আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় এবং সাবেক তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলকের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের আবেদন করা হয়েছে। এই মামলায় জুনায়েদ আহমেদ পলক গ্রেফতার হয়েছেন এবং সজীব ওয়াজেদ জয় বর্তমানে পলাতক আছেন। পলাতক থাকায় সজীব ওয়াজেদ জয়ের পক্ষে একজন রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবীকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যার নাম ও পরিচিতি নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। অনেক ফেসবুক ব্যবহারকারী জয়ের আইনজীবী হিসেবে মনজুর আল মতিনের নাম বা ছবি শেয়ার করলেও, প্রকৃতপক্ষে এই আইনজীবি হচ্ছে মো. মনজুর আলম।
এই ফটোকার্ডের শিরোনামে বলা হয়েছে- “জুলাই গণহত্যার বিচার, সজীব ওয়াজেদ জয়ের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবি মনজুর আলম। এই ফটোকার্ড শেয়ার করে জনৈক এফ কে জয় জয় ক্যাপশনে লিখেছেন, সুদী ইউনুসের সরকার জোকারে পরিণত হয়েছে।
জোকার সরকার
সজীব ওয়াজেদ জয়ের পক্ষে রাষ্ট্র আইনজীবী হিসেবে নিযুক্ত করেছে একজন জুলাই জঙ্গি মনজুর আলম কে।
কতো বড় জোকার ও শুয়োরের বাচ্চা হলে সুদী ইউনুস ও ইয়াহিয়ার সন্তান আসিফ নজরুল এমন কাজ করতে পারে।হাসো বাঙ্গালি হাসো।”
এসব ফটোকার্ডে ব্যবহৃত ডানপাশের ছবিটি রিভার্স ইমেজ সার্চের মাধ্যমে জানা যাচ্ছে, চশমা পরা এই ছবিটি পরিচিত আইনজীবি ও সংবাদকর্মী মনজুর আল মতিন এর ছবি। তার ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে তার নামের বানান -Manzur Al Matin। এই বানানের সূত্র ধরে গুগল সার্চের মাধ্যমে Dhaka Bar Association এ তার মেম্বরশিপ খুঁজে পাওয়া গেল, তার মেম্বারশিপ আইডির নাম্বার ১৩১৯৭।
কিন্তু ছড়িয়ে পড়া এসব ফটোকার্ডে নিয়োগ করা উক্ত আইনজীবির নাম ‘মনজুর আলম’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ জনাব মনজুর আল মতিন সজীব ওয়াজেদ জয়ের মামলায় নিযুক্ত না হলেও তার ছবি ভুলভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
প্রাসঙ্গিক কি-ওয়ার্ড সার্চ করে জানা যাচ্ছে, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলার পলাতক আসামি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ের আইনজীবি হিসেবে মো. মনজুর আলমকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এই নিয়োগ দেন। মনজুর আলমকে গত ১৭ ডিসেম্বর নিয়োগ দেওয়ার কথা জানা গেলেও গণমাধ্যমে খবরটি গত ৭ জানুয়ারি প্রকাশিত হয়েছিল। এ বিষয়ে কয়েকটি প্রতিবেদন দেখতে পাবেন এখানে,এখানে এবং এখানে। লক্ষণীয় যে বিভিন্ন গণমাধ্যমের এসব প্রতিবেদন এই আইনজীবির নামের বানান হিসেবে মঞ্জুর আলম (বাসস), মনজুর আলম (ইত্তেফাক, দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড), মোঃ মনজুর আলম (প্রথম আলো) বা Monjur Alam (The Daily Star , bdnews24) হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
এই সূত্র ধরে ঢাকা বার এসোসিয়েশনের ওয়েবসাইটে অনুসন্ধান করলে Monjur Alam নামের বানানে চারজন, Md. Monzur Alam বানানে একজন এবং Manzur Alam বানানে একজন আইনজীবিকে পাওয়া গেল। Monjur Alam বানানযুক্ত চার আইনজীবির পূর্ণ নাম যথাক্রমে – Md. Monjur Alam (মেম্বরশিপ আইডি-৩৯৫৭), Md. Monjur Alam (Monju) (মেম্বরশিপ আইডি-৪০৮০), Md. Monjur Alam (মেম্বরশিপ আইডি-১৫৩৯৯), Md. Monjur Alam (মেম্বরশিপ আইডি-২৪৭৪৪)।
তবে গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরের সাথে জনাব মনজুর আলমের কোনো ছবি যুক্ত না থাকায় ফ্যাক্টওয়াচের পক্ষে সঠিক আইনজীবিকে সনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। তবে নামের বানান এবং ছবির ভিত্তিতে নিশ্চিতভাবে বলা যায় যে জনাব মনজুর আল মতিন এই মামলায় সজীব ওয়াজেদ জয়ের পক্ষের আইনজীবি হিসেবে নিযুক্ত হননি।
সার্বিক বিবেচনায় ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া এ সকল দাবিগুলোকে ফ্যাক্টওয়াচ ‘মিথ্যা’ সাব্যস্ত করছে।
Claim: আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় এবং সাবেক তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলকের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের আবেদন করা হয়েছে। এই মামলায় জুনায়েদ আহমেদ পলক গ্রেফতার হয়েছেন এবং সজীব ওয়াজেদ জয় বর্তমানে পলাতক আছেন। পলাতক থাকায় সজীব ওয়াজেদ জয়ের পক্ষে একজন রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবীকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যার নাম ও পরিচিতি নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। অনেক ফেসবুক ব্যবহারকারী জয়ের আইনজীবী হিসেবে মনজুর আল মতিনের নাম বা ছবি শেয়ার করছেন
Claimed By: Facebook Users
Rating: False
এই নিবন্ধটি ফেসবুকের ফ্যাক্ট-চেকিং প্রোগ্রামের
নীতি মেনে লেখা হয়েছে। এর উপর ভিত্তি করে ফেসবুক যে ধরণের বিধিনিষেধ আরোপ করতে পারে, সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন এখানে।
এছাড়া এই নিবন্ধ সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন, সম্পাদনা কিংবা আরোপিত বিধিনিষেধ তুলে নেয়ার জন্য আবেদন করতে এই লিঙ্কের সাহায্য নিন।
কোনো তথ্যের সত্যতা যাচাই করতে আমাদেরকে ইমেইল করুনঃ contact@fact-watch.org অথবা ফেইসবুকে মেসেজ দিনঃ facebook.com/fwatch.bangladesh