জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের স্থাবর সম্পত্তি ক্রোক এবং অস্থাবর সম্পত্তি অবরুদ্ধের আদেশ দিয়েছেন আদালত-এমন একটি দাবি ফেসবুকে প্রচার করা হচ্ছে। অনেক সংবাদমাধ্যমও প্রতিবেদন করে পরে সরিয়ে ফেলেছে। দাবিটির সত্যতা যাচাইয়ে দেখা যায়, আদালত যে সাহাবুদ্দিনের সম্পত্তি নিয়ে আদেশ দিয়েছেন, তিনি সাবেক রাষ্ট্রপতি নন। অভিযুক্ত মো. সাহাবুদ্দিন রাজধানীর সিদ্দিকবাজার এলাকার বাসিন্দা। তার বাবার নাম আব্দুর রব। তার স্থায়ী ঠিকানা নোয়াখালীর সদর উপজেলার মাতারবাড়ি গ্রামে।
সংবাদমাধ্যমের সরিয়ে ফেলা কিছু প্রতিবেদনের স্ক্রিনশট দেখুন-
দাবিটির সত্যতা যাচাইয়ে প্রাসঙ্গিক কি-ওয়ার্ড সার্চে জাগো নিউজ২৪-এ প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন পায় ফ্যাক্টওয়াচ। প্রতিবেদনটিতে উল্লেখ করা হয়, জ্ঞাত আয়বহির্ভূত প্রায় এক কোটি ৮৭ লাখ টাকার সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মো. সাহাবুদ্দিন নামে এক ব্যক্তির স্থাবর সম্পত্তি ক্রোক এবং অস্থাবর সম্পদ অবরুদ্ধের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। তবে অভিযুক্ত ব্যক্তি বাংলাদেশের ২২তম সাবেক রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন নন বলে নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্ট আদালত।
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) ঢাকার মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ ও মহানগর দায়রা জজ আদালত এ আদেশ দেন।
মামলার নথি সূত্রে সংবাদমাধ্যমটি লিখেছে, অভিযুক্ত মো. সাহাবুদ্দিন রাজধানীর সিদ্ধিকবাজার এলাকার বাসিন্দা। তার বাবার নাম আব্দুর রব। তার স্থায়ী ঠিকানা নোয়াখালীর সদর উপজেলার মাতারবাড়ি গ্রামে। সংশ্লিষ্ট আদালত জানিয়েছে, মামলার অভিযুক্ত মো. সাহাবুদ্দিন বাংলাদেশের ২২তম সাবেক রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন নন। নামের মিল থাকায় বিভ্রান্তির সুযোগ তৈরি হলেও আদালত বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পরবর্তীতে দৈনিক কালবেলার সাংবাদিক বীর সাহাবীর একটি ফেসবুক পোস্ট নজরে আসে ফ্যাক্টওয়াচের।
এই পোস্টে একটি নথি যুক্ত করে বীর সাহাবী লিখেন, ‘নোয়াখালীর সাহাবুদ্দিনকে বানিয়ে দিল পাবনার সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন! শুধু নাম দেখেই রিপোর্ট হয়ে যায় আমাদের দেশে। যাচাই-বাছাইয়ের কোনও প্রয়োজনই নেই?’…সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের জন্ম পাবনায়—এই সাধারণ জ্ঞান ছাড়া কীভাবে ‘শীর্ষস্থানীয়’ গণমাধ্যম পরিচালনা করছে?
তার শেয়ার করা নথিটিতেও সাহাবুদ্দিনের পরিচয়ে লেখা রয়েছে, তার বর্তমান ঠিকানা রাজধানীর সিদ্দিকবাজার এলাকায়। বাবার নাম আব্দুর রব। তার স্থায়ী ঠিকানা নোয়াখালীর সদর উপজেলার মাতারবাড়ি গ্রামে। বীর সাহাবীর কাছ থেকে নথিটি সংগ্রহ করেছে ফ্যাক্টওয়াচ।
এই নথিতে কোথাও এই সাহাবুদ্দিন যে সাবেক রাষ্ট্রপতি তেমন কোনো উল্লেখ নেই।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশের সদ্য সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন সম্পর্কে জানা যায়, তিনি পাবনা শহরের জুবিলি ট্যাঙ্কপাড়ায় (শিবরামপুর) জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা শরফুদ্দিন আনছারী ও মা খায়রুন্নেসা।
প্রসঙ্গত, নোয়াখালীর বাসিন্দা সাহাবুদ্দিনের সম্পত্তি ক্রোক করার আদালতের নির্দেশকে ভুলভাবে উপস্থাপন করে তাকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে উল্লেখ করেছিল বেশ কিছু সংবাদমাধ্যম। এই সংবাদমাধ্যমগুলোর অনেকেই ইতিমধ্যে তাদের প্রতিবেদনগুলো সরিয়ে নিয়েছে বা নতুন করে প্রকাশ করেছে।
স্টার নিউজের এমন দুটি প্রতিবেদনের স্ক্রিনশট দেখুন-
এসব বিশ্লেষণ থেকে স্পষ্ট যে, যে সাহাবুদ্দিনের সম্পত্তি ক্রোক করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তিনি সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন নন, দুইজন আলাদা আলাদা ব্যক্তি। তাই ফ্যাক্টওয়াচ এসব দাবিকে মিথ্যা হিসেবে চিহ্নিত করছে।
Claim: সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের স্থাবর সম্পত্তি ক্রোক এবং অস্থাবর সম্পত্তি অবরুদ্ধের আদেশ দিয়েছেন আদালত
Claimed By: %post_author%
Rating: False
এই নিবন্ধটি ফেসবুকের ফ্যাক্ট-চেকিং প্রোগ্রামের
নীতি মেনে লেখা হয়েছে। এর উপর ভিত্তি করে ফেসবুক যে ধরণের বিধিনিষেধ আরোপ করতে পারে, সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন এখানে।
এছাড়া এই নিবন্ধ সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন, সম্পাদনা কিংবা আরোপিত বিধিনিষেধ তুলে নেয়ার জন্য আবেদন করতে এই লিঙ্কের সাহায্য নিন।
কোনো তথ্যের সত্যতা যাচাই করতে আমাদেরকে ইমেইল করুনঃ contact@fact-watch.org অথবা ফেইসবুকে মেসেজ দিনঃ facebook.com/fwatch.bangladesh