চলমান জ্বালানি পরিস্থিতিতে সরকার জ্বালানি তেলের দাম প্রায় ২০ শতাংশ কমিয়ে দিয়েছে -এমন একটি খবর অনলাইনে ছড়িয়ে পড়েছে। একটি পেট্রোল পাম্পে ঝোলানো নতুন মূল্য তালিকার সামনে ক্রেতাদের উল্লাস প্রকাশের ছবিও সামাজিক মাধ্যমে দেখা যাচ্ছে। তবে অনুসন্ধানে দেখা যাচ্ছে, এই ছবিগুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি। এছাড়া বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের মূল্য তালিকা থেকে দেখা যাচ্ছে, গত ফেব্রুয়ারি মাস থেকে জ্বালানি তেলের মূল্য একই রয়েছে এবং সাম্প্রতিক সময়ে মূল্য কমানো বা বাড়ানো হয়নি।
এসব পোস্টে দাবি করা হয়েছে, “আলহামদুলিল্লাহ সিন্ডিকেট ভাঙতে সরকার প্রতি লিটার অকটেন ৯৫ টাকা পেট্রোল ৯৩ টাকা আর ডিজেল ৮০ টাকা করল এটাই হলো তরুণ প্রধানমন্ত্রীর দারুন সিদ্ধান্ত।। এখন আরো বড় স্টক বাটপারদের শিক্ষা দিতে এমন সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়েছে সর্বস্তরের জনগণ।’’ (বানান অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে)
এই পোস্টে সংযুক্ত ছবিতে একটি পেট্রোল পাম্পে অসংখ্য ক্রেতাকে উল্লাস প্রকাশ করতে দেখা যাচ্ছে। সেখানে বেশ বড় আকারে একটি সাইনবোর্ডে অকটেন, পেট্রোল ও ডিজেলের মূল্যতালিকা দেখা যাচ্ছে। তবে এখানে প্রতিটি শব্দেই এক বা দুই বর্ণ একটু ভিন্নভাবে লেখা হয়েছে, যে ধরনের বর্ণ বাংলা বর্ণমালায় নেই, তবে কাছাকাছি বর্ণ রয়েছে। সাধারণত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই এর সাহায্যে বাংলা বাক্যযুক্ত ছবি/সাইনবোর্ড তৈরির ক্ষেত্রে এই ধরনের ত্রুটি দেখা যায়।
এই ছবিগুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা শনাক্তকারী কয়েকটি টুলের সাহায্যে যাচাই করে দেখা গেল, এই ছবিটি এআই নির্মিত। হাইভ মডারেশন এবং জিরোজিপিটির বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এই ছবিগুলো ৯৭% থেকে ৯৯% পর্যন্ত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে তৈরি।
প্রায় কাছাকাছি উপাদান নিয়ে ভিন্ন আরেকটি ছবিও অনলাইনে দেখা যাচ্ছে (যেমন দেখুন এখানে, এখানে, এখানে)। এখানে পেট্রোল পাম্পের সাইনবোর্ডে পরিষ্কার বাংলায় লেখা ছিল- “সরকার নির্ধারিত নতুন ন্যায্য মূল্য অকটেন ৯৫ টাকা পেট্রোল-৯৩ টাকা ডিজেল-৮০ টাকা ‘’
তবে এই ছবির পেছনে ভিন্ন আরেকটি সাইনবোর্ডে পুনরায় অসংলগ্ন বাংলার ব্যবহার দেখা যাচ্ছে। হাইভ মডারেশন, সাইট ইঞ্জিন, মাই ডিটেক্টর, ডিকপি ইত্যাদি এআই শনাক্তকারী টুলগুলোর বিশ্লেষণে এই ছবিটিতেও ৯২% থেকে ৯৯% পর্যন্ত এআই এর উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের ওয়েবসাইট থেকে দেখা যাচ্ছে, গত ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ থেকে পেট্রোল ১১৬ টাকা, ডিজেল ১০০ টাকা এবং অক্টেন ১২০ টাকা মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে বর্তমানে এই মূল্যেই জ্বালানি বিক্রি হচ্ছে। কোথাও কোথাও সরকার নির্ধারিত এই মূল্যের চেয়েও বেশি দামে জ্বালানি বিক্রির খবর পাওয়া যাচ্ছে। (যেমন- বরিশাল, রংপুর, নীলফামারি ইত্যাদি) তবে এই মূল্যের চেয়েও কম মূল্যে জ্বালানি বিক্রির কোনো সংবাদ কোথাও দেখা যাচ্ছে না।
দৈনিক প্রথম আলোর এই প্রতিবেদন থেকে জানা যাচ্ছে, ১ মার্চ, ২০২৬ তারিখেও জ্বালানি তেলের দাম অপরিবর্তিত ছিল।
সার্বিক বিবেচনায় ফ্যাক্টওয়াচ এই সকল পোস্টকে ‘মিথ্যা’ সাব্যস্ত করছে।
Claim: চলমান জ্বালানি পরিস্থিতিতে সরকার জ্বালানি তেলের দাম প্রায় ২০ শতাংশ কমিয়ে দিয়েছে -এমন একটি খবর অনলাইনে ছড়িয়ে পড়েছে। একটি পেট্রোল পাম্পে ঝোলানো নতুন মূল্য তালিকার সামনে ক্রেতাদের উল্লাস প্রকাশের ছবিও সামাজিক মাধ্যমে দেখা যাচ্ছে।
Claimed By: Facebook Users
Rating: False
এই নিবন্ধটি ফেসবুকের ফ্যাক্ট-চেকিং প্রোগ্রামের
নীতি মেনে লেখা হয়েছে। এর উপর ভিত্তি করে ফেসবুক যে ধরণের বিধিনিষেধ আরোপ করতে পারে, সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন এখানে।
এছাড়া এই নিবন্ধ সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন, সম্পাদনা কিংবা আরোপিত বিধিনিষেধ তুলে নেয়ার জন্য আবেদন করতে এই লিঙ্কের সাহায্য নিন।
কোনো তথ্যের সত্যতা যাচাই করতে আমাদেরকে ইমেইল করুনঃ contact@fact-watch.org অথবা ফেইসবুকে মেসেজ দিনঃ facebook.com/fwatch.bangladesh