প্রকৌশলী বনাম ডিপ্লোমা বিতর্কে কালবেলার নামে ভুয়া ফটোকার্ড প্রচার

208
প্রকৌশলী বনাম ডিপ্লোমা বিতর্কে কালবেলার নামে ভুয়া ফটোকার্ড প্রচার
প্রকৌশলী বনাম ডিপ্লোমা বিতর্কে কালবেলার নামে ভুয়া ফটোকার্ড প্রচার

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রকৌশলী জনাব মমিন মজিবুল হক সমাজী কে উদ্ধৃত করে ‘দৈনিক কালবেলা’ এর একটি ফটোকার্ড সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। দাবি করা হচ্ছে, জনাব মজিবুল হক ‘ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের প্রকৌশল নলেজ বুয়েটের প্রফেসরদের চেয়েও বেশি’ এমন একটি মন্তব্য করেছেন। তবে অনুসন্ধানে দেখা যাচ্ছে, দৈনিক কালবেলাতে এমন কোনো ফটোকার্ড প্রকাশিত হয়নি। এছাড়া জনাব মজিবুল হক নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক প্রোফাইল থেকেও জানাচ্ছেন যে, তিনি এমন কোনো বিবৃতি দেননি। সঙ্গত কারনে ফ্যাক্টওয়াচ এ সকল পোস্টকে ‘মিথ্যা’ সাব্যস্ত করছে।

গুজবের উৎস

৩১ আগস্ট দুপুর ৩টা ১৮ মিনিটের পর থেকে ফেসবুকের বিভিন্ন গ্রুপ এবং প্রোফাইল থেকে একযোগে এই ফটোকার্ডগুলো প্রকাশিত হতে দেখা যায়। এসব কার্ডে জনাব মজিবুল হকের উদ্ধৃতি হিসেবে লেখা হয়, “পড়াশোনা করেছি বুয়েটে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং এ। বিভিন্ন প্রজেক্টে বুয়েটের ছাত্র এবং শিক্ষকদের সাথে কাজ করেছি। আমি হলফ করে বলতে পারি,আমার সাথে কাজ করা ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের ইঞ্জিনিয়ারিং নলেজ বুয়েটের প্রফেসরদের চেয়েও বেশী’’

এমন কয়েকটি পোস্ট দেখতে পাবেন এখানে,এখানে,এখানে,এখানে,এখানে

এই ফটোকার্ডের নিচে কালবেলার ওয়েবসাইট এড্রেস এবং উপরে ডানপাশে কালবেলার লোগো দেখা যাচ্ছে। 

অনুসন্ধান

কালবেলা অনলাইন’ নামক পেজ থেকে ৩১ আগস্ট তারিখে মোট ১১১টি ফটোকার্ড পোস্ট করা হয়েছিল। আর ‘কালবেলা’ নামক পেজ থেকে ৩১ আগস্ট তারিখে সর্বমোট ১১৫টি ফটোকার্ড আপলোড করা হয়েছিল। এসবের মধ্যে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া আলোচিত ফটোকার্ডটি দেখা যায়নি।

এছাড়া কালবেলায় প্রকাশিত অন্যান্য উদ্ধৃতিমূলক ফটোকার্ডের সাথেও এই কার্ডের বেশ কিছু অমিল দেখা যাচ্ছে। যেমন-

১। দু’টি ফটোকার্ডে ফন্টের অমিল দেখা যাচ্ছে
২। আসল ফটোকার্ডে বক্তার নাম লাল কালিতে এবং পরিচয় কালো কালিতে লেখা হচ্ছে। আলোচ্য ফটোকার্ডে সবই কালো কালিতে লেখা হচ্ছে।
৩। আসল ফটোকার্ডগুলোতে বক্তার নাম এক লাইনে এবং পরিচয় আরেক লাইনে লেখা হয়। পরিচয়ের ক্ষেত্রে প্রয়োজনে লাইনের মাঝে কমা ব্যবহার করা হয়। তবে আলোচ্য ফটোকার্ডে নাম লেখা হয়েছে দুই লাইনে, পরিচয়ও লেখা হয়েছে দুই লাইনে। এছাড়া তৃতীয় লাইনের শেষে কমা দেওয়া হয়েছে। 

‘কালবেলা’র পেজ থেকে প্রকাশিত আরো কিছু উদ্ধৃতিমূলক ফটোকার্ড দেখতে পাবেন এখানে।এসব কার্ডের সাথেও আলোচ্য ফটোকার্ডের অমিল লক্ষনীয়। 

এছাড়া, জনাব মজিবুল হকের ফেসবুক একাউন্ট এবং ইউটিউব চ্যানেল– দুই জায়গাতেই নাম Momin Mozibul Haque Shamaji ( মমিন মজিবুল হক সমাজী )। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের(LGED)ওয়েবসাইটেও তার এই নামটিই দেখা যাচ্ছে। কিন্তু আলোচ্য ফটোকার্ডে বক্তার নাম হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে ‘বিলবন্ধু মমিন মজিবুল হক টুটুল সমাজী’, যে নামটি তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোথাও ব্যবহার করতে দেখা যাচ্ছেনা।

অর্থাৎ, এটা নিশ্চিতভাবে বলা যায় যে আলোচিত ফটোকার্ডটি দৈনিক কালবেলা থেকে প্রকাশিত হয়নি, বরং ভিন্ন কোনো উৎস থেকে কেউ তৈরি করেছেন ।

সর্বোপরি, জনাব মজিবুল হক তার ভেরিফায়েড ফেসবুক প্রোফাইল থেকে ৩১আগস্ট সন্ধ্যা ৬ টা ৩১ মিনিটে প্রকাশিত একটি ভিডিও বার্তায় জানান, ‘আমি কখনই কোন বক্তব্যে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন এই প্রতিষ্ঠান (বুয়েট) সম্পর্কে বিরুপ মন্তব্য করিনি। কাজেই ব্যক্তি বা গোষ্ঠী স্বার্থে আমার বক্তব্যকে খন্ডিত বা বিকৃতভাবে উপস্থালন করা হলে তাৎক্ষণিক আমি আপনার বন্ধু হবার সৌভাগ্য থেকে বঞ্চিত হবার পথ বেছে নেব।’



এছাড়া ১ সেপ্টেবর রাত ৮টা ৩৪ মিনিটে একটি ‘ফেসবুক লাইভ’ সেশনে তিনি আবারো একই কথা বলেন। এ সময় তিনি একটি ট্যাবে আলোচিত ফটোকার্ডটি দেখিয়ে বলেন, “একটা পেপার কাটিং আপনাদের দেখাতে চাই। এইভাবে একটা নিউজ করা হয়েছে ,হুইচ ইজ ফেক। কেননা, এই ধরনের কোনো কিছুর সাথে আমি যুক্ত ছিলাম না। এবং এই ধরনের কোনো স্টেটমেন্ট দেওয়ার কোনো প্রশ্নই আসেনা। আমি অনুরোধ করব এইভাবে ফলস এ্যান্ড ফ্যাব্রিকেটেড নিউজ কোনো কিছুর নাম না দিয়ে প্রকাশ না করার জন্য। এরপরে যা বা যারা এমন করবেন,তাদের বিরুদ্ধে আমি কঠোর ব্যবস্থা নিতে কিন্তু বাধ্য হব।”’
 
অর্থাৎ, এটা নিশ্চিতভাবে বোঝা যাচ্ছে যে আলোচ্য ফটোকার্ডগুলোর সাথে জনাব মজিবুল হকের কোনো সম্পর্ক নেই। এখানে তাকে ভুলভাবে উদ্ধৃত করা হয়েছে। সার্বিক বিবেচনায় ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ভুল ফটোকার্ডযুক্ত পোস্টগুলোকে ফ্যাক্টওয়াচ মিথ্যা সাব্যস্ত করছে।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, গত কয়েক দিনে বুয়েটসহ কয়েকটি প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং এর শিক্ষার্থীরা তিন দফা দাবি নিয়ে আন্দোলন শুরু করেছে। অন্যদিকে আইডিইবি ও পলিটেকনিক শিক্ষার্থীরা সাত দফা দাবিতে আন্দোলন করছে। এই পাল্টাপাল্টি আন্দোলনের পটভুমিতে একজন প্রকৌশলীর বক্তব্য দাবিতে এই ভুয়া ফটোকার্ডটি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছিল।

Claim:
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রকৌশলী জনাব মমিন মজিবুল হক সমাজী কে উদ্ধৃত করে ‘দৈনিক কালবেলা’ এর একটি ফটোকার্ড সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। দাবি করা হচ্ছে, জনাব মজিবুল হক ‘ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের প্রকৌশল নলেজ বুয়েটের প্রফেসরদের চেয়েও বেশি’ এমন একটি মন্তব্য করেছেন।

Claimed By:
Facebook Users

Rating:
False

এই নিবন্ধটি ফেসবুকের ফ্যাক্ট-চেকিং প্রোগ্রামের নীতি মেনে লেখা হয়েছে। এর উপর ভিত্তি করে ফেসবুক যে ধরণের বিধিনিষেধ আরোপ করতে পারে, সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন এখানে

এছাড়া এই নিবন্ধ সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন, সম্পাদনা কিংবা আরোপিত বিধিনিষেধ তুলে নেয়ার জন্য আবেদন করতে এই লিঙ্কের সাহায্য নিন।

কোনো তথ্যের সত্যতা যাচাই করতে আমাদেরকে
ইমেইল করুনঃ contact@fact-watch.org
অথবা ফেইসবুকে মেসেজ দিনঃ facebook.com/fwatch.bangladesh