সম্প্রতি ফেসবুকে দুটি ভিন্ন ভিন্ন সংঘর্ষের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ছে। ক্যাপশনে দাবি করা হচ্ছে যে, ভারতের পশ্চিমবঙ্গে মুসলিম সম্প্রদায়ের ঘরবাড়ি গুঁড়িয়ে দিতে প্রশাসন এক্সকাভেটর নিয়ে হাজির হলে স্থানীয়রা তা রুখে দিয়েছে। ভিডিও দুটিতে উত্তেজিত জনতাকে এক্সকাভেটর বা এক্সেভেটর গাড়ির ওপর লাঠিসোঁটা ও ইটপাটকেল নিয়ে চড়াও হতে এবং ভাঙচুর করতে দেখা যায়। তবে ফ্যাক্টওয়াচের অনুসন্ধানে দেখা গেছে ঢাকার পৃথক দুটি স্থানে (মিরপুর ও ধামরাই) সরকারি জমি উদ্ধারে চালানো উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে সংঘটিত সংঘর্ষের চিত্র এটি।
ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া এমন কিছু পোস্ট দেখুন এখানে, এখানে এবং এখানে।
ফ্যাক্টওয়াচের অনুসন্ধানঃ
প্রথম ভিডিওটি খেয়াল করলে ভিডিওতে থাকা এক্সকাভেটরে ‘রাজউক’ লেখা দেখতে পাওয়া যায়। রাজউক হচ্ছে মূলত ‘রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ’, যা বাংলাদেশের গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকা একটি সরকারি সংস্থা। এই সংস্থাটি রাজধানী ঢাকার উন্নয়ন প্রকল্পসমূহের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন করে থাকে। অর্থাৎ, ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বাংলাদেশের সরকারি সংস্থা ‘রাজউক’ লেখা এক্সকাভেটর বা গাড়ি থাকার কোনো যৌক্তিকতা নেই।
তাই ভিডিওটির আসল প্রেক্ষাপট জানার জন্য এর বিভিন্ন কি-ফ্রেম নিয়ে রিভার্স ইমেজ সার্চ করা হয়। এর ফলে ‘সদ্য সংবাদ’ নামের একটি ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে ভাইরাল ভিডিওটির অনুরূপ একটি ভিডিও পাওয়া যায়। সেই ভিডিওর ক্যাপশনে উল্লেখ করা হয়, “উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে কালশীতে পুলিশের সঙ্গে স্থানীয়দের সং’ঘ’র্ষ।”
এই সূত্র ধরে প্রাসঙ্গিক কিছু কি-ওয়ার্ড ধরে ‘সময় টিভি’-এর ইউটিউব চ্যানেলে এই একই ঘটনার ভিডিও পাওয়া যায়। এছাড়া ‘বাংলা ট্রিবিউন’-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, ঢাকার মিরপুরের কালশী এলাকার বাউনিয়াবাঁধ সংলগ্ন একটি বস্তিতে কোনো পূর্ব নোটিশ ছাড়াই আকস্মিকভাবে উচ্ছেদ অভিযান শুরু করা হয়। এর জের ধরে ওই বস্তির বাসিন্দারা সংঘবদ্ধ হয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর লাঠিসোঁটা ও ইটপাটকেল নিয়ে আকস্মিক হামলা চালায়। হামলার তীব্রতার কারণে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় উচ্ছেদ অভিযানে অংশ নেওয়া পুলিশ সদস্যরা নিজেদের সুরক্ষায় ঘটনাস্থল থেকে দৌড়ে পিছু হটতে বাধ্য হয়।
একই দাবিতে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া দ্বিতীয় ভিডিওটির অনুসন্ধানে ‘ঢাকা ট্রিবিউন’-এর ইউটিউব চ্যানেলে এর একটি বর্ধিত সংস্করণ খুঁজে পাওয়া যায়। সেখানে উল্লেখ করা হয় ভিডিওটি ঢাকার ধামরাইয়ের। এই ঘটনা সম্পর্কে ‘প্রথম আলো’ জানায় যে, ধামরাইয়ে সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) সরকারি জায়গা দখল করে গড়ে ওঠা অবৈধ দোকানপাট ও স্থাপনা উচ্ছেদের সময় এই হামলার ঘটনা ঘটে। সেখানেও উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে স্থানীয় অবৈধ দখলদাররা উচ্ছেদকারী দল ও এক্সকাভেটরের ওপর লাঠিসোঁটা নিয়ে চড়াও হয় এবং ব্যাপক হট্টগোল সৃষ্টি করে।
অর্থাৎ, ভিডিও দুটিতে দৃশ্যমান সংঘর্ষের ঘটনার সাথে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ বা সেখানকার কোনো ধর্মীয় সম্প্রদায়ের ঘরবাড়ি ভাঙার সম্পর্ক নেই। তাই এমন দাবিতে শেয়ার করা ভিডিওগুলোকে ফ্যাক্টওয়াচ মিথ্যা হিসেবে চিহ্নিত করছে।
Claim: পশ্চিমবঙ্গের মুসলিমদের বাড়ি ভেঙ্গে দেওয়ার জন্য আসার পরে সবাই মিলে রুখে দাঁড়িয়ে আছে
Claimed By: Facebook users
Rating: False
এই নিবন্ধটি ফেসবুকের ফ্যাক্ট-চেকিং প্রোগ্রামের
নীতি মেনে লেখা হয়েছে। এর উপর ভিত্তি করে ফেসবুক যে ধরণের বিধিনিষেধ আরোপ করতে পারে, সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন এখানে।
এছাড়া এই নিবন্ধ সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন, সম্পাদনা কিংবা আরোপিত বিধিনিষেধ তুলে নেয়ার জন্য আবেদন করতে এই লিঙ্কের সাহায্য নিন।
কোনো তথ্যের সত্যতা যাচাই করতে আমাদেরকে ইমেইল করুনঃ contact@fact-watch.org অথবা ফেইসবুকে মেসেজ দিনঃ facebook.com/fwatch.bangladesh