নব্বই দিনের মধ্যে শপথ গ্রহণ না করলে আসন শূন্য হয়- সংবিধান সূত্রে এমন একটি তথ্য উল্লেখ করে দাবি করা হচ্ছে, ঢাকা-৮ আসন শুন্য হয়েছে। কিছু কিছু পোস্টে আরও দাবি করা হচ্ছে, এই আসন থেকে নির্বাচিত মির্জা আব্বাস অসুস্থ থাকায় ৯৫ দিনেও শপথ নিতে পারেননি। ফ্যাক্টওয়াচের অনুসন্ধানে দেখা যায়, গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা ১৭ ফেব্রুয়ারি শপথ গ্রহণ করেন। ওইদিন মির্জা আব্বাসও শপথ নেন। ফলে ঢাকা-৮ আসন শূন্য হওয়ার দাবিতে ফেসবুকে প্রচারিত দাবিটি ভিত্তিহীন এবং এটির কোনো সত্যতাও পাওয়া যায়নি।
ফেসবুকে প্রচারিত পোস্টগুলোতে বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৬৭ (১) (ক) এর কথা বলা হচ্ছে।
সংসদ সদস্যদের আসন শূন্য হওয়ার ব্যাপারে সংবিধানের এই অনুচ্ছেদে উল্লেখ রয়েছে, ‘তাঁহার (সংসদ সদস্যের) নির্বাচনের পর সংসদের প্রথম বৈঠকের তারিখ হইতে নব্বই দিনের মধ্যে তিনি তৃতীয় তফসিলে নির্ধারিত শপথগ্রহণ বা ঘোষণা করিতে ও শপথপত্রে বা ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষরদান করিতে অসমর্থ হন: তবে শর্ত থাকে যে, অনুরূপ মেয়াদ অতিবাহিত হইবার পূর্বে স্পীকার যথার্থ কারণে তাহা বর্ধিত করিতে পারিবেন।’
অর্থাৎ যদি কোনো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর সংসদের প্রথম বৈঠকের দিন থেকে ৯০ দিনের মধ্যে শপথ নিতে বা ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষর করতে না পারেন, তাহলে তার আসন শূন্য হবে। তবে, এই ৯০ দিন শেষ হওয়ার আগে স্পিকার উপযুক্ত কারণ থাকলে সময় বাড়াতে পারবেন।
ঢাকা-৮ এর সংসদ সদস্য মির্জা আব্বাস কি শপথ নিয়েছিলেন
প্রাসঙ্গিক কি-ওয়ার্ড সার্চে দেখা যায়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা গত ১৭ ফেব্রুয়ারি শপথ গ্রহণ করেন। ওইদিন ঢাকা-৮ থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য মির্জা আব্বাসের শপথ নেওয়ার ব্যাপারে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত একাধিক প্রতিবেদন পাওয়া যায়। এসব প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, মির্জা আব্বাস সেদিন সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন।
যেমন, ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত বাংলাদেশ প্রতিদিনের একটি প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ওইদিন শপথগ্রহণ শেষে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন মির্জা আব্বাস। তিনি বলেন, ‘দেশবাসীর প্রতি আমি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি, তারা তাদের প্রতিনিধি নির্বাচিত করে সংসদে পাঠাতে পেরেছে। আমি তাদের প্রতিনিধি হয়ে অত্যন্ত আনন্দ ও গর্বিত বোধ করছি।’
এসব প্রতিবেদন থেকে নিশ্চিত হওয়া যায়, মির্জা আব্বাস সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন।
প্রসঙ্গত, গত ১১ মার্চ ইফতারের সময় তিনি হঠাৎ জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। অবস্থার উন্নতি না হলে গভীর রাতে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি মালয়েশিয়ায় চিকিৎসা নিচ্ছেন। এমন পরিস্থিতিতে তার সংসদ সদস্যপদ বাতিল হওয়া বা তার আসনটি শূন্য ঘোষণা করার দাবিটির কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি।
ফলে ঢাকা-৮ আসন শূন্য হওয়ার দাবিটিকে ফ্যাক্টওয়াচ মিথ্যা হিসেবে চিহ্নিত করছে।
Claim: ঢাকা-৮ আসন শূন্য হয়েছে। সংবিধান অনুযায়ী ৯০ দিনের মধ্যে শপথ গ্রহণ না করলে আসন শূন্য হয়।
Claimed By: Facebook Users
Rating: False
এই নিবন্ধটি ফেসবুকের ফ্যাক্ট-চেকিং প্রোগ্রামের
নীতি মেনে লেখা হয়েছে। এর উপর ভিত্তি করে ফেসবুক যে ধরণের বিধিনিষেধ আরোপ করতে পারে, সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন এখানে।
এছাড়া এই নিবন্ধ সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন, সম্পাদনা কিংবা আরোপিত বিধিনিষেধ তুলে নেয়ার জন্য আবেদন করতে এই লিঙ্কের সাহায্য নিন।
কোনো তথ্যের সত্যতা যাচাই করতে আমাদেরকে ইমেইল করুনঃ contact@fact-watch.org অথবা ফেইসবুকে মেসেজ দিনঃ facebook.com/fwatch.bangladesh