ইসরায়েলি পাইলটকে মারধরের দাবিতে যুক্তরাষ্ট্রের বিক্ষোভের ভিডিও প্রচার 

28
ইসরায়েলি পাইলটকে মারধরের দাবিতে যুক্তরাষ্ট্রের বিক্ষোভের ভিডিও প্রচার 
ইসরায়েলি পাইলটকে মারধরের দাবিতে যুক্তরাষ্ট্রের বিক্ষোভের ভিডিও প্রচার 

সম্প্রতি ফেসবুকে একটি ভিডিওতে দাবি করা হচ্ছে, ইসরায়েলি পাইলটকে মারধর করছে ইরানি জনগণ। তবে ফ্যাক্টওয়াচের অনুসন্ধান বলছে, ভিডিওটি যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিক্ষোভের ভিডিও এবং ভিডিওতে থাকা ব্যক্তি ইসারায়েলি পাইলট নন বরং যুক্তরাষ্ট্রের একজন রাজনৈতিক কর্মী । 

এমন কিছু ভিডিও দেখুন এখানে, এখানে, এখানে, এখানে, এখানে। 

ফ্যাক্টওয়াচ টিম প্রথমে, দাবিকৃত ভিডিওগুলোকে পর্যবেক্ষণ করে। ভিডিওগুলোতে দাবি করা হচ্ছে, বিমান বিধ্বস্ত হওয়ায় ইসারায়েলি পাইলট ইরানে ভূপাতিত হয়েছিল। ইরানের জনগণ তাকে আটক করে মারধর করছে। প্রচারিত ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, একজন লোকের মাথায় এক ব্যক্তি লাথি দিচ্ছে আর কিছু লোক তাকে ভিড় থেকে দূরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে। বিষয়টিকে কেন্দ্র করে অনেককে ছবি ও ভিডিও ধারণ করতে দেখা যায়।  

অনুসন্ধানের শুরুতে, প্রাসঙ্গিক কি-ওয়ার্ড সার্চ করে ইরানি জনগণ কর্তৃক ইসরায়েলের কোনো পাইলটকে মারধরের দাবির পক্ষে গণমাধ্যম বা বিশ্বস্ত সূত্রে কোনো তথ্য খুঁজে পাওয়া যায় না। পরবর্তীতে, ভিডিওটির একটি ফ্রেম রিভার্স ইমেজ সার্চ করলে ইন্সটাগ্রামে একটি ভিডিও পাওয়া যায়। যুক্তরাষ্ট্রের সাংবাদিক স্টেফানি কিথ-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে ১৮ জানুয়ারি প্রকাশিত ভিডিওটির সাথে এই ভিডিওটির মিল পাওয়া যায়। কিথ তার পোস্টে দাবি করেন, ডানপন্থী ইনফ্লুয়েন্সার জেক ল্যাং (Jake Lang), মিনিয়াপোলিস সিটি হলে তারই আয়োজিত একটি ছোট বিক্ষোভ থেকে পালানোর ​​সময় মাথায় লাথি খান। ভিডিওতে থাকা লাথি মারার দৃশ্যের সাথে দাবিকৃত ভিডিওর দৃশ্যের মিল রয়েছে। 

বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত অনুসন্ধানে সিএনএন প্রকাশিত একটি ভিডিও প্রতিবেদন পাওয়া যায়। প্রতিবেদনে বলা হয়, পবিত্র কুরআন পুড়িয়ে প্রদর্শনী করার ঘোষণা দিয়ে বিক্ষোভ কর্মসূচির আয়োজন করেন তিনি। পরবর্তীতে বিরোধী এক গোষ্ঠী তার উদ্যোগে বাঁধা দেয় এবং পালিয়ে যেতে বাধ্য করে। এসময় ভিডিওতে তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখা যায়। 

একই বিষয় নিয়ে ১৮ জানুয়ারী প্রকাশিত আল-জাজিরার একটি প্রতিবেদনে জেক ল্যাংয়ের একটি ছবি পোস্ট করা হয়। ছবিটির সাথে দাবিকৃত ভিডিওটির দৃশ্যের মিল রয়েছে।  

অনুসন্ধানের শেষ পর্যায়ে, ইরানে বিমান বিধ্বস্ত পাইলট নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা করলে বিবিসি প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। প্রতিবেদনে জানা যায়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাতের সময় শুক্রবার, ৩ এপ্রিল ইরান একটি মার্কিন F-15E যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করে। বিমানটিতে দু’জন ক্রু ছিলেন। ঘটনার পরপরই পাইলটকে দ্রুত উদ্ধার করা সম্ভব হয়। তবে অন্যজন, উইপনস সিস্টেমস অফিসার, ইরানের এলাকার ভেতরে নিখোঁজ হন। আহত অবস্থায় ওই অফিসারকে খুঁজে বের করতে যুক্তরাষ্ট্র একটি বড় পরিসরের রেসকিউ অপারেশন চালায়। শেষ পর্যন্ত দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর নিখোঁজ অফিসারকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়। দুই ক্রুই জীবিত ফিরে আসতে সক্ষম হয়েছে বলে দাবি করেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।

তাই, যুক্তরাষ্ট্রের মিনিয়াপোলিসে জেক ল্যাং-এর ডাকা বিক্ষোভের সময়কার ভিডিওকে ইরানি জনগণ কর্তৃক ইসরায়েলের পাইলটকে মারধরের দৃশ্য দাবিতে প্রচারকৃত ভিডিওগুলোকে ফ্যাক্টওয়াচ মিথ্যা বলে চিহ্নিত করেছে। 

প্রতিবেদনটি লিখেছেন ফ্যাক্টওয়াচের ফ্যাক্টচেকার শিবলী সাদিক সিফাত

Claim:
সম্প্রতি ফেসবুকে একটি ভিডিওতে দাবি করা হচ্ছে, ইসরায়েলি পাইলটকে মারধর করছে ইরানি জনগণ।

Claimed By:
Facebook Users

Rating:
False

এই নিবন্ধটি ফেসবুকের ফ্যাক্ট-চেকিং প্রোগ্রামের নীতি মেনে লেখা হয়েছে। এর উপর ভিত্তি করে ফেসবুক যে ধরণের বিধিনিষেধ আরোপ করতে পারে, সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন এখানে

এছাড়া এই নিবন্ধ সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন, সম্পাদনা কিংবা আরোপিত বিধিনিষেধ তুলে নেয়ার জন্য আবেদন করতে এই লিঙ্কের সাহায্য নিন।

কোনো তথ্যের সত্যতা যাচাই করতে আমাদেরকে
ইমেইল করুনঃ contact@fact-watch.org
অথবা ফেইসবুকে মেসেজ দিনঃ facebook.com/fwatch.bangladesh