কলকাতা ভ্রমণে সতর্কতা জারি ও বাংলাদেশি পর্যটককে পিটিয়ে হত্যার ভিত্তিহীন দাবির পর এবার ফেসবুকে প্রচার করা হচ্ছে বাংলাদেশী এক পর্যটককে কলকাতায় হোটেলে ধর্ষণ করা হয়েছে। ফ্যাক্টওয়াচের অনুসন্ধানে দেখা যায়, এই দাবিটিও ভিত্তিহীন। কোনো ধরনের নির্ভরযোগ্য তথ্যসূত্র ছাড়াই দাবিটি প্রচার করা হচ্ছে।
দাবিটির সত্যতা যাচাইয়ে প্রাসঙ্গিক কি-ওয়ার্ড সার্চে বাংলাদেশ বা ভারতের কোনো সংবাদমাধ্যমে কলকাতায় বাংলাদেশী কোনো পর্যটককে ধর্ষণের ঘটনা নিয়ে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। ফেসবুকে প্রচারিত পোস্টগুলোতেও দাবিটির পক্ষে কোনো নির্ভরযোগ্য সূত্র দেওয়া হয়নি।
যেমন, গতকাল বুধবার দিবাগত রাত সোয়া একটার দিকে কামরুল এমবি (Qamrul MB) নামে একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দাবিটি নিয়ে পোস্ট করা হয়। পোস্টটিতে প্রায় সাড়ে ৭০০ কমেন্ট থাকলেও দাবিটির পক্ষে কোনো সূত্র উল্লেখ করা হয়নি।
ভোর পাঁচটার দিকে সোহান সোহান আলী নামের আরেকটি অ্যাকাউন্ট থেকেও ব্রেকিং নিউজ আকারে একই দাবি সম্বলিত পোস্ট দেওয়া হয়। এই পোস্টের কমেন্টবক্সেও অনেক ফেসবুক ব্যবহারকারী দাবিটির সোর্স চেয়ে মন্তব্য করেছেন। কিন্তু কোনো তথ্যসূত্রের উল্লেখ পাওয়া যায়নি।
পরবর্তীতে মাহী আল ইমরান নামের একটি অ্যাকাউন্টে আজ বৃহস্পতিবার বিকেল পৌনে তিনটার দিকে একই দাবি নিয়ে একটি পোস্ট পাওয়া যায়। এই পোস্টের কমেন্টবক্সে সূত্র হিসেবে কলকাতায় বাংলাদেশি নাগরিক ধর্ষণের ঘটনার একটি বিবরণ প্রতিবেদন আকারে যুক্ত করেছেন পোস্টদাতা।
এই কমেন্টসূত্রে অধিকতর অনুসন্ধানে কোনো সংবাদমাধ্যমে এমন প্রতিবেদন পাওয়া যায়নি। এ ছাড়া প্রতিবেদনটি বিশ্লেষণে এটি এআই জেনারেটেড বলে প্রতীয়মান হয়। যেমন, প্রতিবেদনটি একটি নির্দিষ্ট ফরমেট মেনে লেখা। যেমন, “ঘটনার বিবরণ”, “আইনি পদক্ষেপ ও গ্রেপ্তার”, “বর্তমান পরিস্থিতি”— এই ধরনের ফরমেট সাধারণত কোনো সংবাদমাধ্যমে লিখতে দেখা যায় না।
প্রতিবেদনটিতে “পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে” বলা হলেও কোনো কর্মকর্তা, বিবৃতি, মামলা নম্বর বা নির্দিষ্ট সূত্রের উল্লেখ নেই। অভিযুক্তের পরিচয়, হোটেলের নাম, আদালতের তথ্য, পুলিশ কর্মকর্তার উদ্ধৃতি এসবও অনুপস্থিত।
পরবর্তীতে লেখাটি এআই জেনারেটেড কনটেন্ট শনাক্তকারী টুল জিরো জিপিটির সাহায্যে বিশ্লেষণে এটি এআই জেনারেটেড বলে প্রতীয়মান হয়।
এ ছাড়া চ্যাটজিপিটি বা যেকোনো ওপেন সোর্স এআইকে প্রম্পট দিয়ে যে কেউ এই ধরনের প্রতিবেদন তৈরি করতে পারে। চ্যাটজিপিটিকে প্রম্পট দিয়ে ফ্যাক্টওয়াচও এমন একটি প্রতিবেদন তৈরি করেছে।
প্রসঙ্গত, প্রায় দুই বছর পর গত ২৮ জুন, ২০২৬ থেকে বাংলাদেশিদের ট্যুরিস্ট ভিসা আবেদন নেওয়া শুরু করেছে ভারত। এমন পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল বুধবার (১ জুলাই) ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়ে দাবি করা হয়, কলকাতায় মুসলিম বাংলাদেশি পর্যটককে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে এবং এই ঘটনায় দূতাবাস সতর্কতা জারি করেছে। তবে ফ্যাক্টওয়াচের অনুসন্ধানে এই দাবির কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি।
সার্বিক বিশ্লেষণে বাংলাদেশী এক পর্যটককে কলকাতায় হোটেলে ধর্ষণের দাবিটিও ভিত্তিহীন বলে প্রতীয়মান হয়। তাই ফ্যাক্টওয়াচ এই দাবিটিকেও মিথ্যা হিসেবে চিহ্নিত করছে।
Claim: বাংলাদেশী এক পর্যটককে কলকাতায় হোটেলে ধর্ষণ করা হয়েছে
Claimed By: Facebook Users
Rating: False
এই নিবন্ধটি ফেসবুকের ফ্যাক্ট-চেকিং প্রোগ্রামের
নীতি মেনে লেখা হয়েছে। এর উপর ভিত্তি করে ফেসবুক যে ধরণের বিধিনিষেধ আরোপ করতে পারে, সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন এখানে।
এছাড়া এই নিবন্ধ সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন, সম্পাদনা কিংবা আরোপিত বিধিনিষেধ তুলে নেয়ার জন্য আবেদন করতে এই লিঙ্কের সাহায্য নিন।
কোনো তথ্যের সত্যতা যাচাই করতে আমাদেরকে ইমেইল করুনঃ contact@fact-watch.org অথবা ফেইসবুকে মেসেজ দিনঃ facebook.com/fwatch.bangladesh