সম্প্রতি ফেসবুকে একটি ভিডিও ছড়িয়ে দাবি করা হচ্ছে যে, দিল্লিতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান (Masoud Pezeshkian) হিন্দু আধ্যাত্মিক নেতা জগদ্গুরু রামানন্দাচার্য স্বামী সতীশাচার্যের (Jagadguru Ramanandacharya Swami Satishacharya) পা ছুঁয়ে আশীর্বাদ নিয়েছেন। তবে ফ্যাক্টওয়াচের অনুসন্ধানে জানা গেছে যে, এই দাবিটি মিথ্যা। প্রকৃতপক্ষে, ইরানের প্রেসিডেন্ট কোনো ধর্মগুরুর পা স্পর্শ করেননি, বরং নিচে পড়ে যাওয়া কোনো বস্তু তুলে নেওয়ার জন্যই নিচে ঝুঁকেছিলেন। তাকে সাহায্য করতে স্বামী সতীশাচার্যও তখন নিচু হয়েছিলেন।
গত ১১ই সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লির দ্য ওবেরয় হোটেলে ভারতে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত ডঃ মোহাম্মদ ফাতালি একটি বিশেষ সংবর্ধনা ও কালচারাল ইন্টারফেইথ সভার আয়োজন করেছিলেন। ব্রিকস সম্মেলনের ফাঁকে অনুষ্ঠিত এই সংবর্ধনা সভার লক্ষ্য ছিল কূটনৈতিক ও অন্তর্ধর্মীয় সম্পর্ক জোরদার করা। সেখানে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ভারতের বিভিন্ন সম্প্রদায়ের ধর্মীয় নেতা, বুদ্ধিজীবী এবং অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।
মূলত নয়াদিল্লির সেই একই সংবর্ধনা সভার এই ঘটনারই একটি ভিডিও ফুটেজ ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। ভাইরাল হওয়া এই ভিডিওটিতে দেখা যায় প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান মাথা নিচু করছেন। কিন্তু ভিডিওটির ছোট দৈর্ঘ্যের কারণে নিচে করছিলেন তা দেখা যাচ্ছিল না। তাই এই ভিডিও সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়ার জন্য এর বিভিন্ন কি-ফ্রেম ধরে রিভার্স ইমেজ সার্চ করা হয়। ইসমত টিভি (Ismat TV) এবং নিউজ২৪ (News24)-এর এক্স (X) অ্যাকাউন্টে ভিন্ন অ্যাঙ্গেলে এই ভিডিওর বর্ধিত সংস্করণ পাওয়া যায়। সেখানে দেখা যায়, প্রেসিডেন্ট প্রথম নিচে ঝুঁকছেন এবং সঙ্গে সঙ্গে স্বামী সতীশাচার্য মহারাজও তাকে সাহায্য করতে নিচে হাত বাড়িয়ে নিচু হচ্ছেন। এটি দেখে মনে হচ্ছে তাড়া নিচে পড়া কোনো বস্তু তোলার চেষ্টা করছিলেন।
दिल्ली : ईरानी राष्ट्रपति पेजेश्कियान ने धर्मुगुरुओं, कारोबारियों और बुद्धिजीवियों से मुलाकात की
◆ वीडियो सोशल मीडिया पर वायरल हुआ था, जिसमें दावा किया गया कि ईरानी राष्ट्रपति ने जगद्गुरु सतीशाचार्य के पैर छुए
এই ভিডিওটি সম্পর্কে আরওবিস্তারিত তথ্য পাওয়ার জন্য অনুসন্ধান চালালে ইন্ডিয়া টুডের (India Today) একটি রিপোর্ট পাওয়া যায়। সেখান থেকে জানা যায়, ইন্ডিয়া টুডে ইসমত টিভির সাথে যোগাযোগ করে। ইসমত টিভি মূলত একটি ভারতীয় সংস্থা যা ইউটিউবে ধর্মীয় বিষয়বস্তু প্রকাশ করে। সংস্থাটির আলোকচিত্রী হুসেন মেহেদী নিশ্চিত করেন যে, তাদের কর্মীরা ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এবং পা ছোঁয়ার দাবিটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। এছাড়া এই ঘটনার সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন জৈন ভিক্ষু আচার্য লোকেশ মুনি। ইন্ডিয়া টুডেকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, পেজেশকিয়ানকে তার একটি শান্তি কর্মসূচিতে আমন্ত্রণ জানাতেই তিনি ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়েছিলেন। তিনি আরও জানান যে, পেজেশকিয়ান স্বামী সতীশাচার্যের পা ছুঁচ্ছিলেন না; বরং মেঝে থেকে একটি নথি তুলে নিচ্ছিলেন, যেটি তিনি (লোকেশ মুনি) তাকে আমন্ত্রণপত্র হিসেবে দিয়েছিলেন।
এরপরে ভারতে অবস্থিত ইরান দূতাবাস থেকে এই সংক্রান্ত একটি প্রতিক্রিয়া ও স্পষ্টীকরণ দেওয়া হয়েছে। দূতাবাস ভাইরাল ভিডিওটিকে কৃত্রিমভাবে বিকৃত বা বিভ্রান্তিকর (Manipulated) হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। দূতাবাসের বিবৃতিতে স্পষ্টভাবে বলা হয়, অনুষ্ঠানে কথা বলার সময় প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানের হাত থেকে একটি চিঠি বা নথিপত্র নিচে পড়ে যায়। তিনি কেবল সৌজন্যবশত সেটি মেঝে থেকে কুড়িয়ে নিতে নিচু হয়েছিলেন, পা ছুঁয়ে আশীর্বাদ নেওয়ার কোনো ঘটনা সেখানে ঘটেনি। এই তথ্য নিউজ১৮-এর একটি রিপোর্ট থেকে পাওয়া যায়।
এটি প্রমাণিত যে, ভিডিওটির আংশিক কেটে ফেসবুকে ভুল তথ্য ছড়ানো হয়েছিল। সঙ্গত কারণে, এসব ফেসবুক পোস্টগুলোকে মিথ্যা হিসেবে চিহ্নিত করা হলো।
Claim: ইরানের রাষ্ট্রপতি মাসুদ পেজেশকিয়ান ভারতে এক হিন্দু ধর্মগুরুর কাছ থেকে অনন্ত আধ্যাত্মিকতার বার্তা শুনেছেন এবং তার পা ছুঁয়ে আশীর্বাদ লাভ করেছেন।
Claimed By: Facebook users
Rating: False
এই নিবন্ধটি ফেসবুকের ফ্যাক্ট-চেকিং প্রোগ্রামের
নীতি মেনে লেখা হয়েছে। এর উপর ভিত্তি করে ফেসবুক যে ধরণের বিধিনিষেধ আরোপ করতে পারে, সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন এখানে।
এছাড়া এই নিবন্ধ সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন, সম্পাদনা কিংবা আরোপিত বিধিনিষেধ তুলে নেয়ার জন্য আবেদন করতে এই লিঙ্কের সাহায্য নিন।
কোনো তথ্যের সত্যতা যাচাই করতে আমাদেরকে ইমেইল করুনঃ contact@fact-watch.org অথবা ফেইসবুকে মেসেজ দিনঃ facebook.com/fwatch.bangladesh