জামায়াতের কথিত নারী সমাবেশে পুরুষের ছদ্মবেশে অংশগ্রহণের ভুয়া দাবি 

189
জামায়াতের কথিত নারী সমাবেশে পুরুষের ছদ্মবেশে অংশগ্রহণের ভুয়া দাবি 
জামায়াতের কথিত নারী সমাবেশে পুরুষের ছদ্মবেশে অংশগ্রহণের ভুয়া দাবি 

জামায়াতে ইসলামীর নারী সমাবেশে জনৈক পুরুষ বোরখা পরে যোগ দেওয়ার চেষ্টা করেছেন এবং তাকে পুরুষ হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে মর্মে একটি ভিডিও অনলাইনে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে অনুসন্ধানে দেখা যাচ্ছে, এই ভিডিওটি গত বছরের ভিন্ন একটি ঘটনা। এছাড়া,৩১ জানুয়ারি ঢাকায় জামায়াতে ইসলামীর একটি ‘নারী সমাবেশ’ হওয়ার কথা থাকলেও পরবর্তীতে তা স্থগিত করা হয়েছিল। অর্থাৎ, জামায়াতের এমন কোনো নারী সমাবেশ হয়নি এবং তাই সেখানে ছদ্মবেশে কোনো পুরুষের যোগ দেওয়ার দাবিটিও অবান্তর।

ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি পোস্ট দেখতে পাবেন এখানে,এখানে,এখানে,এখানে,এখানে,এখানে ।

জুনায়েদ আহমেদ মঞ্জু এই ভিডিওর ক্যাপশনে লিখেছেন, “নেন ২ কোটি বোরকার আসল রহস্য…জামাতের মহিলা সমাবেশে মহিলার সংখ্যা বেশি দেখানোর জন্য বোরকা পড়ে সমাবেশে যোগদান।    লিঙ্গ সহ মহিলা _!!🤭”।

রিভার্স ইমেজ সার্চের মাধ্যমে দেখা যাচ্ছে, এই ভিডিওটা গত ১২ এপ্রিল,২০২৫ তারিখে দৈনিক ইত্তেফাকের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ ও ইউটিউব চ্যানেলে আপলোড করা হয়েছিল। ভিডিওর ক্যাপশন ছিল- মার্চ ফর গাজায় অংশগ্রহণকারীর মুখ থেকে বোরখার নেকাব খুলল সেনাবাহিনী।

অপেক্ষাকৃত ভালো রেজোলুশনের এই ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, জনৈক কিশোর ফিলিস্তিনের পতাকা, কালো নিকাব এবং বড় রুমাল/চাদরে পরে এসেছেন। একজন সেনাসদস্য তার দেহ তল্লাশি করছেন। এক পর্যায়ে তার মুখ থেকে কালো আবরণ সরিয়ে তারপর তাকে যেতে দিচ্ছেন। এ সময়ে একজন সেনা সদস্যকে অস্পষ্টভাবে ‘‘মুখ ঢাকা দরকার নেই, ঠিক আছে?’ এমন একটি কথা বলতে শোনা যায়।

দৈনিক জনকণ্ঠতেও এদিন এই ঘটনা নিয়ে ছোট একটি সংবাদ ছাপা হয়।

‘খবরের কাগজ’ এর ফেসবুক পেজেও উক্ত ঘটনার একটি ভিডিও প্রকাশিত হয়। ভিডিওর শেষ দিকে উক্ত কিশোরকে সাংবাদিক প্রশ্ন করেন,আপনাকে কী বলা হয়েছে? ছেলেটি উত্তরে জানায়, আমাকে কোনো কথা বলা হয়নি। শুধু আমার যে পোশাক ওটা খুলে ফেলা হয়েছে এবং আমার খেলনা যে পিস্তল ছিল সেটি রেখে দেওয়া হয়েছে। 

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য , ‘প্যালেস্টাইন সলিডারিটি মুভমেন্ট বাংলাদেশ’ নামের একটি প্ল্যাটফর্মের আহবানে ২০২৫ সালের ১২ এপ্রিল ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ঘোষিত ‘মার্চ ফর গাজা’ কর্মসূচি পালিত হয়। ফিলিস্তিনের পতাকা ও গাজায় ইসরায়েলি হামলার প্রতিবাদে নানা প্ল্যাকার্ড, ব্যানার, ফেস্টুন নিয়ে অনেককেই এই কর্মসূচিতে অংশ নিতে দেখা যায়। সর্বশেষ একটি ঘোষণাপত্র এবং দোয়া ও মোনাজাতের মধ্য দিয়ে এই কর্মসূচি শেষ হয়।

মূল মঞ্চের বাইরে অনেক অংশগ্রহণকারী বেশ কিছু ‘পারফরম্যান্স আর্ট’ উপস্থাপন করেছিলেন সেদিন। যেমন– ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) চারুকলা অনুষদের সামনে অনুষ্ঠিত একটি প্রদর্শনীতে দেখা যায়—গাজায় আহত হওয়া শিশুদের মত করে কয়েকজন শিশু মাথায় ব্যান্ডেজ করে, সেখানে লাল রং লাগিয়ে এবং ফিলিস্তিনের পতাকা নিয়ে হাঁটছেন। মূলত গাজার আহত শিশুদের প্রতি সংহতি জানাতেই এমন আয়োজন।


এই আয়োজনের মধ্যেই উক্ত কিশোরটি ফিলিস্তিনের পতাকা এবং কালো ওড়না ও নিকাবসদৃশ কাপড়ে নিজেকে আবৃত করে মার্চে অংশ নিয়েছিল।

অর্থাৎ এটা নিশ্চিত যে, এই ভিডিওটি গতবছরের ১২ এপ্রিলের, এবং এটা কোনো নারী সমাবেশের ঘটনা নয়।

প্রকৃতপক্ষে, ৩১ জানুয়ারি  রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো নারী সমাবেশ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বৃহস্পতিবার অর্থাৎ ২৯ জানুয়ারি সন্ধ্যায় জামায়াতের পক্ষ থেকে একটি বিবৃতির মাধ্যমে ‘অনিবার্য কারণে’ এই নারী সমাবেশ স্থগিতের কথা জানানো হয়।  

অর্থাৎ, যে সমাবেশ অনুষ্ঠিতই হয়নি, সেখানে কারো অংশগ্রহণের প্রশ্নই আসে না।

প্রসঙ্গত এই একই ভিডিও গত মাসেও ভিন্ন দাবিতে ভাইরাল হতে দেখা যায়। যেমন এই পোস্টে বলা হয়েছে-  “এতদিন শিবির বের হতো ছাত্রলীগের লুঙ্গির নিচে থেকে এখন বের হচ্ছে বোরকার তলে থেকে,,,আজকে ঢাকাতে  মহিলা সেজে আন্দোলন করতে গিয়ে ধরা পড়লেন সেনাবাহিনীর হাতে। ” 

(একই দাবিতে অনুরূপ কয়েকটি পোস্ট দেখতে পাবেন এখানে,এখানে,এখানে,এখানে)

আবার এই পোস্টে দাবি করা হয়েছে- “হাদির বিচারের দাবিতে শাহবাগে আর্মির হাতে হেনস্তার শিকার জামাতি সদস্য ।”

বলাবাহুল্য এই সকল ক্ষেত্রেই গত বছরের মার্চ ফর গাজার এই ভিডিওটি ব্যবহৃত হচ্ছে।

সার্বিক বিবেচনায়, ভুল ক্যাপশনযুক্ত এই সকল ভিডিওকে ফ্যাক্টওয়াচ মিথ্যা সাব্যস্ত করছে ।

Claim:
জামায়াতে ইসলামীর নারী সমাবেশে জনৈক পুরুষ বোরখা পরে যোগ দেওয়ার চেষ্টা করেছেন এবং তাকে পুরুষ হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে মর্মে একটি ভিডিও অনলাইনে ছড়িয়ে পড়েছে।

Claimed By:
Facebook Users

Rating:
False

এই নিবন্ধটি ফেসবুকের ফ্যাক্ট-চেকিং প্রোগ্রামের নীতি মেনে লেখা হয়েছে। এর উপর ভিত্তি করে ফেসবুক যে ধরণের বিধিনিষেধ আরোপ করতে পারে, সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন এখানে।

এছাড়া এই নিবন্ধ সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন, সম্পাদনা কিংবা আরোপিত বিধিনিষেধ তুলে নেয়ার জন্য আবেদন করতে এই লিঙ্কের সাহায্য নিন।

কোনো তথ্যের সত্যতা যাচাই করতে আমাদেরকে
ইমেইল করুনঃ contact@fact-watch.org
অথবা ফেইসবুকে মেসেজ দিনঃ facebook.com/fwatch.bangladesh