নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের (নাসিক) সাবেক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীকে জুলাই অভ্যুত্থানে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড ও হামলার ঘটনায় একাধিক মামলায় গত ৯ মে (শুক্রবার) গ্রেফতার করা হয়। তবে গতকাল সোমবার (১৯ মে) রাত থেকে কিছু ফেসবুক পোস্টে দাবি করা হচ্ছে, তিনি জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। এর সমর্থনে যমুনা টিভির আদলে একটি ফটোকার্ডও ছড়িয়েছে। গতকালের তারিখ দেওয়া ফটোকার্ডটিতে লেখা, 'জামিনে মুক্তি পেলেন এমপি আইভি।' কিন্তু ফ্যাক্টওয়াচের অনুসন্ধানে দেখা যায়, সেলিনা হায়াৎ আইভীর জামিন পাওয়ার দাবিটি সঠিক নয়। যমুনা টিভিও এমন কোনো ফটোকার্ড প্রকাশ করেনি। আইভীর আইনজীবী নারায়ণগঞ্জ বারের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মাহবুবুর রহমান ফ্যাক্টওয়াচকে নিশ্চিত করেছেন, এটি গুজব।
এই দাবিতে ফেসবুকে যমুনা টিভির প্রচারিত কার্ডটি যাচাই করে দেখা যায়, এতে তারিখ উল্লেখ করা ১৯ মে, ২০২৫। এই তারিখ সূত্রে টিভি চ্যানেলটির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজসহ অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টগুলো খুঁজে এমন কোনো ফটোকার্ড পাওয়া যায়নি।
যমুনা টিভির প্রচলিত ফটোকার্ডের ফন্ট (ডানে), ভুয়া ফটোকার্ড (বামে)
ফটোকার্ডটিতে শিরোনামে ব্যবহৃত ফন্টের সঙ্গেও যমুনা টিভির অন্যান্য ফটোকার্ডে ব্যবহৃত ফন্টের মিল নেই। প্রাসঙ্গিক কি-ওয়ার্ড সার্চেও দেশীয় কোনো সংবাদমাধ্যমেও আইভীর জামিন পাওয়ার দাবিটির কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি।
ফেসবুকে সূত্রহীন দাবি
অপরদিকে ফেসবুকে প্রচারিত দাবিগুলোর বিপরীতেও কোনো সূত্র উল্লেখ করা হয়নি। বরং প্রাসঙ্গিক কি-ওয়ার্ড সার্চে দৈনিক প্রথম আলোর ওয়েবসাইটে আইভীর গ্রেপ্তার নিয়ে গতকাল সোমবার (১৯ মে) প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়।
প্রতিবেদনটি থেকে জানা যায়, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলন চলাকালে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে গুলিতে জুতা কারখানার শ্রমিক সজল মিয়া হত্যার ঘটনার প্রায় ১০ মাস পর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ২১২ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। এ মামলার একজন আসামী হলেন সেলিনা হোসেন আইভী। গত ১৬ মে নিহত ব্যক্তির মা রুনা বেগম বাদী হয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় এই হত্যা মামলা করেন। গতকাল মামলার বিষয়টি জানাজানি হয়।
গত শনিবার (১৭ মে) একই পত্রিকায় প্রকাশিত আরেকটি প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ওইদিন সেলিনা হায়াৎ আইভীকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে হত্যাসহ আরও দুটি মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। শনিবার বেলা ১১টার দিকে নারায়ণগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শহীদুল ইসলাম চৌধুরীর আদালতে শুনানি শেষে তাকে এসব মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
এ নিয়ে দেশের একাধিকসংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। তবে তার জামিন পাওয়া নিয়ে কোনো সংবাদমাধ্যমেই নির্ভরযোগ্য কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
যা বললেন আইভীর আইনজীবী
দাবিটির অধিকতর সত্যতা যাচাইয়ে ফ্যাক্টওয়াচ আইভীর আইনজীবী নারায়ণগঞ্জ বারের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মাহবুবুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করে। তিনি ফ্যাক্টওয়াচকে নিশ্চিত করেছেন, আইভীর জামিন পাওয়ার দাবিতে প্রচারিত তথ্যটি গুজব।
ফলে ফ্যাক্টওয়াচের অনুসন্ধানে এটি নিশ্চিত যে, নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের (নাসিক) সাবেক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর জামিন হয়েছে দাবিতে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া যমুনা টিভির আদলে তৈরি ফটোকার্ড ও তথ্য দুটিই মিথ্যা।
Claim: নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের (নাসিক) সাবেক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীকে জুলাই অভ্যুত্থানে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড ও হামলার ঘটনায় একাধিক মামলায় গত ৯ মে (শুক্রবার) গ্রেপ্তার করা হয়। তবে গতকাল সোমবার (১৯ মে) রাত থেকে কিছু ফেসবুক পোস্টে দাবি করা হচ্ছে, তিনি জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। এর সমর্থনে যমুনা টিভির আদলে একটি ফটোকার্ডও ছড়িয়েছে। গতকালের তারিখ দেওয়া ফটোকার্ডটিতে লেখা, 'জামিনে মুক্তি পেলেন এমপি আইভি।'
Claimed By: Facebook users
Rating: False
এই নিবন্ধটি ফেসবুকের ফ্যাক্ট-চেকিং প্রোগ্রামের
নীতি মেনে লেখা হয়েছে। এর উপর ভিত্তি করে ফেসবুক যে ধরণের বিধিনিষেধ আরোপ করতে পারে, সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন এখানে।
এছাড়া এই নিবন্ধ সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন, সম্পাদনা কিংবা আরোপিত বিধিনিষেধ তুলে নেয়ার জন্য আবেদন করতে এই লিঙ্কের সাহায্য নিন।
কোনো তথ্যের সত্যতা যাচাই করতে আমাদেরকে ইমেইল করুনঃ contact@fact-watch.org অথবা ফেইসবুকে মেসেজ দিনঃ facebook.com/fwatch.bangladesh