সম্প্রতি ফেসবুকে বাংলাদেশের বাজার পরিস্থিতি এবং চাঁদাবাজিকে কেন্দ্র করে ভিন্ন ভিন্ন ক্যাপশনে কিছু ছবি ছড়িয়ে পড়েছে। এদের মধ্যে একটি ক্যাপশনে দাবি করা হচ্ছে যে, বাংলাদেশের বাজারে প্লাস্টিকের ডিমে সয়লাব হয়ে গেছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান চালিয়ে অসাধু ব্যবসায়ীদের হাতেনাতে ধরছে। অন্য একটি ক্যাপশনে বলা হচ্ছে, চাঁদা না দেওয়ায় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও গাড়িচালকদের ওপর হামলা চালিয়ে তাদের দোকানপাট ভাঙচুর করা হয়েছে। তবে ফ্যাক্টওয়াচের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, এই ছবিগুলো কোনো বাস্তব ঘটনার নয়, বরং এগুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে।
ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ছবিগুলো খেয়াল করলে কিছু ভিজ্যুয়াল ত্রুটি দেখতে পাওয়া যাবে। সেই ত্রুটিগুলো সাধারণত এআই নির্মিত কন্টেন্টে দেখা যায়।
প্রথম ছবিতে একজন ঝালমুড়ি বিক্রেতার দোকান রাস্তায় উল্টে যাওয়ার দৃশ্য দেখানো হয়েছে। কিন্তু ছড়িয়ে থাকা মুড়ি ও চানাচুরের আকৃতি বাস্তবের তুলনায় অনেক বড়। পেছনের বাস ও রিকশাগুলোর গঠন অস্পষ্ট, চাকা ও জানালার কাঁচগুলো কোনো সুনির্দিষ্ট কাঠামোর সাথে মেলে না। দোকানের সাইনবোর্ড এবং ঝালমুড়ির গাড়ির ওপরের অক্ষরগুলো অমসৃণ এবং কোনো অর্থপূর্ণ ভাষা নয়। এমনকি ছবিতে থাকা কিছু মানুষের হাতের আঙুলগুলো অস্বাভাবিকভাবে বাঁকানো।
দ্বিতীয় ছবিতে দাবি করা হচ্ছে যে প্লাস্টিকের ডিম জব্দ করার অভিযান চলছে। কিন্তু ছবির পেছনের ব্যানারের লেখাগুলো খেয়াল করলে দেখা যায় সেগুলো কোনো অর্থ তৈরি করে না। ‘মেসার্স রহিম স্টোর’ লেখাটি বোঝা গেলেও নিচের ছোট লেখাগুলো হিজিবিজি এবং অস্পষ্ট। তাছাড়া অভিযানে থাকা ব্যক্তিদের ইউনিফর্মে কোনো আসল সরকারি বাহিনীর লোগো নেই।
তৃতীয় ছবিতে একটি ক্ষতিগ্রস্ত সবুজ রঙের ছোট গাড়ি এবং তার পাশে একজন চালককে কাঁদতে দেখা যাচ্ছে। এই গাড়ি চালকের কাঁধের অংশটি লক্ষ্য করলে দেখা যায়, জামার হাতা গায়ের চামড়ার সাথে খুব অস্বাভাবিকভাবে মিশে আছে। তাছাড়া ছবিটিতে থাকা সবুজ রঙের গাড়িটির কাঠামো কোনো নির্দিষ্ট ব্র্যান্ড বা বাস্তবধর্মী গাড়ির নকশার মতো নয়।
এই অসঙ্গতিগুলো বিবেচনা করে ফেসবুক থেকে এসব ছবি নিয়ে এআই ডিটেকশন টুল ‘ZeroGpt’ এবং ‘ Hive Moderation’ দিয়ে যাচাই করা হয়। টুলগুলো বিভিন্ন মডেলের সাহায্যে বিশ্লেষণ করে জানায়, ছবিগুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তাই সবকিছু বিবেচনা করে ফ্যাক্টওয়াচ এইসকল ছবিগুলোকে বিকৃত হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
Claim: সম্প্রতি ফেসবুকে বাংলাদেশের বাজার পরিস্থিতি এবং চাঁদাবাজিকে কেন্দ্র করে ভিন্ন ভিন্ন ক্যাপশনে কিছু ছবি ছড়িয়ে পড়েছে। এদের মধ্যে একটি ক্যাপশনে দাবি করা হচ্ছে যে, বাংলাদেশের বাজারে প্লাস্টিকের ডিমে সয়লাব হয়ে গেছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান চালিয়ে অসাধু ব্যবসায়ীদের হাতেনাতে ধরছে। অন্য একটি ক্যাপশনে বলা হচ্ছে, চাঁদা না দেওয়ায় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও গাড়িচালকদের ওপর হামলা চালিয়ে তাদের দোকানপাট ভাঙচুর করা হয়েছে।
Claimed By: Facebook users
Rating: False
এই নিবন্ধটি ফেসবুকের ফ্যাক্ট-চেকিং প্রোগ্রামের
নীতি মেনে লেখা হয়েছে। এর উপর ভিত্তি করে ফেসবুক যে ধরণের বিধিনিষেধ আরোপ করতে পারে, সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন এখানে।
এছাড়া এই নিবন্ধ সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন, সম্পাদনা কিংবা আরোপিত বিধিনিষেধ তুলে নেয়ার জন্য আবেদন করতে এই লিঙ্কের সাহায্য নিন।
কোনো তথ্যের সত্যতা যাচাই করতে আমাদেরকে ইমেইল করুনঃ contact@fact-watch.org অথবা ফেইসবুকে মেসেজ দিনঃ facebook.com/fwatch.bangladesh