তিনি গুরুতর জখম হয়েছেন এবং বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এই ঘটনার পেছনে একতরফা প্রেমের জের থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে সন্দেহ করা হচ্ছে। ২৯ বছর বয়সী অমল মূলে (Amol Mule) নামের এক যুবক ওই তরুণীকে কাস্তে দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, হামলার পর গুরুতর আঘাত পেয়ে স্নেহাল ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত তার সাহায্যে এগিয়ে আসেন এবং তাকে বোইসার ‘অধিকারী লাইফলাইন হাসপাতালে’ (Adhikari Lifeline Hospital in Boisar) নিয়ে যান। 

পরবর্তী অনুসন্ধানে প্রাসঙ্গিক কি-ওয়ার্ড সার্চে ইন্ডিয়া টুডের একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। ১২ জুন প্রকাশিত এই প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, সম্পর্কের টানাপোড়েন নিয়ে রাস্তায় প্রেমিকাকে ছুরিকাঘাত করলেন যুবক, মহারাষ্ট্রে এই ঘটনা আলোচনার জন্ম দিয়েছে। পুলিশ প্রাথমিকভাবে একে সম্পর্কের টানাপোড়েনজনিত বিরোধ বলে সন্দেহ করছে এবং ঘটনাটি খতিয়ে দেখার পাশাপাশি পলাতক অভিযুক্তকে গ্রেফতার করতে পুলিশের কয়েকটি দল তল্লাশি চালাচ্ছে। 

কিন্তু ভাইরাল এসব ফেসবুক পোস্টে জায়গার নাম উল্লেখ না থাকায় অনেকেই এটিকে বাংলাদেশের ঘটনা ভেবে বিভ্রান্ত হচ্ছেন। পোস্টগুলোর কমেন্ট দেখলে বিষয়টি পরিষ্কার লক্ষ্য করা যায়।  

কাজেই ঘটনাটি বাংলাদেশের নয়, ভারতের। বাংলাদেশের ঘটনা বলে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হচ্ছে বলে পোস্টগুলোকে বিভ্রান্তিকর সাব্যস্ত করছে ফ্যাক্টওয়াচ।  

Claim:
একজন নারী হেঁটে যাচ্ছিলেন, পেছন থেকে এক ব্যক্তি দৌড়ে এসে তাকে আঘাত করে দৌড়ে পালিয়ে যাচ্ছেন, এ ধরনের একটি ভিডিও সম্প্রতি ফেসবুকে শেয়ার করা হচ্ছে। ক্যাপশনে বলা করা হচ্ছে, নিরাপদ নাই আমার মা বোন, এভাবেই চলতি পথে দিনে দুপুরে হচ্ছে হত্যা খুন। ভিডিওটিতে জায়গার নাম উল্লেখ না থাকায় অনেকেই এটিকে বাংলাদেশের ঘটনা বলে বিভ্রান্ত হচ্ছেন।

Claimed By:
Facebook Users

Rating:
Mostly false

এই নিবন্ধটি ফেসবুকের ফ্যাক্ট-চেকিং প্রোগ্রামের নীতি মেনে লেখা হয়েছে। এর উপর ভিত্তি করে ফেসবুক যে ধরণের বিধিনিষেধ আরোপ করতে পারে, সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন এখানে

এছাড়া এই নিবন্ধ সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন, সম্পাদনা কিংবা আরোপিত বিধিনিষেধ তুলে নেয়ার জন্য আবেদন করতে এই লিঙ্কের সাহায্য নিন।

কোনো তথ্যের সত্যতা যাচাই করতে আমাদেরকে
ইমেইল করুনঃ contact@fact-watch.org
অথবা ফেইসবুকে মেসেজ দিনঃ facebook.com/fwatch.bangladesh