সম্প্রতি ফেসবুকে একটি মারামারির ভিডিও ছড়িয়ে পড়ছে। ক্যাপশনে দাবি করা হচ্ছে কক্সবাজারে চাঁদা না দেওয়ায় বিএনপির সন্ত্রাসীরা এক তরুণকে কুপিয়ে হত্যা করেছে। তবে ফ্যাক্টওয়াচের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ভিডিওটি কক্সবাজারের নয় এবং এর সাথে বাংলাদেশের কোনো রাজনৈতিক দলের সম্পর্ক নেই। এটি ভারতের হরিয়ানা রাজ্যের পাঞ্চকুলা (Panchkula) জেলায় ঘটা একটি সহিংসতার দৃশ্য।
আলোচিত ভিডিওটির প্রকৃত উৎস এবং প্রেক্ষাপট জানার জন্য এর বিভিন্ন কি-ফ্রেম ব্যবহার করে রিভার্স ইমেজ সার্চ করা হয়। এর ফলে ‘Aman Bhardwaj’ নামক একটি এক্স অ্যাকাউন্টে ভাইরাল ভিডিওটির অনুরূপ একটি ভিডিও খুঁজে পাওয়া যায়। সেখানে উল্লেখ করা হয়, ঘটনাটি ভারতের হরিয়ানা রাজ্যের পাঞ্চকুলার কালকা এলাকার ‘গান্ধী চক’-এ ঘটেছিল। সেখানে নিখিল চৌরাসিয়া (Nikhil Chaurasia) নামে এক তরুণকে মুখোশধারী একদল লোক ধারালো অস্ত্র ও রড দিয়ে আক্রমণ করে।
এই সূত্র অনুযায়ী প্রাসঙ্গিক কিছু কি-ওয়ার্ড ধরে সার্চ করে ভারতীয় মূলধারার একাধিক সংবাদমাধ্যমেও এই একই সিসিটিভি ফুটেজ ও ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ পাওয়া যায়। ‘টিভি৯ হিন্দি’ (TV9 Hindi) এবং ‘দৈনিক সাভেরা হরিয়ানা’ (Dainik Savera Haryana)-র প্রকাশিত সংবাদ থেকে জানা যায় যে, ২০২৬ সালের ৭ সেপ্টেম্বর রাতে কালকার গান্ধী চকে ৭ থেকে ৮ জন যুবক মিলে এই হামলা চালিয়েছিল। সিসিটিভি ফুটেজে হামলাকারীদের কুড়াল, লাঠি ও রড নিয়ে অতর্কিতে তরুণের ওপর চড়াও হতে দেখা যায়। এতে নিখিল চৌরাসিয়া গুরুতর আহত হলে তাকে চিকিৎসার জন্য চণ্ডীগড়ের পিজিআই (PGI Chandigarh) হাসপাতালে নেওয়া k হয়।
ঘটনার পর পুলিশ একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করে। পরবর্তীতে পাঞ্চকুলা পুলিশ অভিযান চালিয়ে মূল অভিযুক্তসহ মোট পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে। এরপরে আদালত থেকে ৩ দিনের পুলিশ রিমান্ডে নেয়। পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে মূল অভিযুক্ত ঈশান ওরফে বাল্লি স্বীকার করে যে, ট্যাক্সি যাত্রীদের নিয়ে নিখিল এবং তার সহযোগীদের সাথে তাদের পুরনো শত্রুতা ছিল এবং এই শত্রুতার জেরেই নিখিলের ওপর হামলা চালানো হয়।
সুতরাং, ঘটনাটি বাংলাদেশের কক্সবাজারের নয় বরং ভারতের। সঙ্গত কারণে, এসব ফেসবুক পোস্টগুলোকে মিথ্যা হিসেবে চিহ্নিত করা হলো।
Claim: কক্সবাজারে চাঁদা না দেওয়ায় বিএনপির সন্ত্রাসীরা এক তরুণকে কুপিয়ে হত্যা করেছে।
Claimed By: Facebook users
Rating: False
এই নিবন্ধটি ফেসবুকের ফ্যাক্ট-চেকিং প্রোগ্রামের
নীতি মেনে লেখা হয়েছে। এর উপর ভিত্তি করে ফেসবুক যে ধরণের বিধিনিষেধ আরোপ করতে পারে, সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন এখানে।
এছাড়া এই নিবন্ধ সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন, সম্পাদনা কিংবা আরোপিত বিধিনিষেধ তুলে নেয়ার জন্য আবেদন করতে এই লিঙ্কের সাহায্য নিন।
কোনো তথ্যের সত্যতা যাচাই করতে আমাদেরকে ইমেইল করুনঃ contact@fact-watch.org অথবা ফেইসবুকে মেসেজ দিনঃ facebook.com/fwatch.bangladesh