“হাসিনাকে আপনি গণহত্যাকারী বলতে পারেন না, কারন এখনো কোর্টে তা প্রমাণ হয়নি” - ছাত্র ইউনিয়নের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সংসদের সভাপতি মেঘমল্লার বসুর উদ্ধৃতি হিসেবে এমন একটা বক্তব্য ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে অনুসন্ধানে দেখা যাচ্ছে, মেঘমল্লার বসুর সম্পূর্ণ বক্তব্য তুলে না ধরে কেবলমাত্র আংশিক বক্তব্য তুলে ধরার কারণে তার বক্তব্যের মূলভাবটাই এখানে বিকৃত হয়ে গিয়েছে। সার্বিক বিবেচনায় ফ্যাক্টওয়াচ এ ধরণের সকল ফেসবুক পোস্টকে 'বিভ্রান্তিকর' সাব্যস্ত করছে।
মেঘমল্লার বসু আলোচিত এই উক্তি করেছিলেন গতকাল ৫ ই আগস্ট সন্ধ্যায়। এ সময় টিএসসিতে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির আয়োজিত “৩৬ জুলাই: আমরা থামব না” শীর্ষক ৩ দিন ব্যাপী একটি প্রদর্শনী চলছিল।
এই প্রদর্শনীর একটি অংশে “বিচারিক হত্যাকাণ্ড” ব্যানারে জামায়াতে ইসলামীর আমির মতিউর রহমান নিজামী, সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আব্দুল কাদের মোল্লা, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ কামারুজ্জামান, শুরা সদস্য মীর কাসেম আলী, নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ছবি প্রদর্শিত হয়৷
উল্লেখ্য, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ে তারা সবাই একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হন। তাদের মধ্যে আমৃত্যু কারাদণ্ডে দণ্ডিত সাঈদী কারাগারে মারা যান। ২০১২ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে বাকি ছয়জনের ফাঁসি কার্যকর করা হয়।
বাংলা ট্রিবিউন এর এই প্রতিবেদন থেকে জানা যাচ্ছে, উক্ত প্রদর্শনীতে তাদের ছবি দেখে বিক্ষোভ শুরু করেন বাম ছাত্রজোট ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের একাংশ। বিক্ষোভের এক পর্যায়ে সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম এসে ছাত্রশিবিরের নেতাদের সাথে যোগাযোগ করে ছবিগুলো খুলে নিয়ে যান। এসময় ঢাবি ছাত্রশিবির নেতা মাজহারুল ইসলাম ছবিগুলো খুলে নেওয়ার জন্য সম্মতি দেন।
‘বাংলানিউজ টুয়েন্টি ফোর ডট কম’ এ এই প্রেক্ষিতে মেঘমল্লার বসুর ৫ মিনিট ৩০ সেকেন্ড এর একটি ভিডিও প্রকাশিত হয়েছে। এই ভিডিওর ২ মিনিট ৩৫ তম সেকেন্ডে টিএসসি এলাকায় দাঁড়িয়ে তাকে বলতে শোনা যায়, “সবকিছু তো কোর্টে প্রমাণিত হওয়ার বিষয় না। আজ পর্যন্ত কোনো কোর্টে কি প্রমাণিত হইছে যে শেখ হাসিনা গণহত্যাকারী? কিন্তু আপনার কাছে আইসা যদি কেউ যদি বলে ‘শেখ হাসিনা গণহত্যাকারী না কারণ কোনো কোর্টে প্রমাণিত হয়নি’, তাইলে আপনার তার কলিজাটা টেনে ছিড়ে ফেলতে ইচ্ছা করবে না?……… একই ভাবে কেউ রাজাকারদের ক্ষেত্রেও একই কথা বলে, তাহলে ব্যাপারটা তো একই দাঁড়ায়। ৩০ লক্ষ মানুষের রক্তের দাগ কি তাদের হাতে নাই?”
একই ভিডিওর ৪ মিনিট ৫৫ তম সেকেন্ডে দেখা যায়, তিনি বলছেন, “আমি কী বলছি? আমি বলছি, যেহেতু কোর্টে প্রমাণিত হয় নাই যে শেখ হাসিনা গণহত্যাকারী, তাই বলে ‘শেখ হাসিনা গণহত্যাকারী’ এই কথাটা যদি আমি অস্বীকার করি, তাইলে আপনি আমাকে দালাল বলবেন না? ঠিক একই যুক্তিতে কোর্টে কি প্রমাণিত হইছে না হইছে সেটা অন্য বিষয়। গোলাম আজম যে রাজাকার এটা তো গোলাম আজমের নিজের লেখায় আছে।”
একই দিনে মেঘমল্লার বসু তার ফেসবুক একাউন্ট থেকে বাংলাদেশ সময় রাত ১০টা ৪৩ মিনিটে আপলোড করা এক পোস্টে বলেছেন, “শেখ হাসিনার বিরুদ্ধেও তো কোর্টে কিছু প্রমাণ হয়নি। তাই জন্য যদি কেউ বলে সে গণহত্যা করেনি তাহলে তার কলিজা টেনে ছিড়ে নিতে আপনার ইচ্ছা করবে না? একই কথা একাত্তরের গণহত্যাকারীদের জন্যও প্রযোজ্য। গোলাম আজম রাজাকার এটা বলতে কোর্ট লাগে না।-এই কথাটিকে বিকৃত করে রাজাকারের বাচ্চারা প্রচার করছে। তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে।”
স্পষ্টত দেখা যাচ্ছে, মেঘমল্লার বসু তার নিজের বক্তব্য হিসেবে ‘শেখ হাসিনা গণহত্যাকারী নন’ এমন কিছু বলেননি বরং তিনি একটি কাল্পনিক চিত্র উপস্থাপন করেছেন যেখানে কেউ যদি ‘শেখ হাসিনা গণহত্যাকারী নয়’ এমন দাবি করে, তখনকার পরিস্থিতি কেমন দাঁড়াবে, সেটা নিয়ে আলোচনা করেছেন। অর্থাৎ তার বক্তব্য খন্ডিতভাবে উপস্থাপনের ফলে বক্তব্যের মূল ভাব বদলে গিয়েছে।
সঙ্গত কারনে ফ্যাক্টওয়াচ ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া খন্ডিত বক্তব্যযুক্ত পোস্টগুলোকে “বিভ্রান্তিকর” সাব্যস্ত করছে।
Claim: “হাসিনাকে আপনি গণহত্যাকারী বলতে পারেন না, কারন এখনো কোর্টে তা প্রমাণ হয়নি” - ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ইউনিয়ন সংসদ এর সভাপতি মেঘমল্লার বসুর উদ্ধৃতি হিসেবে এমন একটা বক্তব্য ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে অনুসন্ধানে দেখা যাচ্ছে, মেঘমল্লার বসুর সম্পূর্ণ বক্তব্য তুলে না ধরে কেবলমাত্র আংশিক বক্তব্য তুলে ধরার কারনে তার বক্তব্যের মূলভাবটাই এখানে বিকৃত হয়ে গিয়েছে। সার্বিক বিবেচনায় ফ্যাক্টওয়াচ এ সকল ফেসবুক পোস্টকে 'বিভ্রান্তিকর' সাব্যস্ত করছে।
Claimed By: Facebook Users
Rating: Mostly false
এই নিবন্ধটি ফেসবুকের ফ্যাক্ট-চেকিং প্রোগ্রামের
নীতি মেনে লেখা হয়েছে। এর উপর ভিত্তি করে ফেসবুক যে ধরণের বিধিনিষেধ আরোপ করতে পারে, সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন এখানে।
এছাড়া এই নিবন্ধ সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন, সম্পাদনা কিংবা আরোপিত বিধিনিষেধ তুলে নেয়ার জন্য আবেদন করতে এই লিঙ্কের সাহায্য নিন।
কোনো তথ্যের সত্যতা যাচাই করতে আমাদেরকে ইমেইল করুনঃ contact@fact-watch.org অথবা ফেইসবুকে মেসেজ দিনঃ facebook.com/fwatch.bangladesh