সম্প্রতি ফেসবুকে কিছু পোস্টে দাবি করা হচ্ছে, ড. ইউনূসের বাড়িতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। তবে ফ্যাক্টওয়াচের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ছবিগুলো কোনো বাস্তব ঘটনার নয়, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে। কোনো মূলধারার সংবাদমাধ্যমে এমন অগ্নিকান্ড সংক্রান্ত কোনো খবর পাওয়া যায়নি।
ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ছবিগুলো খেয়াল করলে কিছু ত্রুটি দেখতে পাওয়া যায়। এ ধরনের ত্রুটিগুলো সাধারণত এআই নির্মিত কন্টেন্টে দেখা যায়।
ছবিগুলোর ঠিক ডান পাশে নিচের দিকে একটি সাদা তারকা চিহ্ন দেখা যায়। গুগল জেমিনাই দিয়ে কোনো ছবি তৈরি করা হলে এই জলছাপটি দেখা যায়। এছাড়া পুরো ছবিতে দেখা যায়, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের লোকজন বিক্ষিপ্ত ভাবে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছেন। হালকা সবুজ, নীল ও বাদামি রঙের পোশাকে পুলিশকে দেখা যায়। বাংলাদেশ পুলিশের বর্তমান পোশাকের সাথে দাবিকৃত ছবিগুলোর অমিল রয়েছে। আগুন নেভানোর কাজে ব্যবহৃত ফায়ার সার্ভিসের ওয়াটার পাইপগুলো অস্বাভাবিকভাবে পড়ে আছে।
এসব অসঙ্গতি থেকে ধারণা করা যায়, ছবিগুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দিয়ে তৈরি। এই অসঙ্গতিগুলো বিবেচনা করে ফেসবুক থেকে ছবিগুলো নিয়ে এআই ডিটেকশন টুল ‘SynthID’ এবং ‘Hive Moderation’ দিয়ে যাচাই করা হয়। টুলগুলো বিভিন্ন মডেলের সাহায্যে বিশ্লেষণ করে জানায়, ছবিগুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
ড. ইউনূসের বাড়ি সম্পর্কে খোঁজ করলে ফেসবুকে একটি পোস্ট পাওয়া যায়। দাবি করা হয়, ছবিতে থাকা ‘নিরিবিলি’ নামের বাড়িটিতে ড. ইউনূস বেড়ে ওঠেন। বাড়িটির নীল গেট, ভবনের গঠন, লাল রঙের পিলারের সাথে এআই দিয়ে বানানো ছবির মিল রয়েছে। ধারণা করা যায়, এই বাড়ির ছবি ব্যবহার করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা জেমিনাই দিয়ে ছবিটি তৈরি করা হয়েছে। এটি নিশ্চিত নয় যে এই বাড়িটি তার কি না তবে এটি নিশ্চিত যে এই ছবিগুলো ব্যবহার করে এআই দিয়ে বানানো ছবি দিয়ে দাবিটি ছড়ানো হচ্ছে।
অন্যদিকে, ড. ইউনূসের বাড়িতে অগ্নিকান্ডের এমন কোনো সংবাদ দেশের মূলধারার গণমাধ্যম বা নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে খুঁজে পাওয়া যায়নি।
তাই সবকিছু বিবেচনা করে ফ্যাক্টওয়াচ ভিত্তিহীন এই দাবিটিকে মিথ্যা হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
Claim: সম্প্রতি ফেসবুকে কিছু পোস্টে দাবি করা হচ্ছে, ড. ইউনূসের বাড়িতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।
Claimed By: Facebook Users
Rating: False
এই নিবন্ধটি ফেসবুকের ফ্যাক্ট-চেকিং প্রোগ্রামের
নীতি মেনে লেখা হয়েছে। এর উপর ভিত্তি করে ফেসবুক যে ধরণের বিধিনিষেধ আরোপ করতে পারে, সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন এখানে।
এছাড়া এই নিবন্ধ সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন, সম্পাদনা কিংবা আরোপিত বিধিনিষেধ তুলে নেয়ার জন্য আবেদন করতে এই লিঙ্কের সাহায্য নিন।
কোনো তথ্যের সত্যতা যাচাই করতে আমাদেরকে ইমেইল করুনঃ contact@fact-watch.org অথবা ফেইসবুকে মেসেজ দিনঃ facebook.com/fwatch.bangladesh