খুলনা আদালতে শিশু ধর্ষণকারীকে গুলি করে হত্যার দাবিটি ভিত্তিহীন 

46
খুলনা আদালতে শিশু ধর্ষণকারীকে গুলি করে হত্যার দাবিটি ভিত্তিহীন 
খুলনা আদালতে শিশু ধর্ষণকারীকে গুলি করে হত্যার দাবিটি ভিত্তিহীন 

ফেসবুকে প্রায় এক মিনিটের একটি ভিডিও শেয়ার করে দাবি করা হচ্ছে, ‘খুলনা কোর্টে শিশু ধর্ষণকারীকে আদালতে তোলার সময় গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। পুলিশের গাড়ি থেকে নামানোর সময় দুর্বৃত্তরা ধর্ষণকারীকে লক্ষ্য করে গুলি করে, এ সময় ধর্ষণকারীসহ আরো দুজন নিহত হয়।’ ফ্যাক্টওয়াচের যাচাইয়ে দেখা যায়, ভিডিওটির সঙ্গে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া দাবিটির কোনো সম্পর্ক নেই। মূলত, গত বছর ৩০ নভেম্বর অস্ত্র মামলায় হাজিরা দিতে আদালতে এসেছিলেন দুই ব্যক্তি। সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, ওইদিন তারা অস্ত্র মামলায় হাজিরা দিতে আদালতে এসেছিলেন। এই সময় দুর্বৃত্তদের গুলিতে তারা নিহত হন।

ফেসবুকে প্রচারিত কিছু পোস্ট দেখুন এখানে, এখানে, এখানে, এখানেএখানে। 

ভিডিওটির কিছু কি-ফ্রেম দিয়ে রিভার্স ইমেজ সার্চে দৈনিক প্রথম আলোয় একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। ২০২৫ সালের ৩০ নভেম্বর প্রকাশিত প্রতিবেদনটি থেকে জানা যায়, খুলনা মহানগর দায়রা জজ আদালতের প্রধান ফটকের বাইরে দুর্বৃত্তদের গুলিতে দুজন নিহত হন। ওইদিন দুপুর সোয়া ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। 

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে পত্রিকাটি লিখেছে, জামিনে থাকা দুজন আসামি আদালতে হাজিরা দিয়ে আদালত ফটকের সামনে মোটরসাইকেল রেখে চা পান করতে দাঁড়িয়েছিলেন। এ সময় চার থেকে পাঁচজন দুর্বৃত্ত হেঁটে এসে তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। গুলিবিদ্ধ হয়ে তারা দুজন মাটিতে পড়ে গেলে দুর্বৃত্তরা চাপাতি দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে তাদের।

নিহত একজনের ভাইয়ের বরাত দিয়ে পত্রিকাটি আরও লিখেছে, তার ভাইয়ের নামে একটা অস্ত্র মামলা ছিল। সেই মামলায় হাজিরা দিতে আদালতে এসেছিলেন তার ভাই।

একই ঘটনা নিয়ে এনটিভিতে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, নিহত দু’জনের নাম হাসিব ও রাজন। তারা সোনাডাঙ্গা থানায় দায়ের করা অস্ত্র মামলায় আদালতে হাজিরা দিতে এসেছিলেন। 

বৈশাখী টিভির ফেসবুক পেজে এই ঘটনা নিয়ে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে দৃশ্যমান ফুটেজের সঙ্গে ভাইরাল ভিডিওটির মিল পাওয়া যায়। 

অন্যান্য একাধিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন থেকেও একই তথ্য জানা যায়।

 এমন কিছু প্রতিবেদন পড়ুন-

খুলনার আদালত ফটকের সামনে কুপিয়ে-গুলি করে দুইজনকে হত্যা (যমুনা টিভি)

আদালত চত্বরে প্রকাশ্যে দুজনকে কুপিয়ে-গুলি করে হত্যা (যুগান্তর) 

আদালতের সামনে দুজনকে গুলি করে হত্যা, ভিডিও ফুটেজে যা দেখা গেল  (কালবেলা)

এসব প্রতিবেদনের কোথাও উল্লেখ নেই যে, নিহত দুজন শিশু ধর্ষণের দায়ে অভিযুক্ত এবং পুলিশের গাড়ি থেকে নামানোর সময় দুর্বৃত্তদের গুলিতে তারা নিহত হয়েছেন। ফলে ফেসবুকে প্রচারিত ভিডিওটির সঙ্গে ছড়িয়ে পড়া দাবিটি ভিত্তিহীন। 

এ ছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে খুলনায় এমন কোনো ঘটনা ঘটার ব্যাপারে দেশীয় সংবাদমাধ্যমে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তাই ফ্যাক্টওয়াচ দাবিটিকে মিথ্যা হিসেবে চিহ্নিত করছে। 

Claim:
ফেসবুকে প্রায় এক মিনিটের একটি ভিডিও শেয়ার করে দাবি করা হচ্ছে, ‘খুলনা কোর্টে শিশু ধর্ষণকারীকে আদালতে তোলার সময় গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। পুলিশের গাড়ি থেকে নামানোর সময় দুর্বৃত্তরা ধর্ষণকারীকে লক্ষ্য করে গুলি করে, এ সময় ধর্ষণকারীসহ আরো দুজন নিহত হয়।

Claimed By:
Facebook Users

Rating:
False

এই নিবন্ধটি ফেসবুকের ফ্যাক্ট-চেকিং প্রোগ্রামের নীতি মেনে লেখা হয়েছে। এর উপর ভিত্তি করে ফেসবুক যে ধরণের বিধিনিষেধ আরোপ করতে পারে, সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন এখানে

এছাড়া এই নিবন্ধ সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন, সম্পাদনা কিংবা আরোপিত বিধিনিষেধ তুলে নেয়ার জন্য আবেদন করতে এই লিঙ্কের সাহায্য নিন।

কোনো তথ্যের সত্যতা যাচাই করতে আমাদেরকে
ইমেইল করুনঃ contact@fact-watch.org
অথবা ফেইসবুকে মেসেজ দিনঃ facebook.com/fwatch.bangladesh