৭ দফাযুক্ত জুলাই সনদ অঙ্গীকারনামাটি এনসিপির নয়

439
৭ দফাযুক্ত জুলাই সনদ অঙ্গীকারনামাটি এনসিপির নয়
৭ দফাযুক্ত জুলাই সনদ অঙ্গীকারনামাটি এনসিপির নয়

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে বাংলাদেশে সংগঠিত হয় ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান। এ অভ্যুত্থানের পর এটির নেতৃত্বে থাকা শিক্ষার্থীদের একটি অংশ গঠন করে নতুন রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। সম্প্রতি এই দলের প্যাড ও নেতৃবৃন্দের স্বাক্ষরে ‘জুলাই সনদ অঙ্গীকারনামা’ শিরোনামে ৭ দফা দাবি সম্বলিত একটি অঙ্গীকারনামা ফেসবুকে প্রচার করা হচ্ছে। ফ্যাক্টওয়াচের অনুসন্ধানে দেখা যায়, এনসিপি এমন কোনো অঙ্গীকারনামা দেয়নি। দলটি শনিবার (২ আগস্ট) নিজেদের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

ফেসবুকে প্রচারিত এমন কিছু পোস্ট দেখুন এখানে, এখানে, এখানে, এখানেএখানে

ফেসবুকে প্রচারিত কথিত জুলাই অঙ্গীকারনামাটির সত্যতা যাচাই করতে গিয়ে এনসিপির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে আজ শনিবার (২ আগস্ট) একটি পোস্ট পাওয়া যায়।

পোস্টে কথিত অঙ্গীকারনামার একটি ছবিতে ‘ফেক প্রতীক’ যুক্ত করে এনসিপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ‘জাতীয় নাগরিক পার্টি – এনসিপি’র প্যাডে এরকম একটি বিজ্ঞপ্তি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়াচ্ছে পতিত ফ্যাসিবাদী শক্তির নেতাকর্মীরা। এটি মিথ্যা, অসত্য ও ভুয়া বিজ্ঞপ্তি।’

এ ছাড়া কথিত এই অঙ্গীকারনামার সঙ্গে এনসিপির বিভিন্ন সময়ে প্রচারিত বিজ্ঞপ্তির সঙ্গে তুলনামূলক বিশ্লেষণ করে দেখে ফ্যাক্টওয়াচ। এতে বেশকিছু অসঙ্গতি দেখা যায়। যেমন, কথিত অঙ্গীকারনামাটিতে কোনো স্মারক বা সূত্র নাম্বার ও তারিখ নেই। সেখানে থাকা এনসিপির নেতৃবৃন্দের স্বাক্ষরের নিচেও কোনো তারিখের উল্লেখ নেই। সাধারণত, এনসিপির বিভিন্ন বিজ্ঞপ্তিতে স্মারক বা সূত্র নাম্বার ও তারিখের উল্লেখ থাকতে দেখা যায়।

পাশাপাশি কথিত অঙ্গীকারনামাটিতে এনসিপির লোগো ব্যবহার করা হয়েছে। এনসিপির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত একাধিক বিজ্ঞপ্তি বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, দলটি তাদের বিজ্ঞপ্তিতে সাধারণত নিজেদের লোগো ব্যবহার করে না।

দেশের কোনো সংবাদমাধ্যমেও জুলাই অভ্যুত্থান নিয়ে কথিত এই অঙ্গীকারনামার কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি।

সার্বিক বিবেচনায় ফ্যাক্টওয়াচ, কথিত এই অঙ্গীকারনামাটিকে মিথ্যা হিসেবে চিহ্নিত করছে।

Claim:
সম্প্রতি এই দলের প্যাড ও নেতৃবৃন্দের স্বাক্ষরে ‘জুলাই সনদ অঙ্গীকারনামা’ শিরোনামে ৭টি দফা দাবি সম্বলিত একটি অঙ্গীকারনামা ফেসবুকে প্রচার হচ্ছে।

Claimed By:
Facebook Users

Rating:
False

এই নিবন্ধটি ফেসবুকের ফ্যাক্ট-চেকিং প্রোগ্রামের নীতি মেনে লেখা হয়েছে। এর উপর ভিত্তি করে ফেসবুক যে ধরণের বিধিনিষেধ আরোপ করতে পারে, সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন এখানে

এছাড়া এই নিবন্ধ সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন, সম্পাদনা কিংবা আরোপিত বিধিনিষেধ তুলে নেয়ার জন্য আবেদন করতে এই লিঙ্কের সাহায্য নিন।

কোনো তথ্যের সত্যতা যাচাই করতে আমাদেরকে
ইমেইল করুনঃ contact@fact-watch.org
অথবা ফেইসবুকে মেসেজ দিনঃ facebook.com/fwatch.bangladesh