শাহবাগে জুলাই স্মৃতিস্মম্ভে গোবর লেপনের ভুয়া দাবি

37
শাহবাগে জুলাই স্মৃতিস্মম্ভে গোবর লেপনের ভুয়া দাবি
শাহবাগে জুলাই স্মৃতিস্মম্ভে গোবর লেপনের ভুয়া দাবি

‘শাহবাগে জুলাই স্তম্ভে গোবর মেখে দিল তাওহীদি জনতা’ - এমন দাবিতে একটি ছবি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে মূলধারার গণমাধ্যমে এমন কোনো তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না। এছাড়া গোবর মাখা জুলাই স্তম্ভের ছবিটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি করার আলামত পাওয়া গেছে।

ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি পোস্ট দেখতে পাবেন এখানে, এখানে,এখানে। 

২০২৪ সালের জুলাই- আগস্টের শহীদদের স্মরণে বাংলাদেশ সরকারের উদ্যোগে  দেশের ৬৪ জেলায় অভিন্ন নকশা ও ডিজাইনে জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। জুলাই বিপ্লবের বর্ষপূর্তিতে এগুলো ধারাবাহিকভাবে উদ্বোধন শুরু  হয়। ২০২৪ সালের ১৪ জুলাই নারায়ণগঞ্জে প্রথম জুলাই স্মৃতিস্তম্ভটি উদ্বোধন করা হয়। ২০২৫ সালের ৪ আগস্ট ঢাকার শাহবাগ মোড়ে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ স্থাপন করা হয়।

সম্প্রতি এমন কয়েকটি জুলাই স্মৃতিস্মম্ভে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটেছে।যেমন –

১। মানিকগঞ্জ পৌরসভার মানোরা এলাকায় অবস্থিত জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে ৩০ ডিসেম্বর  দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছিল।  আগুনে স্মৃতিস্তম্ভের নিচের কিছু অংশ পুড়ে কালো হয়ে গেছে। 

২। ১২ নভেম্বর মধ্যরাতে বরগুনার সার্কিট হাউস মাঠের উত্তর-পূর্ব কোণে অবস্থিত জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, কেউ একজন তার হাতে থাকা কোনো কিছুতে অগ্নিসংযোগ করে জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে নিক্ষেপ করে দ্রুত পালিয়ে যায়।

৩। পটুয়াখালীতে ১৪ নভেম্বর সকালে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভের নিচের অংশে আগুন দেওয়ার চিহ্ন ও কালো দাগ দেখতে পায় স্থানীয়রা।  এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। ভিডিওতে স্মৃতিস্তম্ভে আগুন দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দুর্বৃত্তদের  বলতে শোনা যায় জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে  আগুন দেওয়ার মাধ্যমে আমরা জননেত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনব।

৪। ফেনী জেলার মুক্তবাজারে জুলাই-আগস্টে নিহতদের স্মরণে নির্মিত জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে গত ১৬ নভেম্বর ভোররাতে আগুন দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও ছেড়ে দেয়া হয়।

ভিডিওতে দেখা যায়, দুর্বৃত্তরা মুখে মাস্ক লাগিয়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন লাগিয়ে পালিয়ে যায়।
যে ছবিটা সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, সেই ছবির জিওলোকেশন বের করে একে শাহবাগ মোড় হিসেবেই চিহ্নিত করা যাচ্ছে। এছাড়া জনৈক সাইফুল রাজুর তোলা এই ছবিতে শাহবাগ মোড়ের জুলাই সৃতিস্তম্ভ এবং আশেপাশের প্রতিটি উপাদান একই রয়েছে দেখা যাচ্ছে। তবে শাহবাগের জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে এমন অগ্নিকাণ্ড বা ভাঙচুরের কোনো খবর গণমাধ্যমে দেখা যাচ্ছে না।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ( আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা এ আই) শনাক্তকারী কয়েকটি টুল ব্যবহার করে জানা  যাচ্ছে যে এই ছবিটা নির্মাণে খানিকটা এআই এর ব্যবহার রয়েছে। যেমন,  গুগলের এআই জেনারেটেড কনটেন্ট শনাক্তকারী টুল সিন্থআইডি (SynthID) জানাচ্ছে যে এই ছবির কিছু অংশ গুগল এআই এর সাহায্যে তৈরি করা হয়েছে।  অস্ট্রেলিয়ার বাফেলো বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের উদ্যোগে নির্মিত এআই শনাক্তকারী ওয়েবসাইট, ডিপ ফেক ও মিটার (deepfakeometer) থেকে,Gliff নামক টুলটি ব্যবহার করে জানা গেল,  এই ছবিটা এ আই দিয়ে তৈরির সম্ভাবনা ৯৯.৮৫%

সর্বশেষ,১৫ ডিসেম্বর স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার পদত্যাগ দাবি করে শাহবাগ মোড় অবরোধ করেছে এনসিপির ছাত্র সংগঠন ‘জাতীয় ছাত্র শক্তি’। গণমাধ্যমে প্রকাশিত এ সংক্রান্ত প্রতিবেদনে ব্যবহৃত ছবিতে দেখা যাচ্ছে, শাহবাগ মোড়ে অবস্থিত জুলাই স্মৃতিস্তম্ভটি অক্ষত দাঁড়িয়ে আছে। সেখানে গোবর বা অন্য কোনো বিকৃতি লক্ষ্য করা যায়নি। যেমন দেখুন এখানে,এখানে

সার্বিক বিবেচনায় ফ্যাক্টওয়াচ এ সকল ছবিকে ‘বিকৃত’ সাব্যস্ত করছে।

Claim:
‘শাহবাগে জুলাই স্তম্ভে গোবর মেখে দিল তাওহীদি জনতা’ - এমন দাবিতে একটি ছবি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

Claimed By:
Facebook Users

Rating:
Mostly false

এই নিবন্ধটি ফেসবুকের ফ্যাক্ট-চেকিং প্রোগ্রামের নীতি মেনে লেখা হয়েছে। এর উপর ভিত্তি করে ফেসবুক যে ধরণের বিধিনিষেধ আরোপ করতে পারে, সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন এখানে

এছাড়া এই নিবন্ধ সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন, সম্পাদনা কিংবা আরোপিত বিধিনিষেধ তুলে নেয়ার জন্য আবেদন করতে এই লিঙ্কের সাহায্য নিন।

কোনো তথ্যের সত্যতা যাচাই করতে আমাদেরকে
ইমেইল করুনঃ contact@fact-watch.org
অথবা ফেইসবুকে মেসেজ দিনঃ facebook.com/fwatch.bangladesh