ভারতে মুসলিম নির্যাতনের ঘটনা বাংলাদেশে ভিন্ন ভিন্ন দাবিতে প্রচার 

50
ভারতে মুসলিম নির্যাতনের ঘটনা বাংলাদেশে ভিন্ন ভিন্ন দাবিতে প্রচার 
ভারতে মুসলিম নির্যাতনের ঘটনা বাংলাদেশে ভিন্ন ভিন্ন দাবিতে প্রচার 

ফেসবুকে ছোট একটি ভিডিও ক্লিপ ভিন্ন ভিন্ন দাবিতে শেয়ার করা হচ্ছে। এর মধ্যে একটি দাবি হচ্ছে,  জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমীর ও মুক্তিযুদ্ধে মানবতা-বিরোধী অপরাধের দায়ে অভিযুক্ত গোলাম আযমকে ভাষা সৈনিক বলায় ছাত্রদল নেতার হামলার শিকার হন জামায়াত নেতারা। আরেকটি দাবি হচ্ছে, চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে ওয়াজ করায় ইমাম-মুয়াজ্জিনকে মারধর করা হয়েছে। ফ্যাক্টওয়াচের অনুসন্ধানে দেখা যায়, ভিডিওটি বাংলাদেশের নয়। এটি ভারতের উত্তর প্রদেশের এক হিন্দু যুবক কর্তৃক মুসলিম নির্যাতনের ঘটনা। এ ঘটনায় পুলিশ অভিযুক্তকে আদালতে হাজির করে। সেখান থেকে তাকে জেল হাজতে পাঠানো হয়।

ফেসবুকে উপরিউক্ত দাবিতে প্রচারিত কিছু পোস্ট দেখুন-

দাবি ১ঃ এখানে, এখানে, এখানে, এখানে, এখানে

দাবি ২ঃ এখানে, এখানে, এখানে। 

দাবিটির সত্যতা যাচাইয়ে রিভার্স ইমেজ সার্চে এক্সে (সাবেক টুইটার) রানবিজয় সিং নামের একটি অ্যাকাউন্টে ভিডিওটি পাওয়া যায়। গত শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) ভিডিওটি টুইট করা হয়। 

এর বর্ণনায় বলা হয়েছে, ঘটনাটি ভারতের উত্তর প্রদেশে ঘটেছে। অক্ষয় নামে এক যুবক মোটরসাইকেল চালিয়ে যাচ্ছিলেন। ওই রাস্তায় তিনজন মুসলিম ব্যক্তি হাঁটছিলেন। তাদের পাশ কাটিয়ে যাওয়ার জন্য যথেষ্ট জায়গা থাকা সত্ত্বেও তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে তাদের পেছনে গাড়ি থামিয়ে হর্ন বাজাতে শুরু করেন। কোনো ধরনের উসকানি ছাড়াই তিনি তাদের গালিগালাজ ও চড় মারতে শুরু করেন।

পোস্টের সূত্রে পরবর্তীতে ভারতীয় কিছু সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনেও ভিডিওটি নিয়ে তথ্য পাওয়া যায়। অমর উজালা নামে একটি সংবাদমাধ্যম লিখেছে, এটি ভারতের উত্তর প্রদেশের বাদাউন জেলার ঘটনা। জেলার ইসলামনগর থানা এলাকার রুদায়নে তিনজনকে মারধরের মামলায় পুলিশ অভিযুক্ত যুবক অক্ষয়কে আদালতে হাজির করে। সেখান থেকে তাকে জেল হাজতে পাঠানো হয়।

ভারতের অন্যান্য সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন দেখুন এখানে, এখানে। 

এ ছাড়া তুরস্কভিত্তিক সংবাদমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ডের ইনস্টাগ্রামেও ভিডিওটি পাওয়া যায়। 

সংবাদমাধ্যমটি ফুটেজটি সম্পর্কে লিখেছে, এটি গত ১৫ ফেব্রুয়ারির ঘটনা। ভারতের উত্তর প্রদেশে এক যুবক বাইক থামিয়ে তিনজন বয়স্ক পথচারীকে মারধর করে। মারধরের শিকার ব্যক্তিরা মুসলিম। তারা যাকাতের টাকা সংগ্রহে যাচ্ছিলেন। 

অর্থাৎ একজন বয়স্ক ব্যক্তিকে মারধরের যে ভিডিওটি বাংলাদেশে ভিন্ন ভিন্ন দাবিতে প্রচার করা হচ্ছে, সেটি মূলত ভারতের ঘটনা। তাই ফ্যাক্টওয়াচ এই দাবিগুলোকে মিথ্যা হিসেবে রেট করছে। 

Claim:
ফেসবুকে ছোট একটি ভিডিও ক্লিপ ভিন্ন ভিন্ন দাবিতে শেয়ার করা হচ্ছে। এর মধ্যে একটি দাবি হচ্ছে, জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমীর ও মুক্তিযুদ্ধে মানবতা-বিরোধী অপরাধের দায়ে অভিযুক্ত গোলাম আযমকে ভাষা সৈনিক বলায় ছাত্রদল নেতার হামলার শিকার হন জামায়াত নেতারা। আরেকটি দাবি হচ্ছে, চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে ওয়াজ করায় ইমাম-মুয়াজ্জিনকে মারধর করা হয়েছে।

Claimed By:
Facebook Users

Rating:
False

এই নিবন্ধটি ফেসবুকের ফ্যাক্ট-চেকিং প্রোগ্রামের নীতি মেনে লেখা হয়েছে। এর উপর ভিত্তি করে ফেসবুক যে ধরণের বিধিনিষেধ আরোপ করতে পারে, সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন এখানে

এছাড়া এই নিবন্ধ সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন, সম্পাদনা কিংবা আরোপিত বিধিনিষেধ তুলে নেয়ার জন্য আবেদন করতে এই লিঙ্কের সাহায্য নিন।

কোনো তথ্যের সত্যতা যাচাই করতে আমাদেরকে
ইমেইল করুনঃ contact@fact-watch.org
অথবা ফেইসবুকে মেসেজ দিনঃ facebook.com/fwatch.bangladesh