সম্প্রতি ফেসবুকে একটি মারধরের ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। যেখানে দাবি করা হচ্ছে যে এক হিন্দু নারী ও তার স্বামীকে প্রকাশ্যে লাঠিপেটা করেছেন এক ইউপি চেয়ারম্যান। ক্যাপশনে ভুক্তভোগীদের ধর্মীয় পরিচয় উল্লেখ করে এবং "হিন্দু নির্যাতন" হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করে একে সাম্প্রদায়িক নিপীড়নের ঘটনা হিসেবে প্রচার করা হচ্ছে। ফ্যাক্টওয়াচের অনুসন্ধানে দেখা যায় যে, ঘটনাটি কোনো সাম্প্রদায়িক কারণে ঘটেনি। টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার একটি জমি ও রাস্তা নির্মাণ নিয়ে স্থানীয় অভ্যন্তরীণ বিরোধের জেরে এই মারধরের ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া, অভিযুক্ত ইউপি চেয়ারম্যান বিভাষ সরকার নিজেও সনাতন (হিন্দু) ধর্মাবলম্বী।
এই ভিডিওটির উৎস জানার জন্য এর বিভিন্ন কি-ফ্রেম নিয়ে রিভার্স ইমেজ সার্চ করা হয়। এর ফলে Maasranga News-এর ফেসবুক পেজে ভাইরাল ভিডিওটির অনুরূপ একটি ভিডিও পাওয়া যায়। ভিডিওটির ক্যাপশনে উল্লেখ করা হয়, “টাঙ্গাইলে নারীসহ কয়েকজনকে লাঠিপে*টা করলেন ইউপি চেয়ারম্যান।” এর মাধ্যমে এতটুকু নিশ্চিত হওয়া যায় যে, ঘটনাটি টাঙ্গাইলের।
এই সূত্র অনুযায়ী প্রাসঙ্গিক কিছু কি-ওয়ার্ড ধরে সার্চ করে প্রথম আলো-র একটি রিপোর্টে এই ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ পাওয়া যায়। রিপোর্টে থাকা ছবির সাথে রিভার্স ইমেজ সার্চ করার সময় ব্যবহৃত একটি কি-ফ্রেমও মিলে যায়। রিপোর্টটি থেকে জানা যায়, ঘটনাটি চলতি বছরের ২৭ জুন টাঙ্গাইলের মির্জাপুরের তেঘরী কেশব গ্রামে ঘটে। ভুক্তভোগী বাসন্তী রানী এবং অভিযুক্ত চেয়ারম্যান বিভাষ সরকার একই গ্রামের বাসিন্দা। মূলত বাসন্তী রানীর পৈতৃক জমির ওপর দিয়ে জোর করে রাস্তা নির্মাণের উদ্যোগ নেন ইউপি চেয়ারম্যান। এতে বাধা দিলে বাসন্তী রানী, তার স্বামী রামগোপাল সাহা এবং তাদের মেয়েকে মারধর করা হয়। এটি সম্পূর্ণরূপে জমিজমা ও গ্রামীণ ক্ষমতার দাপট সংক্রান্ত একটি বিরোধ।
ঘটনার বিষয়ে চেয়ারম্যান বিভাষ সরকার মারধরের কথা স্বীকার করে দাবি করেন জায়গাটি স্কুলের এবং সেখানে রাস্তা করতে বাধা দেওয়ায় এমন ঘটনা ঘটেছে ।
ভাইরাল পোস্টগুলোতে ভুক্তভোগীরা সনাতন ধর্মাবলম্বী বলা হলেও, অভিযুক্ত ইউপি চেয়ারম্যানের ধর্মীয় পরিচয় আড়াল করা হয়েছে। অভিযুক্ত চেয়ারম্যানের নাম বিভাস সরকার নুপুর। তার নামে দুইটি ফেসবুক প্রোফাইলে থাকা বিভিন্ন পোস্টের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যায় যে, তিনি নিজেও সনাতন (হিন্দু) ধর্মাবলম্বী। সেখান থেকে জানা যায় তার বাবার নাম বিধু ভূষণ সরকার।
অর্থাৎ, একই সম্প্রদায়ের দুই পক্ষের এই অভ্যন্তরীণ সহিংসতার সম্পূর্ণ তথ্য প্রকাশ না করে সাম্প্রদায়িক রূপ দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। তাই এমন দাবিতে শেয়ার করা পোস্টগুলো ফ্যাক্টওয়াচ বিভ্রান্তিকর হিসেবে চিহ্নিত করছে।
Claim: হিন্দু নারী ও তার স্বামীকে প্রকাশ্যে লাঠিপেটা করলেন ইউপি চেয়ারম্যান
Claimed By: Facebook Users
Rating: Mostly false
এই নিবন্ধটি ফেসবুকের ফ্যাক্ট-চেকিং প্রোগ্রামের
নীতি মেনে লেখা হয়েছে। এর উপর ভিত্তি করে ফেসবুক যে ধরণের বিধিনিষেধ আরোপ করতে পারে, সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন এখানে।
এছাড়া এই নিবন্ধ সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন, সম্পাদনা কিংবা আরোপিত বিধিনিষেধ তুলে নেয়ার জন্য আবেদন করতে এই লিঙ্কের সাহায্য নিন।
কোনো তথ্যের সত্যতা যাচাই করতে আমাদেরকে ইমেইল করুনঃ contact@fact-watch.org অথবা ফেইসবুকে মেসেজ দিনঃ facebook.com/fwatch.bangladesh