সাভারে এনসিপি সমাবেশে বিস্ফোরণ, সাবেক ওসির নামে ছড়াচ্ছে ভুয়া মন্তব্য

12
সাভারে এনসিপি সমাবেশে বিস্ফোরণ, সাবেক ওসির নামে ছড়াচ্ছে ভুয়া মন্তব্য
সাভারে এনসিপি সমাবেশে বিস্ফোরণ, সাবেক ওসির নামে ছড়াচ্ছে ভুয়া মন্তব্য

ঢাকার সাভারে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জুলাই পদযাত্রার পর সমাবেশে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। গতকাল সোমবার রাত পৌনে ১০টার দিকে সাভারের তারাপুর ঈদগাহ মাঠ এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। এটিকে কেন্দ্র করে ফেসবুকে সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) বক্তব্য দাবিতে একটি ফটোকার্ড প্রচার করা হচ্ছে। এতে দাবি করা হচ্ছে, ‘সাভারে এনসিপির সমাবেশে বোমা হামলার ঘটনায় দুই জন আটক, জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে দুইজনই এনসিপির কর্মী।’ ফ্যাক্টওয়াচের অনুসন্ধানে দেখা যায়, আকবর আলী খান নামে যেই কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এই দাবি করা হচ্ছে, তিনি বর্তমানে সাভার মডেল থানায় নেই। ২০২৪ সালের শুরুর দিকে তার সাভার মডেল থানায় কর্মরত থাকার তথ্য পাওয়া যায়। এ ছাড়া এনসিপির সমাবেশে বিস্ফোরণের ঘটনায় দলটিরই দুইজনকে আটকের দাবিটি ভিত্তিহীন।  

ফেসবুকে প্রচারিত কিছু পোস্ট দেখুন এখানে, এখানে, এখানে, এখানেএখানে। 

ভিত্তিহীন দাবি

দাবিটির সত্যতা যাচাইয়ে প্রাসঙ্গিক কি-ওয়ার্ড সার্চে দেশের কোনো সংবাদমাধ্যমে এনসিপির সমাবেশে বিস্ফোরণের ঘটনায় কাউকে আটকের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। 

সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, এই ঘটনায় অজ্ঞাতদের আসামি করে সাভার মডেল থানায় একটি বিস্ফোরক মামলা করেছে এনসিপি।

বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে এই ঘটনায় নূর মোহাম্মদ নামে এক পুলিশ কর্মকর্তার নাম পাওয়া যায়। 

দৈনিক সমকাল তার পরিচয়ে  উল্লেখ করেছে তিনি সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা। দৈনিক যুগান্তরের প্রতিবেদনে তাকে উল্লেখ করা হয়েছে সাভার মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) হিসেবে। 

নূর মোহাম্মদের বক্তব্যতে কোথাও দুইজন আটক কিংবা জড়িতদের সাথে এনসিপির সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া যায়নি।

আকবর আলী খান সাভার থানায় ছিলেন ২০২৪ সালে

প্রাসঙ্গিক কি-ওয়ার্ড সার্চে আরটিভির ওয়েবসাইটে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, নূর মোহাম্মদ ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে সাভার মডেল থানায় কর্মরত অবস্থায় রাষ্ট্রপতি পুলিশ পদক পান। 

অর্থাৎ প্রায় দুই বছর আগে তার সাভার মডেল থানায় কর্মরত থাকার তথ্য পাওয়া যায়। 

এ ছাড়া ২০২৪ সালের মার্চে আকবর আলী খানের গাজীপুরের শ্রীপুর থানায় যোগদানের তথ্য পাওয়া যায়। 

অপরদিকে থানাটির বর্তমান ওসি সম্পর্কে জানতে অনুসন্ধানে দৈনিক দেশ রূপান্তরে গত ২৬ মে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, আইন-শৃঙ্খলার অবনতির কারণে সাভার মডেল থানার ওসি আরমান আলীকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়। এরপর থানাটিতে নতুন করে কেউ ওসি হিসেবে যোগ দিয়েছেন কিনা এমন কোনো তথ্য পাওয়া যায় না।

তবে এটি নিশ্চিত হওয়া যায়, এনসিপির সমাবেশে বিস্ফোরণ ঘিরে দলটিরই দুইজনকে আটকের যে দাবি একজন ওসির বরাত দিয়ে করা হচ্ছে, তিনি এই থানায় সাম্প্রতিক সময়ে কর্মরত নন।

সাভার মডেল থানা যা বলছে

দাবিটির ব্যাপারে আরও নিশ্চিত হতে ফ্যাক্টওয়াচ সাভার মডেল থানায় যোগাযোগ করে। থানাটির পরিদর্শক (তদন্ত) নূর মোহাম্মদ জানান, এনসিপির সমাবেশে বিস্ফোরণের ঘটনায় দলটিরই দুইজনকে আটকের দাবি সত্য নয়। এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি।

পাশাপাশি ওসি সম্পর্কে তিনি বলেন, বর্তমানে থানাটিতে কোনো অফিসার ইনচার্জ না থাকায় তিনিই ভারপ্রাপ্ত অফিসার ইনচার্জ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। 

সার্বিক বিশ্লেষণে ফ্যাক্টওয়াচ আলোচিত ভিত্তিহীন দাবিটিকে মিথ্যা হিসেবে চিহ্নিত করছে।

Claim:
ঢাকার সাভারে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জুলাই পদযাত্রার পর সমাবেশে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। গতকাল সোমবার রাত পৌনে ১০টার দিকে সাভারের তারাপুর ঈদগাহ মাঠ এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। এটিকে কেন্দ্র করে ফেসবুকে সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) বক্তব্য দাবিতে একটি ফটোকার্ড প্রচার করা হচ্ছে। এতে দাবি করা হচ্ছে, ‘সাভারে এনসিপির সমাবেশে বোমা হামলার ঘটনায় দুই জন আটক, জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে দুইজনই এনসিপির কর্মী।’

Claimed By:
Facebook Users

Rating:
False

এই নিবন্ধটি ফেসবুকের ফ্যাক্ট-চেকিং প্রোগ্রামের নীতি মেনে লেখা হয়েছে। এর উপর ভিত্তি করে ফেসবুক যে ধরণের বিধিনিষেধ আরোপ করতে পারে, সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন এখানে

এছাড়া এই নিবন্ধ সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন, সম্পাদনা কিংবা আরোপিত বিধিনিষেধ তুলে নেয়ার জন্য আবেদন করতে এই লিঙ্কের সাহায্য নিন।

কোনো তথ্যের সত্যতা যাচাই করতে আমাদেরকে
ইমেইল করুনঃ contact@fact-watch.org
অথবা ফেইসবুকে মেসেজ দিনঃ facebook.com/fwatch.bangladesh