ভিডিওটিতে অখণ্ড ভারত ও বাংলাদেশ প্রসঙ্গে কোনো মন্তব্য করেননি মোদি

29
ভিডিওটিতে অখণ্ড ভারত ও বাংলাদেশ প্রসঙ্গে কোনো মন্তব্য করেননি মোদি
ভিডিওটিতে অখণ্ড ভারত ও বাংলাদেশ প্রসঙ্গে কোনো মন্তব্য করেননি মোদি

সম্প্রতি ফেসবুকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির একটি ভিডিও বক্তব্য ভাইরাল হয়েছে। এতে মোদিকে হিন্দিতে বলতে শোনা যায়, বৃহত্তর ইসরায়েল এবং অখন্ড ভারত প্রতিষ্ঠার জন্য ‘আতংকবাদী’ ইরানের পতন ঘটাতে হবে। ভিডিওটিতে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশ বাংলাদেশ, পাকিস্তান, নেপাল নিয়েও তাকে মন্তব্য করতে শোনা যায়। ফ্যাক্টওয়াচের অনুসন্ধানে দেখা যায়, নরেন্দ্র মোদির এই বক্তব্যযুক্ত ভিডিওটি এআই জেনারেটেড। গত ১২ মার্চ ভারতে আয়োজিত এনএক্সটি ২০২৬ সামিটে দেওয়া মোদির এই বক্তব্যে বৃহত্তর ইসরায়েল, অখন্ড ভারত ও ইরানের পতন নিয়ে এমন কোনো মন্তব্য নেই।

ফেসবুকে এই দাবিতে প্রচারিত কিছু পোস্ট দেখুন এখানে, এখানে, এখানে, এখানেএখানে। 

ভাইরাল ভিডিওটির কিছু কি-ফ্রেম রিভার্স সার্চে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ডিডি নিউজের ইউটিউব চ্যানেলে নরেন্দ্র মোদির সম্পূর্ণ বক্তব্যটি পাওয়া যায়। প্রায় ৩৫ মিনিটের এই বক্তব্যে নরেন্দ্র মোদী ভারতের দ্রুত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং উদ্ভাবন ও প্রযুক্তির দ্বারা চালিত বিশ্বনেতা হিসেবে দেশটির উত্থানের ওপর জোর দিয়েছেন। তিনি বিকশিত ভারত (Developed India)-এর দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন, এবং বিশ্বব্যাপী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ও একটি শক্তিশালী ভবিষ্যৎ তৈরিতে দেশের সক্রিয় ভূমিকার ওপর জোর দেন।

তার ভাষণের মূল বিষয়বস্তুর মধ্যে আছে ভারতের জন্য বৈশ্বিক আশাবাদ, ভারতের পরবর্তী প্রজন্মের জন্য বিভিন্ন পরিকাঠামো তৈরি, বিভিন্ন রূপান্তরমূলক সংস্কার, জ্বালানি শক্তি নিরাপত্তা এবং আত্মনির্ভরতা: নবায়নযোগ্য শক্তির লক্ষ্য, বামপন্থী চরমপন্থা মোকাবিলা ইত্যাদি।

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে নরেন্দ্র মোদী ভারতের প্রতিবেশী অঞ্চলে চলমান একটি বড় যুদ্ধ সম্পর্কে কথা বলেছেন এবং উল্লেখ করেছেন যে এই সংঘাত পুরো বিশ্বকে একটি বিশাল জ্বালানি সংকটের মধ্যে ঠেলে দিয়েছে। তার বক্তব্যে এই সংকট মোকাবেলায় ভারতের সক্রিয় পদক্ষেপ,  সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রাখতে বিভিন্ন দেশের শীর্ষ নেতাদের সাথে আলোচনা চালিয়ে যাওয়া ইত্যাদি বিষয়গুলোও রয়েছে। 

পুরো বক্তব্যে অখন্ড ভারত, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর নাম উল্লেখ করে কোনো মন্তব্য করতে তাকে শোনা যায়নি।

নরেন্দ্র মোদীর অফিসিয়াল ইউটিউব চ্যানেলেও ভিডিওটি পাওয়া যায়। দেখুন এখানে। 

আবার ফেসবুকে এই দাবিতে প্রচারিত কিছু ভিডিওতে ভারতীয় সংবাদ সংস্থা এএনআইয়ের লোগো দেখা যায়। 

এই সূত্রে অনুসন্ধানে সংবাদমাধ্যমটির এক্স অ্যাকাউন্টে গতকাল শুক্রবার (১৩ মার্চ) করা একটি পোস্ট পাওয়া যায়। পোস্টে ভাইরাল ভিডিওর একটি স্ক্রিনশট যুক্ত করে এএনআই জানায়, নিচের এক্স হ্যান্ডলটি নরেন্দ্র মোদির একটি এআই দিয়ে বিকৃত ভিডিও প্রচার করছে। মোদি এমন কোনো মন্তব্য করেননি।

এএনআইয়ের যুক্ত ওই স্ক্রিনশটে ইংরেজিতে লেখা, ‘ভারত চুপিসারে পাকিস্তানের সাথে, এমনকি ইরানের সাথেও, সম্পূর্ণ যুদ্ধ ঘোষণা করেছে এবং মধ্যপ্রাচ্যের নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য ইসরায়েলের এজেন্ডার সাথে সম্পূর্ণভাবে একমত হয়েছে। দিল্লিতে এনএক্সটি শীর্ষ সম্মেলনে বক্তৃতা দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেছেন, পুরো অঞ্চলে সন্ত্রাসবাদ ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য ইরানকে জবাবদিহি করতে হবে।… বৃহত্তর ইসরায়েল এবং অখণ্ড ভারতের জন্য এটিই একমাত্র পথ।’ 

ফ্যাক্টওয়াচের অনুসন্ধানে দেখা যায়, এই স্ক্রিনশটের ভিডিওটিই বাংলাদেশে প্রচার হচ্ছে। 

পরবর্তীতে আরও অনুসন্ধানে আন্তর্জাতিক ফ্যাক্টচেকিং নেটওয়ার্ক (আইএফসিএন) স্বীকৃত নেপালের ফ্যাক্টচেকিং প্রতিষ্ঠান নেপাল ফ্যাক্টচেকে নরেন্দ্র মোদির ভিডিওটি নিয়ে একটি ফ্যাক্টচেক প্রতিবেদন পাওয়া যায়।

হিন্দি ভাষায় প্রকাশিত প্রতিবেদনটিতে প্রতিষ্ঠানটি জানায়, নেপাল, বাংলাদেশসহ অন্যান্য দেশগুলোকে একীভূত করে অখণ্ড ভারতে পরিণত করার দাবিতে প্রচারিত মোদীর ভিডিওটি এআই প্রযুক্তির সাহায্যে তৈরি একটি ডিপফেক। তাদের প্রতিবেদনটি পড়ুন এখানে। 

অনুসন্ধানে প্রাপ্ত এসব ফলাফলের ভিত্তিতে ফ্যাক্টওয়াচ ভিত্তিহীন ভিডিওটিকে মিথ্যা হিসেবে চিহ্নিত করছে।

 

Claim:
উ*গ্রবাদী রাষ্ট্রটি অখণ্ড ভারতের স্বপ্নে এখনো বিভোর

Claimed By:
Facebook Users

Rating:
False

এই নিবন্ধটি ফেসবুকের ফ্যাক্ট-চেকিং প্রোগ্রামের নীতি মেনে লেখা হয়েছে। এর উপর ভিত্তি করে ফেসবুক যে ধরণের বিধিনিষেধ আরোপ করতে পারে, সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন এখানে

এছাড়া এই নিবন্ধ সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন, সম্পাদনা কিংবা আরোপিত বিধিনিষেধ তুলে নেয়ার জন্য আবেদন করতে এই লিঙ্কের সাহায্য নিন।

কোনো তথ্যের সত্যতা যাচাই করতে আমাদেরকে
ইমেইল করুনঃ contact@fact-watch.org
অথবা ফেইসবুকে মেসেজ দিনঃ facebook.com/fwatch.bangladesh