কর্ণফুলী টানেল ফেটে পানি পড়ার ভুয়া দাবি  

222
  কর্ণফুলী টানেল ফেটে পানি পড়ার ভুয়া দাবি  
  কর্ণফুলী টানেল ফেটে পানি পড়ার ভুয়া দাবি  

'তিন বছর না যেতেই ঝরনার মত পানি পড়ছে দৃষ্টিনন্দন টানেলে'- এই তথ্যের সঙ্গে একটি টানেল-সদৃশ স্থানের ছবি দিয়ে জনকণ্ঠের লোগোসহ একটি ফটোকার্ড ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। এই ফটোকার্ডটি ফেসবুকে শেয়ার হচ্ছে এই ক্যাপশনে- 'আপার শোকে কর্ণফুলী টানেল কাঁদছে।' অর্থাৎ টানেলের ছবিটিকে বিগত সরকারের সময়ে চালু হওয়া কর্ণফুলী টানেলের ছবি বলে দাবি করা হচ্ছে। ফ্যাক্টওয়াচের অনুসন্ধানে দেখা যাচ্ছে, এটি বান্দরবান বাসস্ট্যান্ড থেকে হাফেজঘোনা কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল যাওয়ার পথে নির্মিত ৫০০ ফুট দৈর্ঘ্যের টানেলের ছবি। 

ভুল ক্যাপশনে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া এ ধরনের ফেসবুক পোস্টগুলোর কয়েকটি এখানে, এখানে, এখানে।  

অনুসন্ধানের শুরুতে প্রাসঙ্গিক কি-ওয়ার্ড সার্চে জনকণ্ঠের প্রতিবেদনটি পাওয়া যায়। ২০২৫ সালের ১৯ আগস্ট প্রকাশিত প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, ৫০০ ফুট দৈর্ঘ্যের টানেলটিতে তিন বছর না যেতেই বিভিন্ন অংশে ফাটল সৃষ্টি হয়ে ঝরনার মত পানি পড়ছে। এ টানেলটিতে বিগত সরকারের আমলে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের অর্থায়নে নির্মিত হয়েছিল। পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড বান্দরবান ইউনিটের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ইয়াসির আরাফাতের বরাতে প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, “টানেলের ছাদের উপরে পানি নিষ্কাশনের জন্য যে পাইপ লাইন দেওয়া হয়েছিল, সেই পাইপ লাইনগুলো চুরি হয়ে গেছে। তাই টানেলের ছাদ থেকে পানি পড়ছে এবং টানেলের বৈদ্যুতিক তারও চুরি হয়ে গেছে। গত কয়েকদিন আগে নতুন তার লাগিয়ে নতুনভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হয়েছে। কিছু দিনের মধ্যে টানেলটি সংস্কার করে এনইউ’র মাধ্যমে বান্দরবান পৌরসভার কাছে হস্তান্তর করা হবে।” 

জনকণ্ঠের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজেও ফটোকার্ডটি পাওয়া যায়। 

পরবর্তী অনুসন্ধানে ‘খবরের কাগজের’ একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। ২০২৩ সালের ২৭ অক্টোবর প্রকাশিত এই প্রতিবেদনে বলা হয়, “২৭ অক্টোবর সকালে বান্দরবানের বর্তমান বাসস্ট্যান্ড হয়ে হাফেজঘোনায় যাওয়ার পথে পাহাড়ি সড়কে নির্মিত ৫০০ ফুট আধুনিক বাস টার্মিনাল টানেলের উদ্বোধন করেন পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং।” এই প্রতিবেদনের সঙ্গে টানেলটির একটি ছবি যুক্ত রয়েছে। এই ছবিটি পর্যালোচনা করে এটিই প্রতীয়মান হয় যে, আলোচ্য টানেলটি বান্দরবান টানেলের, কর্ণফুলী টানেলের নয়। 

উল্লেখ্য, চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর তলদেশে নির্মিত  টানেলের উদ্বোধন হয় ২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবর। প্রথম আলোর প্রতিবেদনের সঙ্গে টানেলের কর্ণফুলী টানেলের একাধিক ছবি যুক্ত রয়েছে। এই ছবিগুলো থেকে বোঝা যায়, আলোচ্য ছবিটি কর্ণফুলী টানেলের নয়। 

ফলে, যে সমস্ত ফেসবুক পোস্টে ‘কর্ণফুলী টানেল’ উল্লেখ করে ফটোকার্ডটি শেয়ার করা হয়েছে, সেগুলোকে মিথ্যা হিসেবে সাব্যস্ত করা হলো।  

Claim:
'তিন বছর না যেতেই ঝরনার মত পানি পড়ছে দৃষ্টিনন্দন টানেলে'- এই তথ্যের সঙ্গে একটি টানেল-সদৃশ স্থানের ছবি দিয়ে জনকণ্ঠের লোগোসহ একটি ফটোকার্ড ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। এই ফটোকার্ডটি ফেসবুকে শেয়ার হচ্ছে এই ক্যাপশনে- 'আপার শোকে কর্ণফুলী টানেল কাঁদছে।' অর্থাৎ টানেলের ছবিটিকে বিগত সরকারের সময়ে চালু হওয়া কর্ণফুলী টানেলের ছবি বলে দাবি করা হচ্ছে।

Claimed By:
Facebook Users

Rating:
False

এই নিবন্ধটি ফেসবুকের ফ্যাক্ট-চেকিং প্রোগ্রামের নীতি মেনে লেখা হয়েছে। এর উপর ভিত্তি করে ফেসবুক যে ধরণের বিধিনিষেধ আরোপ করতে পারে, সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন এখানে

এছাড়া এই নিবন্ধ সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন, সম্পাদনা কিংবা আরোপিত বিধিনিষেধ তুলে নেয়ার জন্য আবেদন করতে এই লিঙ্কের সাহায্য নিন।

কোনো তথ্যের সত্যতা যাচাই করতে আমাদেরকে
ইমেইল করুনঃ contact@fact-watch.org
অথবা ফেইসবুকে মেসেজ দিনঃ facebook.com/fwatch.bangladesh