জামায়াতের আমিরের নামে স্যাটায়ার থেকে বিভ্রান্তি

120
জামায়াতের আমিরের নামে স্যাটায়ার থেকে বিভ্রান্তি
জামায়াতের আমিরের নামে স্যাটায়ার থেকে বিভ্রান্তি

জামায়াতের আমির শফিকুর রহমানের উক্তি হিসেবে প্রথম আলোর ফটোকার্ডের আদলে একটি ফটোকার্ড সম্প্রতি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়তে দেখা যাচ্ছে। ফটোকার্ডে লেখা- জামাত ক্ষমতায় গেলে ১৬ বছর থেকে বিয়ে করা বাধ্যতামূলক করা হবে। ফ্যাক্টওয়াচের অনুসন্ধানে দেখা যাচ্ছে, এটি ছড়িয়েছে 'প্রথম আলু' নামের একটি স্যাটায়ার পেজ থেকে। তবে পোস্টগুলোর কমেন্ট সেকশনে এটিকে সত্যি ভেবে মন্তব্য করেছেন অনেকে। সাম্প্রতিক সময়ে জামায়াতের আমির এ ধরণের কোনো কথা বলেছেন বলে মূলধারার সাংবাদ মাধ্যমে খুঁজে পাওয়া যায়নি। এছাড়া, 'প্রথম আলো'র ভেরিফায়েড পেজ থেকে বলা হয়েছে, এটি তাদের ফটোকার্ড নয়।

          

এ ধরণের পোস্টগুলোর কয়েকটি পোস্ট এখানে, এখানে, এখানে। 

অনুসন্ধানের শুরুতে, আলোচিত ফটোকার্ডটি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, এটির ওপরের দিকে ডান দিকে ‘প্রথম আলু’ লোগো রয়েছে। এই স্যাটায়ার পেজটিতে সূর্য প্রতীকটি একটু বাঁকা কিন্তু ফটোকার্ডের শিরোনামের ওপরে সূর্য প্রতীকটি আসল প্রথম আলোর প্রতীকের মতই। প্রথম আলোর আসল ফটোকার্ড দেখুন, এখানে, এখানে। 

ফটোকার্ডটিতে আরও কিছু অসঙ্গতি রয়েছে, যেমন- ‘জামাত’ বানানটি জামায়াত লেখা হয় প্রথম আলোসহ মূলধারার সাংবাদমাধ্যমে। এছাড়া,  ‘ক্ষমতায় গেলে’ কে লেখা হয়েছে ‘ক্ষমতা গেলে’।

‘প্রথম আলু’ নামের স্যাটায়ার পেজ থেকে ফটোকার্ডটি শেয়ার হয়েছে প্রায় ১ হাজার বার। নানা রকমের ক্যাপশন জুড়ে দিয়ে এটি শেয়ার করা হয়েছে ফেসবুকে। কমেন্ট সেকশনেও হাস্যরসাত্মক মন্তব্যের সঙ্গে সিরিয়াস মন্তব্যও করেছেন অনেকে। 

এদিকে, ‘প্রথম আলো’ তাদের ভেরিফায়েড পেজে ক্রস চিহ্নসহ ‘মিথ্যা প্রচারণা’ স্টিকার দিয়ে কার্ডটি পোস্ট করে লিখেছে,  “প্রথম আলোর নামে ছড়ানো এই তথ্য ও কার্ডটি ভুয়া। আমাদের প্রকাশিত নয়। বিভ্রান্তি এড়াতে আমাদের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ ও অনলাইনের সঙ্গে থাকুন।”   

প্রাসঙ্গিক কি-ওয়ার্ড সার্চে মূলধারার সংবাদমাধ্যমে বিয়ের বয়স সংক্রান্ত এ ধরণের উক্তি জামায়াতের আমির দিয়েছেন বলে জানা যায় না। তবে প্রথম আলোর একটি প্রতিবেদন থেকে বিয়ের বয়স সংক্রান্ত আইন নিয়ে বিস্তারিত জানা যায়। “বিয়ের বয়স ১৮-ই থাকছে, মা-বাবা চাইলে ১৬” এই শিরোনামের প্রতিবেদনটি থেকে জানা যায়, বিগত সরকারের সময়ে, ২০১৫ সালে এ সংক্রান্ত আইনের খসড়ায় বলা হয়, ‘যুক্তিসংগত কারণে মা-বাবা বা আদালতের সম্মতিতে ১৬ বছর বয়সে কোনো নারী বিয়ে করলে সেই ক্ষেত্রে তিনি “অপরিণত বয়স্ক” বলে গণ্য হবেন না।’ 

এছাড়া, প্রাসঙ্গিক কি-ওয়ার্ড সার্চে গত বছরের ২ ডিসেম্বর বিডিনিউজের একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। এই প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, দল রাষ্ট্রক্ষমতায় গেলে দেশের প্রচলিত বিয়ের বয়সসীমাই বহাল রাখবে বলে জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর নেতা শফিকুল ইসলাম মাসুদ। শিশু অধিকার বিষয়ে ইউনিসেফের প্রণীত ইশতেহারে সই করার পর শিশু সাংবাদিকের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।

কাজেই সব দিক বিবেচনা করে এটিই প্রতীয়মান হয় যে, জামায়াতের আমির এ ধরনের বক্তব্য দেননি এবং ফটোকার্ডটি মূলত স্যাটায়ার। সঙ্গত কারণে, এই ফটোকার্ড যুক্ত পোস্টগুলোকে “স্যাটায়ার” হিসেবে সাব্যস্ত করছে ফ্যাক্টওয়াচ।  

Claim:
জামায়াতের আমির শফিকুর রহমানের উক্তি হিসেবে প্রথম আলোর ফটোকার্ডের আদলে একটি ফটোকার্ড সম্প্রতি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়তে দেখা যাচ্ছে। ফটোকার্ডে লেখা- জামাত ক্ষমতায় গেলে ১৬ বছর থেকে বিয়ে করা বাধ্যতামূলক করা হবে।

Claimed By:
Facebook Users

Rating:
False

এই নিবন্ধটি ফেসবুকের ফ্যাক্ট-চেকিং প্রোগ্রামের নীতি মেনে লেখা হয়েছে। এর উপর ভিত্তি করে ফেসবুক যে ধরণের বিধিনিষেধ আরোপ করতে পারে, সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন এখানে

এছাড়া এই নিবন্ধ সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন, সম্পাদনা কিংবা আরোপিত বিধিনিষেধ তুলে নেয়ার জন্য আবেদন করতে এই লিঙ্কের সাহায্য নিন।

কোনো তথ্যের সত্যতা যাচাই করতে আমাদেরকে
ইমেইল করুনঃ contact@fact-watch.org
অথবা ফেইসবুকে মেসেজ দিনঃ facebook.com/fwatch.bangladesh