ফেসবুকে এক নারী ও পুরুষের ২৭ সেকেন্ডের একটি ভিডিও শেয়ার করে দাবি করা হচ্ছে, এতে মুখ ঢাকা অবস্থায় থাকা নারীটি এনসিপি নেত্রী ডা. মাহমুদা মিতু। ফ্যাক্টওয়াচের যাচাইয়ে দেখা যায়, দাবিটি সঠিক নয়। অনুসন্ধানে ওই ভিডিওটির একাধিক সংস্করণ খুঁজে পায় ফ্যাক্টওয়াচ। এসব ফুটেজে উপস্থিত নারীর সঙ্গে এনসিপি নেত্রী ডা. মাহমুদা মিতুর চেহারার মিল নেই।
এনসিপি নেত্রী ডা. মাহমুদা মিতু দাবিতে ফেসবুকে প্রচারিত কিছু পোস্ট দেখুন এখানে, এখানে, এখানে, এখানে ও এখানে।
ভিডিওটি থেকে কিছু কি-ফ্রেম নিয়ে রিভার্স ইমেজ সার্চে গার্মেন্টস নিউজ নামের একটি ফেসবুক পেজে এটির ভিন্ন একটি সংস্করণ পাওয়া যায়। গত ১৯ এপ্রিল আপলোড করা এই ভিডিওটিতে দাবি করা হয়, ‘অশ্লীল মেলামেশা’র অভিযোগে এই নারী ও পুরুষ জনতার হাতে আটক হয়েছে। তারা একটি গার্মেন্টস ফ্যাক্টরিতে কর্মরত বলে দাবি করা হয়। একই পেজে ডা.মাহমুদা মিতুর দাবিতে প্রচারিত ২৭ সেকেন্ডের ভিডিওটির দীর্ঘ একটি সংস্করণ পাওয়া যায়। ইনস্টাগ্রামেও ভিডিওটি একই দাবিতে পাওয়া যায়। ১ মিনিট ৬ সেকেন্ডের এই ভিডিওটিতেও নারীর স্পষ্ট চেহারা দেখা যায়।
এই চেহারার সঙ্গে এনসিপি নেত্রী ডা. মাহমুদা মিতুর চেহারার কোনো মিল নেই। অনুসন্ধানে পাওয়া এসব ভিডিওতেও কোথাও দাবি করা হয়নি ভিডিওতে থাকা নারী ডা. মাহমুদা মিতু।
ফেসবুকে প্রচারিত নারীর ছবি ও দৈনিক প্রথম আলো থেকে নেওয়া মাহমুদা মিতুর ছবি
কোনো সংবাদমাধ্যমেও ফেসবুকে প্রচারিত দাবিটি নিয়ে মাহমুদা মিতুর নামে কোনো প্রতিবেদন পাওয়া যায়নি।
ফলে এটি নিশ্চিত হওয়া যায়, ভাইরাল ভিডিওতে মুখ ঢাকা অবস্থায় থাকা নারী এনসিপি নেত্রী ডা. মাহমুদা মিতু নন।
প্রসঙ্গত, এখানে কেবল ভিডিওতে থাকা নারী এনসিপি নেত্রী ডা. মাহমুদা মিতু কিনা সেটি যাচাই করে দেখা হয়েছে।
সার্বিক বিবেচনায় ফ্যাক্টওয়াচ ফেসবুকে এনসিপি নেত্রী ডা. মাহমুদা মিতুকে জড়িয়ে প্রচারিত ভিডিওগুলোকে মিথ্যা হিসেবে চিহ্নিত করছে।
সংযোজনীঃ ভিডিওটি ফেসবুকে বিএনপি নেত্রী ও ‘মায়ের ডাক’ এর সমন্বয়ক সানজিদা ইসলাম তুলির পুরোনো ভিডিও দাবিতেও ফেসবুকে প্রচার করা হচ্ছে। অনুসন্ধানে দেখা যায়, এই দাবিরও কোনো সত্যতা নেই।
(জেন্ডার সেন্সিটিভিটির কারণে ফেসবুক এবং ইন্সটাগ্রামের লিঙ্কগুলো শেয়ার করা হয়নি)
Claim: ফেসবুকে এক নারী ও পুরুষের ২৭ সেকেন্ডের একটি ভিডিও শেয়ার করে দাবি করা হচ্ছে, এতে মুখ ঢাকা অবস্থায় থাকা নারীটি এনসিপি নেত্রী ডা. মাহমুদা মিতু।
Claimed By: Facebook Users
Rating: False
এই নিবন্ধটি ফেসবুকের ফ্যাক্ট-চেকিং প্রোগ্রামের
নীতি মেনে লেখা হয়েছে। এর উপর ভিত্তি করে ফেসবুক যে ধরণের বিধিনিষেধ আরোপ করতে পারে, সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন এখানে।
এছাড়া এই নিবন্ধ সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন, সম্পাদনা কিংবা আরোপিত বিধিনিষেধ তুলে নেয়ার জন্য আবেদন করতে এই লিঙ্কের সাহায্য নিন।
কোনো তথ্যের সত্যতা যাচাই করতে আমাদেরকে ইমেইল করুনঃ contact@fact-watch.org অথবা ফেইসবুকে মেসেজ দিনঃ facebook.com/fwatch.bangladesh