সম্প্রতি ফেসবুকে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চলাকালীন সময়ের দুটি পুরোনো ভিডিও ভিন্ন দাবিতে ছড়িয়ে পড়তে দেখা যাচ্ছে। ভিডিওর ক্যাপশনে বলা হচ্ছে, ‘গাজীপুরে অস্ত্রহাতে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালাচ্ছেন সমন্বয়কেরা'। অনুসন্ধানে জানা যায়, ৫ আগস্ট দুপুরে রাজশাহীর আলুপট্টি এলাকায় ছাত্র-জনতার ওপর গুলি চালানো যুবলীগ নেতা জহিরুল ইসলাম রুবেলের ভিডিও এটি। আরেকটি ভিডিওতে ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার বাসায় হামলার সময় তার নিজের কণ্ঠে অভিযোগ জানিয়ে করা একটি ফেসবুক লাইভের ভিডিওর ক্যাপশনে বলা হচ্ছে- ‘একদল শিবির সমন্বয়ক ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার বাসায় হামলা ও ভাংচুর করছে।' অনুসন্ধানে জানা যায়, ভিডিওটি ৪ আগস্ট আন্দোলন চলাকালীন সময়ের। অর্থ্যাৎ, ভিডিও দুটি সাম্প্রতিক সময়ের নয় এবং ক্যাপশনে দেওয়া তথ্যটিও সঠিক নয়।
রিভার্স ইমেজ সার্চে যে সব প্রতিবেদন পাওয়া যায় সেগুলিতে এই ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ পাওয়া যায়। গত ৫ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে যুবলীগ নেতা জহিরুল ইসলাম রুবেলকে রাজশাহী নগরীর আলুপট্টি মোড়ে হেলমেট পরে দুই হাতে দুটি আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে ছাত্র-জনতার ওপর গুলি করতে দেখা যায়। ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৪ এ ‘দুই হাতে পিস্তল নিয়ে গুলি চালানো’ যুবলীগ নেতা জহিরুল ইসলাম রুবেলের কুমিল্লা থেকে গ্রেফতার হওয়া নিয়ে দেশের মূলধারার সংবাদ মাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।
এসব প্রতিবেদনে গুলি চালানোর সময়ের রুবেলের ছবি আছে। ওইদিন গুলিবিদ্ধ হয়ে প্রাণ হারায় ২ শিক্ষার্থী। প্রতিবেদনে ব্যবহৃত স্থির ছবি এবং ফেসবুকে শেয়ার করা সাম্প্রতিক সময়ের ভিডিও মিলিয়ে দেখলে এটা নিশ্চিত হওয়া যায় যে, দুটি একই ঘটনার। ফলে ঘটনাটি রাজশাহীর, গাজীপুরের নয়। অস্ত্রহাতে ব্যক্তি সমন্বয়কও নন।
স্থানীয় যুবলীগ নেতা রুবেলকে বোয়ালিয়ার আলুপট্টি মোড়ে দুই হাতে দুটি অস্ত্র নিয়ে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে ছাত্র-জনতার ওপর গুলি করতে দেখা গিয়েছিল। সেই ঘটনার ভিডিও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমেও প্রকাশিত হয়।
সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। ক্ষমতার পালাবদলের পর থেকে অস্ত্রধারী রুবেল পলাতক ছিলেন।
ঘটনা-২
ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার ফেসবুক লাইভটি নিয়ে প্রাসঙ্গিক কি-ওয়ার্ড সার্চে গত বছরের ৪ আগস্ট রাতে তার বাসায় হামলা নিয়ে করা কিছু প্রতিবেদন পাওয়া যায়। প্রতিবেদনগুলোতে লাইভের ভিডিওটির কিছু স্ক্রিনশট যুক্ত আছে। মিলিয়ে দেখলে রুমিন ফারহানার নিজের ভিডিওর সঙ্গে সাদৃশ্য পাওয়া যায়। ফলে এটি সাম্প্রতিক সময়ের ভিডিও নয়। গত ৪ আগস্ট রাত পৌনে ১২টার দিকে রুমিন ফারহানা তার ফেসবুক পেজে লাইভে এসে এ অভিযোগ করেন।
তিনি বলেন, একদল ছেলে লাঠি হাতে তার বাসার সামনে এসে বিশ্রী গালি দিয়ে ভাঙচুর করে গেলো। রুমিন, রুমিন বলে নিচে নামতে বলেন এবং বিভিন্ন রকমের অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করেন। এসময় ওই ছেলেরা বাসার গেট ভাঙচুর করে।
ঐ ঘটনায় কোনো মামলা দায়ের অথবা কারো গ্রেফতার হওয়ার খবর খুঁজে পাওয়া যায়নি। কারা এই হামলা করেছিলো তার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায় না। ফলে তারা শিবিরের সমন্বয়ক কিনা তা জানা যায় না।
ফলে ভিডিওর সঙ্গে শিবির সমন্বয়কদের অভিযুক্ত করে দেওয়া পোষ্টগুলিকে মিথ্যা হিসেবে চিহ্নিত করা হল।
Claim: সম্প্রতি ফেসবুকে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চলাকালীন সময়ের দুটি পুরোনো ভিডিও ভিন্ন দাবিতে ছড়িয়ে পড়তে দেখা যাচ্ছে। ভিডিওর ক্যাপশনে বলা হচ্ছে, ‘গাজীপুরে অস্ত্রহাতে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালাচ্ছেন সমন্বয়কেরা'। আরেকটি ভিডিওতে ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার বাসায় হামলার সময় তার নিজের কণ্ঠে অভিযোগ জানিয়ে করা একটি ফেসবুক লাইভের ভিডিওর ক্যাপশনে বলা হচ্ছে- ‘একদল শিবির সমন্বয়ক ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার বাসায় হামলা ও ভাংচুর করছে।'
Claimed By: Facebook Users
Rating: Invalid rating
এই নিবন্ধটি ফেসবুকের ফ্যাক্ট-চেকিং প্রোগ্রামের
নীতি মেনে লেখা হয়েছে। এর উপর ভিত্তি করে ফেসবুক যে ধরণের বিধিনিষেধ আরোপ করতে পারে, সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন এখানে।
এছাড়া এই নিবন্ধ সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন, সম্পাদনা কিংবা আরোপিত বিধিনিষেধ তুলে নেয়ার জন্য আবেদন করতে এই লিঙ্কের সাহায্য নিন।
কোনো তথ্যের সত্যতা যাচাই করতে আমাদেরকে ইমেইল করুনঃ contact@fact-watch.org অথবা ফেইসবুকে মেসেজ দিনঃ facebook.com/fwatch.bangladesh