রাস্তায় পড়ে থাকা এক ব্যক্তিকে অন্য দুজন ব্যক্তি নির্মমভাবে মারধর করছেন, এ ধরনের একটি ভিডিও সম্প্রতি ফেসবুকে শেয়ার করা হচ্ছে। ক্যাপশনে ঘটনাটি বাংলাদেশের বলে ইঙ্গিত করা হয়েছে। ফ্যাক্টওয়াচের অনুসন্ধানে দেখা যাচ্ছে, ঘটনাটি বাংলাদেশের নয়, ভারতের ওডিশা রাজ্যে মনোরঞ্জন সাবাত (Manoranjan Sabat) নামের এক কনস্টেবলকে পেটানোর। পুলিশ এ ঘটনায় অভিযুক্ত দুইজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠিয়েছে।
ভিডিওটির কয়েকটি কি-ফ্রেমের সাহায্যে রিভার্স ইমেজ সার্চে ইউটিউবে একটি ভিডিও প্রতিবেদন পাওয়া যায়। ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি আপলোড করা ওডিশা টেলিভিশন (OTV)’র এই প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ওডিশার কান্ধামাল জেলার ফুলবানি এলাকায় জগন্নাথ টেম্পল স্কোয়ারের কাছে দিনের আলোতেই মনোরঞ্জন সাবাত নামের এক কনস্টেবলের ওপর নৃশংস হামলা চালানো হয়। সড়কের মাঝখানে উপস্থিত লোকজনের সামনেই এই হামলা ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, দুই ব্যক্তি তাকে লাথি মেরে ও বেধড়ক মারধর করে, এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পুলিশ অভিযুক্ত দুইজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠিয়েছে।
এই ভিডিও প্রতিবেদনের সঙ্গে যে ভিডিওটি রয়েছে সেটির সঙ্গে আলোচিত ভিডিওটির মিল রয়েছে।
পরবর্তী অনুসন্ধানে প্রাসঙ্গিক কি-ওয়ার্ড সার্চে দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস (The Indian Express)’র একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। এই প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, “গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ফুলবানি শহরের সাই মন্দির সংলগ্ন এলাকায় দিনের বেলা দুই যুবকের হামলায় এক পুলিশ কনস্টেবল গুরুতর আহত হয়েছেন। আহত ওই পুলিশ কর্মীর নাম মনোরঞ্জন সাবাত, তিনি ফুলবানি শহরেরই বাসিন্দা। প্রাথমিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিকেল ৪টা নাগাদ যখন সন্তোষ প্রধান এবং অঞ্জন সোয়াইন নামে দুই যুবকের সাথে মনোরঞ্জনের ঝগড়া বাঁধে, তখন তিনি সাধারণ পোশাকে (সিভিল ড্রেস) ছিলেন। অভিযুক্তরা মদ্যপ অবস্থায় ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।” প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে এই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ওই দুই যুবক মনোরঞ্জনকে মাটিতে ফেলে ক্রমাগত লাথি মারতে থাকে। এরপর ধারালো অস্ত্র এবং দাঁড়িপাল্লার ভারী বাটখারা দিয়ে তাকে আঘাত করা হয়। এই হামলায় ওই পুলিশ কর্মী মারাত্মকভাবে জখম হয়েছেন।
কাজেই ভিডিওটি বাংলাদেশের নয়, ভারতের ওডিশার। ফলে সঙ্গত কারণে, ক্যাপশনের বিভ্রান্তির কারণে ফেসবুক পোস্টগুলোকে বিভ্রান্তিকর হিসেবে চিহ্নিত করছে ফ্যাক্টওয়াচ।
Claim: রাস্তায় পড়ে থাকা এক ব্যক্তিকে অন্য দুজন ব্যক্তি নির্মমভাবে মারধর করছেন, এ ধরনের একটি ভিডিও সম্প্রতি ফেসবুকে শেয়ার করা হচ্ছে। ক্যাপশনে ঘটনাটি বাংলাদেশের বলে ইঙ্গিত করা হয়েছে।
Claimed By: Facebook Users
Rating: False
এই নিবন্ধটি ফেসবুকের ফ্যাক্ট-চেকিং প্রোগ্রামের
নীতি মেনে লেখা হয়েছে। এর উপর ভিত্তি করে ফেসবুক যে ধরণের বিধিনিষেধ আরোপ করতে পারে, সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন এখানে।
এছাড়া এই নিবন্ধ সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন, সম্পাদনা কিংবা আরোপিত বিধিনিষেধ তুলে নেয়ার জন্য আবেদন করতে এই লিঙ্কের সাহায্য নিন।
কোনো তথ্যের সত্যতা যাচাই করতে আমাদেরকে ইমেইল করুনঃ contact@fact-watch.org অথবা ফেইসবুকে মেসেজ দিনঃ facebook.com/fwatch.bangladesh