ঘটনা দুটিতে আক্রান্ত ব্যক্তিরা হিন্দু নন

47
ঘটনা দুটিতে আক্রান্ত ব্যক্তিরা হিন্দু নন
ঘটনা দুটিতে আক্রান্ত ব্যক্তিরা হিন্দু নন

সম্প্রতি ফেসবুকে 'সনাতন ধর্ম' নামের একটি আইডি থেকে দুটি অগ্নিকাণ্ডের ভিডিও শেয়ার করা হয়েছে। ভিডিও দুটির একটির ক্যাপশনে লেখা- লাঙ্গলকোটে সনাতনীদের বাড়িঘরে আগুন। অন্যটির ক্যাপশনে বলা হয়েছে, হিন্দুকল্যান ট্রাস্ট পরিচালিত গীতাস্কুলে আগুন দিয়েছে সন্ত্রাসীরা। ফ্যাক্টওয়াচের অনুসন্ধানে দেখা যাচ্ছে, কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে শাহ আলম নামের এক কৃষকের বসতঘর সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। অন্য ভিডিওটি নওগাঁর বদলগাছী উপজেলায় জামায়াতের এক নেতার বিরুদ্ধে তার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এক ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ উঠলে ওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেন স্থানীয় লোকজন। অর্থাৎ দুটি ঘটনায়ই ভুক্তভোগী হিন্দু নন।   

 

পোস্ট দুটি দেখুন এখানে, এখানে।

 ঘটনা – ১ 

এই ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, রাস্তার পাশে টিনের বেড়া দেওয়া একটি বাড়িতে আগুন জ্বলছে। ভিডিওটির কয়েকটি কি-ফ্রেমের সাহায্যে রিভার্স ইমেজ সার্চে ‘বর্তমান টিভি’ নামের একটি ফেসবুক পেজে একটি ভিডিও প্রতিবেদন পাওয়া যায়। প্রতিবেদনটি থেকে জানা যায়,  নাঙ্গলকোটের ‘শাহ আলম’ নামের এক কৃষকের বাড়িতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা এটি। প্রতিবেদনে শাহ আলমের স্ত্রী জোহরা বেগম বলেন, তাদের ঘরে থাকা ফ্রিজ থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। স্থানীয় সংবাদভিত্তিক এই পেজ থেকে গত ১১ আগস্ট পোস্ট করা এই ভিডিওর সঙ্গে আলোচ্য ভিডিওর মিল রয়েছে। 

পরবর্তীতে প্রাসঙ্গিক কি-ওয়ার্ড সার্চে ইনকিলাবের একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। এ বছরের ১১ প্রকাশিত এই প্রতিবেদন থাকে জানা যায়,  কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার মৌকরা ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের গোমকোট গ্রামে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে শাহ আলমের বসতঘর সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এ ঘটনায় ঘরের আসবাবপত্রসহ প্রায়, ৫ লাখ টাকার মালামাল পুড়ে গেছে বলে দাবি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১১ আগস্ট মঙ্গলবার দুপর ১ টায় শাহ আলমের ঘরে হঠাৎ আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন পুরো ঘরে ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়রা আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলেও ঘর ও ভেতরে থাকা মালামাল রক্ষা করা সম্ভব হয়নি। ক্ষতিগ্রস্ত শাহ আলমের পরিবারে স্ত্রী জুহুরা বেগম, এক ছেলে ও দুই মেয়ে রয়েছে। পরিবারের বাবা ও ছেলে কৃষি কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। জানা গেছে, কিস্তিতে নির্মাণ করা হয়েছিল তাদের বসতঘরটি। আগুনে ঘরসহ পরিবারের প্রয়োজনীয় সবকিছু পুড়ে যাওয়ায় তারা এখন অনেকটা নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন। 

 ঘটনা-২  

এই পোস্টে আগুনের ভিডিওর সঙ্গে ক্যাপশনে বলা হয়, সাতক্ষীরায় হিন্দু কল্যাণ ট্রাস্টের গীতা স্কুলে আগুন দিয়েছে সন্ত্রাসীরা। 

ভিডিওটির কয়েকটি কি-ফ্রেমের সাহায্যে রিভার্স ইমেজ সার্চে ইনস্টাগ্রামে ‘এস বাংলা টিভি’ নামের একটি আইডিতে একটি পোস্ট পাওয়া যায়। এই পোস্ট থেকে জানা যায়, বদলগাছিতে স্কুলের প্রধান শিক্ষক কর্তৃক এক ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে,  স্কুলটিতে  ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেন স্থানীয় লোকজন। এই ভিডিওর সঙ্গে আলোচ্য ভিডিওর মিল রয়েছে। 

পরবর্তীতে প্রাসঙ্গিক কি-ওয়ার্ড সার্চে প্রথম আলোর একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। এ বছরের ৪ আগস্ট প্রকাশিত এই প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, নওগাঁর বদলগাছীতে শফিউল হাসান নামের এক জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে তার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এক ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ উঠলে ওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেন স্থানীয় লোকজন।

কাজেই দুটি ঘটনায় হিন্দু সম্প্রদায়ের কেউ আক্রান্ত হননি। ফলে সঙ্গত কারণে এ ধরনের ফেসবুক পোস্টগুলোকে মিথ্যা সাব্যস্ত করছে ফ্যাক্টওয়াচ। 

Claim:
সম্প্রতি ফেসবুকে 'সনাতন ধর্ম'' নামের একটি আইডি থেকে দুটি অগ্নিকাণ্ডের ভিডিও শেয়ার করা হয়েছে। ভিডিও দুটির একটির ক্যাপশনে লেখা- লাঙ্গলকোটে সনাতনীদের বাড়িঘরে আগুন। অন্যটির ক্যাপশনে বলা হয়েছে, হিন্দুকল্যান ট্রাস্ট পরিচালিত গীতাস্কুলে আগুন দিয়েছে সন্ত্রাসীরা।

Claimed By:
Facebook Users

Rating:
False

এই নিবন্ধটি ফেসবুকের ফ্যাক্ট-চেকিং প্রোগ্রামের নীতি মেনে লেখা হয়েছে। এর উপর ভিত্তি করে ফেসবুক যে ধরণের বিধিনিষেধ আরোপ করতে পারে, সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন এখানে।

এছাড়া এই নিবন্ধ সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন, সম্পাদনা কিংবা আরোপিত বিধিনিষেধ তুলে নেয়ার জন্য আবেদন করতে এই লিঙ্কের সাহায্য নিন।

কোনো তথ্যের সত্যতা যাচাই করতে আমাদেরকে
ইমেইল করুনঃ contact@fact-watch.org
অথবা ফেইসবুকে মেসেজ দিনঃ facebook.com/fwatch.bangladesh