সম্প্রতি ফেসবুকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে শহীদ মুগ্ধর বাবার বক্তব্য দাবিতে প্রায় সাড়ে ৩ মিনিটের একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে।এই আন্দোলনের সময় ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই রাজধানীর উত্তরার আজমপুরে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিইউপি) শিক্ষার্থী মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধ। ওই সময় সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যায়, গুলিবিদ্ধ হওয়ার আগে মুগ্ধ আন্দোলনকারীদের মধ্যে পানি বিতরণ করছিলেন। সম্প্রতি ভাইরাল ভিডিওটি শেয়ার করে দাবি করা হচ্ছে, মুগ্ধের বাবা বলেছেন, তাঁর ছেলে পানি খাওয়াতে গিয়ে শহীদ হননি। ফ্যাক্টওয়াচের অনুসন্ধানে দেখা যায়, মুগ্ধর বাবার বক্তব্য দাবিতে ভাইরাল ভিডিওটি ভিন্ন ব্যক্তির। মূলত, বক্তব্যটি ছিল বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আরেক শহীদ রাজধানীর মিলিটারি ইনস্টিটিউট অফ সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির (এমআইএসটি) ছাত্র আসহাবুল ইয়ামিনের বাবার। ইয়ামিন আন্দোলন চলাকালে ১৮ জুলাই সাভারে গুলিবিদ্ধ হন। এরপর তাকে পুলিশের সাঁজোয়া যানের ওপরে ঘোরানো হয়, পরে জীবিত অবস্থায়ই সড়ক বিভাগকে ফেলে দেওয়া হলে সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়।
ভিডিওটির সত্যতা যাচাইয়ে প্রাসঙ্গিক কি-ওয়ার্ড সার্চে ‘এখন টিভি’র ইউটিউব চ্যানেলে খুঁজে পাওয়া যায়। এটির শুরুতেই মুগ্ধর বাবার দাবিতে প্রচারিত বক্তব্যটি পাওয়া যায়।
গত ৮ মে পোস্ট করা এই ভিডিওর শুরুতেই ওই ব্যক্তি নিজের পরিচয় তুলে ধরে বলেন, ‘আমি মোহাম্মদ মহিউদ্দিন, আমার ছেলে আসহাবুল ইয়ামিন। আমার ছেলে ফেসবুকে কোনো পোস্ট দিয়ে শহীদ হয়নি। আমার ছেলে কোনো আন্দোলনকারীকে পানি খাওয়াতে গিয়ে শহীদ হয়নি। আমার ছেলে কোথাও পুলিশের সামনে বুক পেতে দিয়ে শহীদ হয়নি। আমার ছেলে সাধারণ জনগণ-ছাত্রদের যখন পুলিশের এপিসি থেকে গুলি করা হচ্ছিল তখন সে পুলিশের গুলি থেকে ছাত্র-জনতাকে বাঁচানোর জন্য এপিসির উপরে উঠে যায় এবং ঢাকনা ওঠাতে যায়। এ সময় পুলিশ এপিসি থেকে নিচে নেমে তার বুকের বাম পাশে ক্লোজ ডিসটেন্স থেকে শটগান দিয়ে গুলি করে। তারপর সে যখন এপিসির উপরে পড়ে যায় তখন তারা বিভিন্ন দিকে প্রদক্ষিণ করে।’
একইদিনে সময় টিভির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত ভিডিওতেও এই ব্যক্তিকে শহীদ ইয়ামিনের বাবা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ভিডিও প্রতিবেদনটি দেখুন এখানে।
এ ছাড়া একইদিন প্রকাশিত দেশের অন্যান্য সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনেও এই ব্যক্তিকে শহীদ ইয়ামিনের বাবা হিসেবেই পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়েছে।
দাবিটি সম্পর্কে আরও নিশ্চিত হওয়া যায় শহীদ মুগ্ধ ও ইয়ামিনের বাবার ছবির তুলনামূলক যাচাই থেকে। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত দুইজনের বাবার ছবি সংগ্রহ করে তুলনামূলক যাচাই করে ফ্যাক্টওয়াচ। এতে নিশ্চিত হওয়া যায়, ভাইরাল ভিডিওতে থাকা ব্যক্তিটি মুগ্ধ নয়, ইয়ামিনের বাবা।
তাই ফ্যাক্টওয়াচ দাবিটিকে মিথ্যা হিসেবে সাব্যস্ত করছে।
নোট: প্রতিবেদনটির পূর্বের শিরোনামটি (‘আমার ছেলে পানি খাওয়াতে গিয়ে শহীদ হয়নি’- ভাইরাল বক্তব্যটি মুগ্ধর নয়, ইয়ামিনের বাবার) সহজবোধ্য না হওয়ায় এটি পরিবর্তন করে বর্তমান শিরোনাম দেওয়া হয়েছে।
Claim: সম্প্রতি ফেসবুকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে শহীদ মুগ্ধর বাবার বক্তব্য দাবিতে প্রায় সাড়ে ৩ মিনিটের একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওটি শেয়ার করে দাবি করা হচ্ছে, মুগ্ধের বাবা বলেছেন, তাঁর ছেলে পানি খাওয়াতে গিয়ে শহীদ হননি।
Claimed By: Facebook Users
Rating: False
এই নিবন্ধটি ফেসবুকের ফ্যাক্ট-চেকিং প্রোগ্রামের
নীতি মেনে লেখা হয়েছে। এর উপর ভিত্তি করে ফেসবুক যে ধরণের বিধিনিষেধ আরোপ করতে পারে, সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন এখানে।
এছাড়া এই নিবন্ধ সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন, সম্পাদনা কিংবা আরোপিত বিধিনিষেধ তুলে নেয়ার জন্য আবেদন করতে এই লিঙ্কের সাহায্য নিন।
কোনো তথ্যের সত্যতা যাচাই করতে আমাদেরকে ইমেইল করুনঃ contact@fact-watch.org অথবা ফেইসবুকে মেসেজ দিনঃ facebook.com/fwatch.bangladesh