ফেসবুকে সম্প্রতি কিছু ছবি ও ভিডিও শেয়ার করে দাবি করা হচ্ছে, এগুলো ভারতে মসজিদে হামলা-ভাঙচুরের ভিডিও। এই ছবি-ভিডিওগুলো কখনকার তা পোস্টগুলোতে উল্লেখ নেই। দৈনিক ইনকিলাবের প্রচারিত একটি ভিডিওতে হ্যাশট্যাগ দিয়ে বলা হয়েছে #আজকের খবর। ফ্যাক্টওয়াচের যাচাইয়ে দেখা যায়, এসব ছবি ও ভিডিওগুলো সাম্প্রতিক সময়ের নয়। কিন্তু ফেসবুকে প্রচারিত পোস্টগুলোতে সময় উল্লেখ না থাকায় ফেসবুক ব্যবহারকারীরা এসব ছবি-ভিডিওগুলোকে পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতার সাথে মিলিয়ে ফেলছেন। তাই ফ্যাক্টওয়াচ এই পোস্টগুলোকে বিভ্রান্তিকর হিসেবে সাব্যস্ত করছে।
দৈনিক ইনকিলাবের ফেসবুক পেজে প্রচারিত ভিডিওটি দেখুন এখানে।
ভিডিও যাচাই:
ভিডিওটির কিছু কি-ফ্রেম নিয়ে রিভার্স ইমেজ সার্চে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দুস্তান গেজেটে একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। গত ১২ মার্চ প্রকাশিত প্রতিবেদনটি থেকে জানা যায়, ভারতের মেঘালয়ে স্থানীয় পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সহিংসতার ঘটনা ঘটে। ওই সময় কিছু বিশৃঙ্খল জনতা প্রদেশটির তুরা শহরের জামা মসজিদে ভাঙচুর চালায় এবং মসজিদের ইমামকে মারধর করে। এই অস্থিরতার সূত্রপাত হয় গারো হিলস স্বায়ত্তশাসিত জেলা পরিষদ (GHADC) নির্বাচনের মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় অ-গারো সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণ নিয়ে জেলায় ওঠা আপত্তিকে কেন্দ্র করে।
ভারতীয় স্থানীয় আরেকটি সংবাদমাধ্যম দ্য অবজারভার পোস্টের ফেসবুক পেজেও একইদিনে এই ভিডিওটি পাওয়া যায়।
অর্থাৎ ভিডিওটি অন্তত দুই মাসের পুরোনো।
ছবি যাচাই ১:
ভারতে মসজিদে হামলা চলছে দাবিতে প্রচারিত এই ছবিতে দেখা যায়, হলুদ রঙ্গের পাঞ্জাবি পরা এক তরুণ একটি স্থাপনার মাথায় গেরুয়া পতাকা বাঁধছে। ছবিটি রিভার্স ইমেজ সার্চে ভারতীয় স্থানীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হান্টে একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়।
এটি থেকে জানা যায়, গত ৩০ মার্চ পশ্চিমবঙ্গের শিলিগুড়ি জেলায় একটি মাদ্রাসায় গেরুয়া পতাকা তোলার অভিযোগে পুলিশ দুইজনকে গ্রেফতার করেছে।
এই প্রতিবেদনে যুক্ত দ্য অবজারভার পোস্টের একটি টুইটের লিংক পাওয়া যায়। গত ১ এপ্রিল দেওয়া এই টুইটে যুক্ত ভিডিওর সঙ্গে ভারতে মসজিদে হামলার দাবিতে প্রচারিত ছবিটির হুবহু মিল রয়েছে। অর্থাৎ ছবিটি মসজিদে হামলার নয়, বরং একটি মাদ্রাসায় গেরুয়া পতাকা তোলার।
ছবি যাচাই ২:
এই ছবিটি রিভার্স ইমেজ সার্চে 5 Pillars নামের ফেসবুক পেজে একটি ভিডিও পাওয়া যায়। ২০২৩ সালের ১১ এপ্রিল আপলোড করা এই ভিডিওর সঙ্গে ছবিটির মিল রয়েছে। পোস্টটির ক্যাপশনে ঘটনাটি সম্পর্কে উল্লেখ করা হয়েছে, ওই বছর ৭ এপ্রিল (শুক্রবার) ভারতের বিহার রাজ্যে একটি মসজিদে হামলা ও ভাঙচুর করা হয়েছিল।
অর্থাৎ এই ছবিটি ২০২৩ সালের ঘটনার।
উপরিউক্ত যাচাইগুলো থেকে দেখা যায়, ভারতে মসজিদে হামলা ও ভাঙচুরের দাবিতে প্রচারিত ছবি ও ভিডিওগুলো পুরোনো। কিন্তু সময় উল্লেখ করে পোস্ট না করায় ফেসবুকে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। এমন প্রেক্ষাপটে ফ্যাক্টওয়াচ পোস্টগুলোকে বিভ্রান্তিকর হিসেবে সাব্যস্ত করছে।
Claim: ফেসবুকে সম্প্রতি কিছু ছবি ও ভিডিও শেয়ার করে দাবি করা হচ্ছে, এগুলো ভারতে মসজিদে হামলা-ভাঙচুরের ভিডিও।
Claimed By: Facebook Users
Rating: False
এই নিবন্ধটি ফেসবুকের ফ্যাক্ট-চেকিং প্রোগ্রামের
নীতি মেনে লেখা হয়েছে। এর উপর ভিত্তি করে ফেসবুক যে ধরণের বিধিনিষেধ আরোপ করতে পারে, সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন এখানে।
এছাড়া এই নিবন্ধ সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন, সম্পাদনা কিংবা আরোপিত বিধিনিষেধ তুলে নেয়ার জন্য আবেদন করতে এই লিঙ্কের সাহায্য নিন।
কোনো তথ্যের সত্যতা যাচাই করতে আমাদেরকে ইমেইল করুনঃ contact@fact-watch.org অথবা ফেইসবুকে মেসেজ দিনঃ facebook.com/fwatch.bangladesh