ভারতে বাংলাদেশী রোগীদের নির্যাতনের দাবিতে ভুয়া ভিডিও 

467
ভারতে বাংলাদেশী রোগীদের নির্যাতনের দাবিতে ভুয়া ভিডিও 
ভারতে বাংলাদেশী রোগীদের নির্যাতনের দাবিতে ভুয়া ভিডিও 

ভারতে চিকিৎসা নিতে যাওয়া বাংলাদেশী সন্দেহে একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগী ও তাদের স্বজনদের নির্মমভাবে নির্যাতন করছে ভারতীয় উগ্র হিন্দুত্ববাদী সন্ত্রাসীরা- এমন দাবিতে সামাজিক মাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। তবে অনুসন্ধানে দেখা যাচ্ছে, এটি ভারতের পাঞ্জাব রাজ্যের ‘দেরা বাসি সিভিল হাসপাতাল’ এর ঘটনা। সেখানে গত ১২ এপ্রিল, ২০২৫ এ স্থানীয় মুকুন্দপুর গ্রামের দুই দল গ্রামবাসী পূর্বের কলহের জের ধরে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এই ঘটনায় পুলিশ ১৭ জনকে অভিযুক্ত করেছে, যারা সবাই ভারতীয় নাগরিক। যেহেতু এখানে বাংলাদেশী রোগীদের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই, তাই ফ্যাক্টওয়াচ এ সংক্রান্ত পোস্টগুলোকে মিথ্যা হিসেবে সাব্যস্ত করছে।

গুজবের উৎস

ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি পোস্ট দেখতে পাবেন এখানে, এখানে, এখানে, এখানে, এখানে, এখানে

৩ মিনিট ৩০ সেকেন্ডের একটি ভিডিওযুক্ত এসব পোস্টের ক্যাপশনে বলা হয়েছে, “ভারতে চিকিৎসা নিতে যাওয়া বাংলাদেশি সন্দেহে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগী ও তাদের স্বজনদের নির্ম*মভাবে নির্যা*তন করছে ভারতীয় উ*গ্র হিন্দু*ত্ববাদী সন্ত্রা*সীরা”। (বানান অবিকৃত রাখা হয়েছে)

৩ মিনিট ৩০ সেকেন্ডের ভিডিওতে একটি হাসপাতাল সদৃশ স্থানে কিছু যুবককে হাসপাতালের বিভিন্ন উপকরণ দিয়ে মারপিট করতে দেখা যাচ্ছে। এ সময় কয়েকজনকে হিন্দি বা স্থানীয় অন্য কোনো ভাষায় কথা বলতে শোনা যায়। ভিডিওর শেষ পর্যায়ে খাকি পোশাক এবং পাগড়ি পরিহিত কিছু পুলিশ সদস্যকে দেখা যায়।

ক্যাপশনে এই ঘটনার সুনির্দিষ্ট স্থান বা দিন তারিখ জানানো না হলেও, এটা ইঙ্গিত করা হয়েছে যে এখানে আক্রান্ত ব্যক্তিরা বাংলাদেশী এবং তারা চিকিৎসার জন্য এখানে এসেছেন।

ফ্যাক্টওয়াচের অনুসন্ধান

গত ১২ এপ্রিল, ২০২৫ এ ভারতের পাঞ্জাবের দেরা বাসি শহরের দেরা বাসি (DERA BASSI) সিভিল হাসপাতালে দুই দল গ্রামবাসী সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। স্থানীয় মুকুন্দপুর গ্রামে এই সংঘর্ষের সূচনা হয়েছিল এবং পরবর্তীতে আহতরা হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসার পরে সেখানেও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

এনডিটিভির ইউটিউব চ্যানেলে এই ঘটনার একটি ভিডিও ফুটেজ প্রকাশিত হয়েছে। এই ফুটেজের সাথে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওর সাদৃশ্য রয়েছে। উভয় ভিডিওতেই একই ব্যক্তিদের এবং একই স্থান দেখা যাচ্ছে। তুলনা করার জন্য কয়েকটি দৃশ্য তুলে ধরা হল। 

এই ঘটনা নিয়ে ভারতীয় বিভিন্ন গণমাধ্যমে (যেমন- দ্য ট্রিবিউন ,ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস ,হিন্দুস্তান টাইমস , টাইমস অফ ইণ্ডিয়া ইত্যাদি) সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে।এ সকল সংবাদ থেকে জানা যাচ্ছে, বিগত বছরে অনুষ্ঠিত পঞ্চায়েত নির্বাচন এবং স্থানীয় বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে আম আদমি পার্টি এবং কংগ্রেসের দুই দল কর্মীদের মধ্যে এই সংঘাতের ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় ১৭ জনকে আসামী করা হয়েছিল, যারা সবাই স্থানীয় নাগরিক। অর্থাৎ, কোনো বাংলাদেশী এই ঘটনায় সম্পৃক্ত ছিলেন না।

বাংলাদেশে এই ভিডিওটি অতীতেও ভিন্ন দাবিতে ভাইরাল হয়েছিল। সে সময় দাবি করা হয়েছিল, হাসপাতালে আক্রান্ত এই ব্যক্তিরা যুবলীগ কর্মী। সে সময়ে এই গুজব নিয়ে আজকের পত্রিকা এবং বুম বিডি ফ্যাক্টচেক রিপোর্ট প্রকাশ করেছিল। এবার ভিন্ন দাবিতে সেই একই ভিডিও ভাইরাল হয়েছে।

সঙ্গত কারনে ফ্যাক্টওয়াচ এ সকল পোস্টকে মিথ্যা সাব্যস্ত করছে।

উল্লেখ্য, ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পট-পরিবর্তনের পর থেকে ভারত সরকার বাংলাদেশী নাগরিকদের ভিসার সংখ্যা উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমিয়ে দিয়েছে। ফলে ভারতে বাংলাদেশী রোগীর যাতায়াত এখন অনেক কম। বিগত কয়েক মাসে আগরতলা এবং মেখলিগঞ্জ থেকে কয়েকজন বাংলাদেশী পর্যটকের হেনস্থার সংবাদ পাওয়া গেলেও, বাংলাদেশী রোগীদের উপর মারধরের ঘটনা নির্ভরযোগ্য কোনো মাধ্যমে পাওয়া যায়নি।

Claim:
ভারতে চিকিৎসা নিতে যাওয়া বাংলাদেশী সন্দেহে একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগী ও তাদের স্বজনদের নির্মমভাবে নির্যাতন করছে ভারতীয় উগ্র হিন্দুত্ববাদী সন্ত্রাসীরা- এমন দাবিতে সামাজিক মাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। তবে অনুসন্ধানে দেখা যাচ্ছে, এটি ভারতের পাঞ্জাব রাজ্যের ‘দেরা বাসি সিভিল হাসপাতাল’ এর ঘটনা। সেখানে গত ১২ এপ্রিল, ২০২৫ এ স্থানীয় মুকুন্দপুর গ্রামের দুই দল গ্রামবাসী পূর্বের কলহের জের ধরে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এই ঘটনায় পুলিশ ১৭ জনকে অভিযুক্ত করেছে, যারা সবাই ভারতীয় নাগরিক। যেহেতু এখানে বাংলাদেশী রোগীদের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই, তাই ফ্যাক্টওয়াচ এ সংক্রান্ত পোস্টগুলোকে মিথ্যা হিসেবে সাব্যস্ত করছে।

Claimed By:
Facebook User

Rating:
False

এই নিবন্ধটি ফেসবুকের ফ্যাক্ট-চেকিং প্রোগ্রামের নীতি মেনে লেখা হয়েছে। এর উপর ভিত্তি করে ফেসবুক যে ধরণের বিধিনিষেধ আরোপ করতে পারে, সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন এখানে

এছাড়া এই নিবন্ধ সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন, সম্পাদনা কিংবা আরোপিত বিধিনিষেধ তুলে নেয়ার জন্য আবেদন করতে এই লিঙ্কের সাহায্য নিন।

কোনো তথ্যের সত্যতা যাচাই করতে আমাদেরকে
ইমেইল করুনঃ contact@fact-watch.org
অথবা ফেইসবুকে মেসেজ দিনঃ facebook.com/fwatch.bangladesh